শনিবার | ডিসেম্বর ০৭, ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

দেশের খবর

বন বিভাগ রংপুর অঞ্চল

দেড় হাজার করাতকলের অধিকাংশই অবৈধ

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, রংপুর

 করাতকল স্থাপনে বন বিভাগের লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক অথচ রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় স্থাপিত প্রায় দেড় হাজার করাতকলের সিংহভাগেরই লাইসেন্স নেই মাঝেমধ্যে বন বিভাগ থেকে অবৈধ করাতকল উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হলেও তাতে খুব একটা কাজ হচ্ছে না

বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় হাজার ৪৯৭টি করাতকল থাকলেও লাইসেন্স রয়েছে মাত্র ১৫৩টির এর মধ্যে রংপুরের ৪৭৫টি কলের মাত্র নয়টির লাইসেন্স আছে এছাড়া লালমনিরহাটের ২০০টির মধ্যে ৫১টি কুড়িগ্রামে ৩২৩টির মধ্যে লাইসেন্স আছে ৯৩টি করাতকলের অন্যদিকে গাইবান্ধার ২৫২টি নীলফামারীর ২৪৭টি করাতকলের মধ্যে একটিরও লাইসেন্স নেই

রংপুর বন বিভাগের অফিস সহকারী গোপাল চন্দ্র মহন্ত তথ্য নিশ্চিত করে জানান, প্রতিটি করাতকলের লাইসেন্সের জন্য ফি লাগে হাজার টাকা এছাড়া নবায়ন ফি দিতে হয় ৫০০ টাকা কিন্তু করাতকলের মালিকরা সামান্য টাকা দিয়েও লাইসেন্স করতে চান না

তবে বেশ কয়েকজন করাতকলের মালিক জানান, আগ্রহী হলেও লাইসেন্স নেয়ার ক্ষেত্রে সমস্যায় ফেলে বন বিভাগের বিভিন্ন শর্ত এসব শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে তাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয় তাছাড়া রয়েছে দীর্ঘসূত্রতা এছাড়া অনেকেই আছেন, যারা সুযোগ থাকলেও নানা অজুহাতে বন বিভাগের লাইসেন্স করছেন না

রংপুর নগরীর লালবাগ রেলগেট এলাকার জনতা -মিলের মালিক মো. নুরুজ্জামান তিনি বলেন, ১৯৮০ সাল থেকে করাতকল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হলেও এখন পর্যন্ত বন বিভাগের লাইসেন্স নেননি তবে এর মধ্যে ২০১৪ সালের দিকে একবার লাইসেন্স নেয়ার জন্য বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তখন বন বিভাগ থেকে বলা হয়েছিল, তারা যেন অন্তত ২০-৩০ জন করাতকল মালিক একযোগে লাইসেন্সের আবেদন করেন তা না হলে তাকে একাই ৩০-৪০ হাজার টাকা দিতে হবে কিন্তু ওই সময় তিনি একসঙ্গে এতজন করাতকল মালিককে একত্র করতে পারেননি তাই লাইসেন্সও নেয়া হয়নি

মো. নুরুজ্জামান আরো বলেন, বন বিভাগের লাইসেন্স না থাকলেও তার সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স আছে তিনি এটি নিয়মিত নবায়নও করেন এছাড়া প্রতি বছর তিনি আয়করও দিয়ে যাচ্ছেন কিন্তু বন বিভাগের লাইসেন্স করতে না পারায় সবসময়ই ভয়ে থাকেন

এদিকে রংপুর করাতকল মালিক সমিতির (বর্তমানে নিষ্ক্রিয়) সভাপতি মো. হারুন অর রশীদ বলেন, তিনি তার করাতকলের জন্য বন বিভাগের লাইসেন্স পেতে ফরম এনেছেন তাছাড়া জমির মালিকানার বিষয়ে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) প্রত্যয়নপত্র ম্যাপের জন্য আবেদনও করা হয়েছে কিন্তু দীর্ঘদিনেও তিনি প্রত্যয়নপত্র ম্যাপ পাননি তাই বন বিভাগের লাইসেন্স করা সম্ভব হচ্ছে না

রংপুর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. মতলুবুর রহমান বলেন, লাইসেন্স দেয়ার সময় বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করতে হয় লাইসেন্স পেতে করাতকলকে অবশ্যই যেকোনো শ্রেণীর বন সম্পত্তির ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হতে হবে আন্তর্জাতিক স্থলসীমানা দূরত্ব থাকতে হবে তিন কিলোমিটার তবে পৌরসভা সিটি করপোরেশন এলাকায় অবস্থিত করাতকলের ক্ষেত্রে শর্ত প্রযোজ্য নয় দেখা যায়, পৌরসভা সিটির বাইরের করাতকলগুলো শর্ত পূরণ করছে না তাই লাইসেন্স দেয়াও সম্ভব হচ্ছে না

তিনি আরো বলেন, এখানে অল্প কিছুদিন হয়েছে যোগ দিয়েছেন তাই করাতকল মালিকদের আগের অভিযোগ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না লাইসেন্সের জন্য একসঙ্গে ২০-৩০ জনকে আসতে বলার বিষয়ে তিনি বলেন, সাধারণত বন বিভাগের বিভিন্ন এজেন্ডা নিয়ে নির্দিষ্ট দিনে সভা হয় উপজেলা জেলা কমিটির সঙ্গে ওই সভায় সাধারণত তিন মাস পর পর অনুষ্ঠিত হয় তাই হয়তো কাজের সুবিধার জন্য একসঙ্গে অনেককে আসতে বলা হয়েছে নির্দিষ্ট ফি ছাড়া লাইসেন্সের জন্য কোনো বাড়তি টাকার প্রয়োজন নেই

অবৈধ করাতকলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে গত দুই মাসে পাঁচটি অবৈধ করাতকল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে তাছাড়া করাতকলগুলোয় বিদ্যুতের সংযোগ দেয়ার আগে বন বিভাগের লাইসেন্স প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করারও চেষ্টা চলছে

বিষয়ে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (নেসকো) রংপুর অঞ্চলের (বিদ্যুৎ অফিস) প্রধান প্রকৌশলী মো. শাহাদৎ হোসেন সরকার বলেন, আমরা করাতকলে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার সময় শুধু জমির কাগজ ট্রেড লাইসেন্স আছে কিনা দেখে থাকি

রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কেএম তারিকুল ইসলাম বলেন, রংপুর বন বিভাগের অধীন পাঁচ জেলায় এতগুলো করাতকল অবৈধভাবে চলছে, তা আগে জানা ছিল না সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের বিষয়টি অবগত করে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হবে

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন