শুক্রবার | ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

সিল্করূট

স্করসেস টারান্টিনো সংলাপ

অনুবাদ : সৈকত দে

[প্রথম কিস্তি]

মার্টিন স্করসেস কোয়েনটিন টারান্তিনো জাত গল্পবলিয়ে, তাদের সিনেমা, যা কিনা প্রত্যেক পরিচালকের নিখুঁত কাজের স্মারক, তারা মাধ্যমটির প্রতি গভীরে প্রোথিত প্রেমের জন্যও পরিচিত। স্করসেস আর টারান্তিনোর ভক্ত আলাদা প্রজন্মের স্করসেস হলেন মধ্য ষাটের ফিল্ম স্কুল স্নাতকদের প্রথম তরঙ্গ আর টারান্তিনো নব্বইয়ের শুরুর দিকে ইন্ডি চলচ্চিত্র বিপ্লবের সমান্তরালে ছড়িয়ে পড়াদের একজন। সিনেমার প্রতি ভালোবাসা জ্ঞানে তারা একাসনে বসেছেন। সব ধরনের ফিল্মই তারা নির্মাণ করেছেন, সম্মানজনক স্টুডিও রিলিজ হোক কিংবা বি গ্রেডের রক্ত গরম ফিল্ম, ঢেউ তোলা মিউজিক্যাল অথবা ধ্বংসাত্মক রোমাঞ্চ কাহিনী, আর্ট হাউজ ফিল্ম হোক কিংবা অল্প বাজেটের ওয়েস্টার্ন সিনেমা। সারা জীবন মহাভোজের পথেই তারা চলেছেন, তাদের কাজে, সৃষ্টি করা চরিত্রে এবং যে লেন্সের ভেতর দিয়ে পৃথিবীটাকে দেখেছেন, তার মধ্য দিয়ে এটা দেখা যায়। দুজন পরিচালকের জন্যই বছরটি বিশেষ পর্যবেক্ষণযোগ্য বছর। টারান্তিনোর ওয়ান্স আপন টাইম ইন হলিউড কানে দেখানো হতেই ক্রিটিক আর দর্শকের মধ্যে সাড়া ফেলে দিয়েছে যখন স্করসেসের দি আইরিশম্যানের প্রশংসা আকাশে-বাতাসে। সিনেমার জন্য পরিচালক অনেকটা সময় নিয়েছিলেন, মূল কুশীলবদের বয়স প্রযুক্তির সাহায্যে উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দিতে (প্রধান তিন চরিত্রের আশি ছুঁই ছুঁই বয়স, তাদের তরুণ বয়স দেখিয়েছেন ডি এজিং ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্যেঅনুবাদক) তারা দুজন ডিজিএ কোয়ার্টালির সঙ্গে বসেছিলেননানা বিষয়ের পাশাপাশি পরিচালক, নিজেদের ওপর অন্যের প্রভাব আর ভায়োলেন্সকে বিশোধক হিসেবে ব্যবহারের কথা বলতে। এটি তাদের আলাপের সম্পাদিত সংস্করণ।

স্টিভ চাগোলান

মার্টিন স্করসেস। আমি মাত্র লাস্ট কাট ফাইনালাইজ করলাম (দি আইরিশম্যান)

কোয়েনটিন টারান্টিনো। আমিও একেবারে শেষে এমন অবস্থায় পড়ি, যেখানে মনে হয়, এভাবে দেখি তো, ওভাবে চেষ্টা করি তো। কিন্তু আমাদের সুস্থির হতে হয়, আর তার বাদে আমি ওই রাতে বাড়ি ফিরি আর ভাবি, বুঝতেই পারছ চাঁদ, এটা ছিল বীভৎস, পুরো ব্যাপারটা আবার কাল শুরু থেকে করতে হবে।

স্করসেস। এটা তিন মাসের বেশি সময় নিয়েছে। কারণটা মজার জিনিসই বটে, নির্দিষ্ট ফিল্মে আমি সত্যিই স্ক্রিনে বেশি কিছু সত্যিই দেখাইনি, কারণ গত ছয় মাসজুড়ে চরিত্রদের বয়স পেছনে নিয়ে যাওয়ার কাজে ব্যস্ত ছিলাম।

টারান্টিনো। হ্যাঁ হ্যাঁ।

স্করসেস। সুতরাং আমরা যা করলাম তা ছিল খুবই ইন্টেন্স। আর তাই শেষটা যেন দুই শটের, মধ্যে আরেকটা শট ঢোকালাম, তারপর (আমি ভাবছিলাম), দাঁড়াও, মাঝের শট কী একান্ত জরুরি? হয়তো আমরা ওয়াইড শটটা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে পারি। আমরা এজন্য ওটা কয়েকবার করার চেষ্টা করলাম আর তার বাদে আমাদের কয়েকজন বন্ধু বললেন, তোমার অন্য একটা শট ছিল না এখানে? আমি বললাম, হ্যাঁ, হয়তো এটাই সেরা। কিন্তু ব্যাপার হচ্ছে, ওটা করার ফলে, শেষের ওয়াইড শটের দৈর্ঘ্য বেড়ে গেল।

 

টারান্টিনো। বেশ, এখন যে সিনেমাটা করছেন, তা নিয়ে একটা প্রশ্ন করতে চাই, কারণ আমার ধারণা, আপনি জীবনের দীর্ঘতম ক্যানভাস নিয়ে কাজ করছেন। এটা বেশ অনেকটা সময়ের। ঠিক বলেছি না?

স্করসেস। হ্যাঁ

টারান্টিনো। তো কীভাবে আক্রান্ত করল ঘটনা যেহেতু কাজের অগ্রগতির হারটাও চিন্তার মধ্যে রাখতে হয়েছিল?

স্করসেস। কৌতূহলী করে তোলার জন্য যথেষ্ট। আমি সময়ে স্টিভেন জাইলিয়ানের লেখা চিত্রনাট্যের সাথে মিলিয়ে কাজের অগ্রগতি লিখে রাখতাম কাগজে। আর নেটফ্লিক্সের সাথে কাজটা করছিলাম, ফলে সিনেমার দৈর্ঘ্যের সম্প্রসারণটাও জটিল পরিস্থিতি তৈরি করল। অন্য কথায়, আমি নিশ্চিত ছিলাম না, এটাই করার ছিল কিনা, উদাহরণ দিয়ে বলছি, সিনেমাটা কি ঘণ্টা ১০ মিনিটে হবে, না আমাকে ঘণ্টার দিকে যেতে হবে?

টারান্টিনো। ঠিক, হ্যাঁ।

স্করসেস। আমি চূড়ান্ত গন্তব্য সম্পর্কে নিশ্চিত ছিলাম না। তাই মাথায় এক পরিষ্কার চিন্তা এল, যদি এটা নিছক একটা সিনেমাই হয়, কী এসে যায়? আমাদের অনুভবের মতো ছোট-বড়, যা হবে হোক এবং চরিত্রগুলোর বৈশিষ্ট্যের কারণে মূলত একটা চরিত্রই ৮১ বছর বয়সে ফ্ল্যাশব্যাকের সাহায্য নিয়ে গল্পটা বলছে।

টারান্টিনো। উহ-হু।

স্করসেস। আর তুমি যখন আমার বয়সে আসবে কোয়েনটিন, তুমি আরেকটু ধীর হয়ে আসবে, আরেকটু চিন্তাশীল আর ধ্যানী হয়ে উঠবেএসব হলো অতীত সম্পর্কে চিন্তাভাবনা আর (চরিত্রদের) অতীত সম্পর্কে চিন্তা। এজন্য ছবিতে তৃতীয় শটের সময়, সম্পাদনার সময় আমি অনুভব করেছি। আমি বললাম, দেখা যাক এটা আমাদের কোথায় নিয়ে যায় এবং অল্প কয়জনের সামনে চালিয়ে দেখা যাক তারা এটাকে সহ্য করতে পারে কিনা। সুতরাং আমরা বলতে থাকলাম, আমরা এটা চেষ্টা করতে পারি কিংবা ওটা। আমরা যে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত জিনিসপত্র নিয়ে কাজ করছিলাম, তার বৈশিষ্ট্যও আমাদের নির্দিষ্ট গতি দিয়েছে।

টারান্টিনো। আচ্ছা।

স্করসেস। এটা এক শান্ত গতি। তবু তার মধ্যে ভায়োলেন্স আছে। তবু তার মধ্যে হিউমার আছে। কিন্তু এসব বিভিন্নভাবে আসে। এটা সেই পুরনো গল্প: যত বেশি সিনেমা তুমি বানাবে, তত বেশি শেখার থাকে।

টারান্টিনো। তুমি জানো, মার্টি, আমি তোমায় একটা ইন্টারেস্টিং গল্প বলব, যা কিনা মাথায় নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি আর মনে হলো, গল্পটা আমাদের তুমি আর তোমার সিনেমা সম্পর্কে খুব ভালো এক প্রশ্নের দিকে নিয়ে যাবে। তো আমায় বলতে দাও। ঠিক এখন, আমি একটা বই নিয়ে কাজ করছি। এখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এক চরিত্রকে পেয়েছি, যে প্রচুর রক্তপাত দেখেছে, এখন সে ঘরে ফিরেছে। ধরো যে পঞ্চাশের দশক এবং তার আর সিনেমায় কিছু এসে যায় না। যা কিছু সে দেখেছে, যার ভেতর দিয়ে সে গিয়েছে তারপর সব তার কাছে ছেলেমানুষি মনে হয়। যতদূর তার মনে হয়, হলিউডি সিনেমা হলো সিনেমা। তো তারপর হঠাৎ সে কুরোশাওয়া আর ফেলিনির মতো বিদেশী সিনেমা সম্পর্কে শোনা শুরু করল।

স্করসেস। আচ্ছা।


টারান্টিনো। আর তার মনোভাব ছিল, বেশ, হয়তো ওসব ছবিতে এসব হলিউডি ফালতু মালের চেয়ে বেশি কিছু থাকতেই পারে।

স্করসেস। ঠিক।

টারান্টিনো। তাই সে নিজেকে এসবের মধ্যে ভাসিয়ে দেয়, তারপর তার কিছু ভালো লাগে, কিছু লাগে না, কিছু সে একেবারেই বুঝতে পারে না। কিন্তু ওটুকু বোঝে, হ্যাঁ, কিছু একটা দেখেছি বটে!

স্করসেস। হ্যাঁ।

টারান্টিনো। আমার এই গল্পের চরিত্রের কল্যাণে, সিনেমাগুলো আরেকবার দেখার চমত্কার সুযোগ পেলাম। কিছু ক্ষেত্রে আরেকবার দেখে নেয়া, কিছু ক্ষেত্রে চিরকাল ধরে শুনতে থাকা কোনো সিনেমা প্রথমবার দেখা। আমি সিনেমাগুলো দেখতে তাই আনন্দ পাচ্ছিলাম একই সাথে (ভাবছিলাম), সে কীভাবে নিত? সে কীভাবে তাকাত এর দিকে? সিনেমার রাজ্যে নিজেকে ছুঁড়ে দেয়ার অজুহাত খুঁজে পেতে আমার সবসময় ভালো লাগে। সেজন্যই জিজ্ঞেস করছি, আপনি কখন হলিউডি মুভির টান থেকে সরে আরো অ্যাডভেঞ্চারাস হয়ে নিজের এলাকার বাইরে গিয়ে, অন্য বিদেশী ভাষার সিনেমা সত্যিকারভাবে দেখা শুরু করলেন, যাদের সম্পর্কে হয়তো আপনি পড়েছিলেন?

স্করসেস। বেশ। এটা একটা সেরা প্রশ্ন, কারণ আমার জীবনের প্রথম সাত-আট বছর আমরা ছিলাম করোনা, কুইনসে। আর তারপর আমার বাবাকে এলিজাবেথ স্ট্রিটে চলে আসতে হয় জমিদারের সাথে কিছু ঝামেলা হওয়ায় (লোয়ার ম্যানহাটানের ছোট্ট ইতালিতে), এখানে মা বাবা জন্মেছিলেন। আর তাই কানাগলির বিচ্ছুদের মধ্যে ছুড়ে মারা হয়েছিলো আমায় (কিংবা) লিওনেল রোগোসনের অন দ্য বাওয়েরি, বুঝলে? (হাসি) কিন্তু আসল কথাটা হলো, হয়তো অ্যাজমার সমস্যার কারণে (আমার বাবা-মা) সবসময় সিনেমা দেখাতে নিয়ে যেতেন। তাই আমি দেখতে পারলাম ডুয়াল ইন দ্য সান (এটা) ছিল প্রথম আর তার বাদে উইজার্ড অব ওজ। দ্য সিক্রেট গার্ডেন, দ্য থ্রেটের মতো নয়্যার ঘরানার ফিল্ম (পরিচালক) ফেলিক্স ফেইস্ট। দেখেছ কখনো?

টারান্টিনো। হ্যাঁ হ্যাঁ দ্য থ্রেট খুব ভালো লেগেছিল।


স্করসেস। (রবার্ট ওয়াইজের) ব্লাড অন দ্য মুন, (উইলিয়াম সেইটারের) ওয়ান টাচ অব ভেনাস। (আমাদের) একটা ছোট টেলিভিশন সেট ছিল, একটা ১৬ ইঞ্চি আরসিএ ভিক্টর। আমার দাদা-দাদিরা শুক্রবার রাতে চলে আসতেন, কারণ সেদিন ইতালিয়ান কমিউনিটির জন্য ইতালিয়ান ফিল্ম দেখানো হতো। ভিত্তোরিও দে সিকার বাইসাইকেল থিভস, রোবের্তো রোসেলিনির রোম ওপেন সিটি আর পাইসানের মতো সিনেমা। এজন্য পাঁচ বছর বয়সে দেখলাম পাইসান দেখে দাদা-দাদিরা কাঁদছেন আর শুনেছিলাম তারা যেমন করে কথা বলেন, সিনেমাটার মানুষেরা তেমন করেই কথা বলছে। এভাবেই আমি জেনে গেলাম অন্য রকম সিনেমাও হয়, কিন্তু এসব সেসব সিনেমা (হলিউডি) না।

টারান্টিনো। হ্যাঁ।

স্করসেস। হলিউড সম্পর্কে আমার দেখা প্রথম সিনেমা হচ্ছে (বিলি ওয়াইল্ডারের) সানসেট বুলেভার্ড।

টারান্টিনো। হ্যাঁ, হলিউডকে অন্ধকার করে দেখানো হয় ফিল্মটাতে।

স্করসেস। একদিক থেকে দেখতে গেলে এসব সিনেমা ছিলো নানা রকম কোডে আবৃতসত্যটা এক ধরনের আলাদা কোড, আলাদা সংস্কৃতি থেকে আসছিল এবং আমার দেখা ইউরোপীয় ফিল্মগুলোর তুলনায় সেসব সিনেমা কম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায় না এসব কারণে। কিন্তু ছোট সে পর্দায় ইতালিয়ান সিনেমাগুলো দেখার পর কোনো এক বোধ এমনভাবে আক্রান্ত করল যে আমি মাথা থেকে এড়াতে পারিনি কোনোদিন, তাই এটা সব পাল্টে দিল। বিদেশী ভাষার চলচ্চিত্রেরা সত্যিই আমাকে পৃথিবী সম্পর্কে অনেক ধারণা দিল। আমার ইতালিয়ান-আমেরিকান-সিসিলিয়ান অধ্যুষিত আস্তানার বাইরের পৃথিবী সম্পর্কে আমায় আগ্রহী করে তুলল।

টারান্টিনো। তো কারণে এমনকি নিউইয়র্ক উন্মোচিত হলো এক রকমভাবেএসব সিনেমার সংস্পর্শে থাকা, পড়শি এলাকার বাইরে যাওয়া,

এরপর » পৃষ্ঠা ১৮

ওইসব জায়গা খুঁজে খুঁজে বের করা?

স্করসেস। এর চেয়েও বেশি কিছু ছিল, কারণ এটা ছিল যে ছোট গ্রামে আমি বেড়ে উঠেছিলাম তার বাইরে প্রকৃত আমেরিকার মধ্য দিয়ে যাত্রা।

টারান্টিনো। ওহ, আচ্ছা। তোমার কথা বুঝতে পারছি।

স্করসেস। ছিল খুবই ভয়ের, প্রচুর খারাপ এলাকা ছিল, এজন্য বন্ধুদের সাথে রাখতে হবে তোমাকে, তুমি কি কখনো ৪২তম রাস্তায় গিয়েছ, যেখানে ওই সময় সব রকমের সিনেমা চলত?

টারান্টিনো। তোমায় বলি, আমি কখনো যেতে পারিনি। তথ্যের খাতিরে বলি, রিজারভয়ের ডগসের কাস্টিং ঠিক করতে এক সাপ্তাহিক ছুটিতে প্রথমবারের মতো নিউইয়র্কে গিয়েছিলাম। এখন বোঝো, যখন থেকে জেনেছি, নিউইয়র্ক বলে একটা জায়গা আছে আর নিউইয়র্কের এক সিনেমা (বিল) দেখলাম তখন থেকেই আমার ওখানে যাওয়ার খুব ইচ্ছে। যখন কচি ছিলাম কেউ আমায় নিয়ে যায়নি আর বড় হওয়ার পর যাওয়ার রসদ কুলিয়ে উঠতে পারলাম না। তো আমরা সিনেমার জন্য কাস্টিং করছিলাম আর হার্ভে কেটেলের ধরন ছিলো যে, আমি বিশ্বাস করতে পারছি না যে আমরা নিউইয়র্কের অভিনেতাদের এখানে কোনো দৃশ্যে নিচ্ছি না। আর আমি বললাম জ্বি, আমরা এটা এফোর্ড করতে পারব না। তিনি বললেন, বেশ শোনো, আমি এক সাপ্তাহিক ছুটিতে কাস্টিং ডিরেক্টরের মাধ্যমে কাস্টিং করার ব্যবস্থা করব এবং তোমাকে আর (প্রযোজক) লরেন্স বেন্ডারকে উড়িয়ে নিয়ে আসব। এভাবে এক সাপ্তাহিক ছুটিতে আমরা নিউইয়র্কে কাস্টিং করতে পারলাম। যখন এয়ারপোর্ট থেকে এলাম, সকালের দিকে, নিউইয়র্ক শহরের মধ্য দিয়ে হোটেল পর্যন্ত, আমার মনে হয় হোটেলটার নাম ছিল মে ফ্লাওয়ার।

স্করসেস। হ্যাঁ।

টারান্টিনো। আর আমি আক্ষরিক অর্থেই রকম আচরণ করছিলাম, আমি সারা জীবন টাইম স্কয়ারে সিনেমা দেখতে যেতে চেয়েছি। কাজেই কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই টাইম স্কয়ার যাব সিনেমা দেখতে, যা- চলুক দেখতে যাব। আর হার্ভে বললেন, কোয়েনটিন, না, তুমি, যাবে না। এক-দুই সপ্তাহের মধ্যেই যেতে পারবে কিন্তু আগামীকালকেই পারবে না। তুমি এখানে খুবই নতুন।

(পুরো গল্প শুনতে শুনতে স্করসেস হাসছিলেন)

স্করসেস। তিনিই ঠিক ছিলেন। সবচেয়ে অদ্ভূতুড়ে বিষয় হলো, এটা পঞ্চাশের দিকে পাল্টে গিয়েছিল। আমরা যেতে পারতাম কিন্তু সাথে তোমার অন্তত চারটে ছেলে থাকা লাগত। তুমি গেলে, দেখলে, যত রকম সিনেমা তোমার কল্পনায় আসে সব দেখানো হচ্ছে। কোনো যৌন সিনেমা ছিল না অবশ্যি। একেবারে ঠিকঠাক হলিউডি ফিল্ম। তুমি সেখানে ঢুকলে, এটা ছিলো ভয়ংকর জায়গা, বুঝতেই পারছ, এটা ছিল ক্রেজি। তখন তারা হয়তো দেখাল, দি ইলিউসিভ পিম্পারনেল, মাইকেল পাওয়েল আর (এমেরিক) প্রেসবার্গারের পরিচালনায়, ভাবতে পারো একই সাথে কার্ক ডগলাসের ইউলিসিস চলছে! আর সব সুন্দর টেকনিকালার প্রিন্ট, কিন্তু রাস্তা পেরোলেই, ছিল হলস অব মন্টেজুমা (আর) টু দ্য শোরস অব ত্রিপোলি।


টারান্টিনো। হ্যাঁ।

স্করসেস। দুটো ফিল্ম। একটা (হলস) আমার ধারণা, লুই মাইলস্টোনের আর অন্যটা (ব্রুস হাম্বারস্টোন), সেসব ছিল প্রত্যেকটা সুন্দর টেকনিকালার ফিল্ম বুঝলে? তারা এগুলো দেখাত সাদা-কালোতে! (টারান্টিনো হেসে উঠলেন) আর আমরা যেসব জায়গায় যেতাম, ঈশ্বর জানেন ব্যালকনিতে কী না হতো! মারামারি, সব ধরনের ব্যাপার। কিন্তু যা হোক, আমরা বেরিয়ে এসেছিলাম। সব প্রিন্টগুলোই ছিল সাদা-কালো প্রিন্ট, যেমন (জন ফোর্ডের) ড্রামস দ্য মোহক-সাদা কালো!

টারান্টিনো (হাসি) আমার এক অভিজ্ঞতা হয়েছিল ডাউনটাউন লস অ্যাঞ্জেলেসে, মেট্রোপলিটন থিয়েটারগুলো ছিল সেখানে, ছিল ক্যামিও আর আর্কেড (দুটোই ব্রডওয়ে রাস্তার ওপর) সারা রাত ধরে খোলা থাকত। আসল ঘটনা হচ্ছে, আমার মনে পড়ছে, এটা ছিল ৮২, কারণ তারা কখনো লস অ্যাঞ্জেলেসে মুক্তি পায়নি। আমার মনে পড়ে, ডেথ কালেক্টর সিনেমাটা, ?্যালফ দে ভিতোর ফিল্মজো পারসির (প্রথম ছবি)

স্করসেস। হ্যাঁ, এই হলো রেজিং বুলের জন্য জো-কে আমাদের খুঁজে পাওয়ার ঘটনা।

টারান্টিনো। আচ্ছা, আমি শুনেছিলাম ওটা আর্কেডে চলছিল। আর আমি গেলাম। ওয়াও রেজিং বুলের ঠিক পরেই যেন। আমি গেলাম। এই হলো সেই সিনেমা। এই সিনেমা দেখার একমাত্র উপায় ভোর ৪টায় সেখানে যেতে হবে। আমি রাত ৮টায় যেতে রাজি ছিলাম না।

স্করসেস। ডেথ কালেক্টর, বব (ডি নিরো) সিবিএসে দেখেছিল। সে বলল, এই জিনিস আমি টিভিতে দেখেছিলাম আর এই লোকটা সত্যিই ইন্টারেস্টিং। তাই আমরা ছবিটার একটা প্রিন্ট বার করলাম। বুঝলে তো, ব্যাপারটা এভাবেই দেখেছিলাম...

টারান্টিনো। এটা একটা ভালো ফিল্ম। যখন আমি সত্যিই দেখলাম মনে হলো, ওহ্, ওয়াও! যেন মিন স্ট্রিটের থেকে শুষে নেয়া সম্পাদিত কাজের এক সংস্করণ।

স্করসেস। ঠিকই বলেছ (হাসি) এখন রেপার্টরিগুলো ফুরিয়েছে, অবশ্যই, পুরোপুরি আলাদা জিনিস এটা।

টারান্টিনো। বেশ, তোমায় জানানোর জন্য বলছি, লস অ্যাঞ্জেলেসে, নিউ বেভারলিতে, আমার একটা রেপার্টরি থিয়েটার আছে, আমরা তোমার ছবি ভালো করে দেখাই।

স্করসেস। ওহ্! থ্যাংক ইউ।

টারান্টিনো। এখন আমরা কেবল ৩৫ (বা, ১৬ মিমি) দেখাইআমাদের পুরো ট্রেলারের সংগ্রহ আছে।

 

স্কুল অব সিনেমা: নিউইয়র্ক বনাম লস অ্যাঞ্জেলেস

 

টারান্টিনো। যখন আমি নিউইয়র্কের চিত্র পরিচালকদের কথা ভাবি, আমি তোমায় ভাবি মার্টি, ভাবি সিডনি লুমেটের কথা, উডি এলেনের কথাও। কিন্তু তুমি একই সাথে, ষাটের দশকের নিউইয়র্কের নতুন তরঙ্গের একটা অংশও। তুমি ছিলে ষাটের দশকে কায়ক্লেশে অল্প পয়সায় চলা এক যুবক জিম ম্যাকব্রাইড, শার্লি ক্লার্ক আর ব্রায়ান দে পালমার অবস্থাও ছিল একই। আমার পুরো নিউইয়র্ক নতুন তরঙ্গের কনসেপ্টটা নিয়ে কৌতূহল হচ্ছে, আর তোমরা কিন্তু কমবেশি ফরাসি নতুন তরঙ্গের ক্যান ডু স্পিরিট মানে আমরা করতে পারব ধরনের উত্সাহে বিশ্বাসী ছিলে। আমাকে আমার তালে ছুটতে পারে এমন এক ক্যামেরা দাও, গাড়িতে লাগিয়ে নিয়ে আমরা ছুটতে থাকব।

স্করসেস। অথবা একটা হুইলচেয়ারে রাখো আর জাস্ট যেতে থাকোএকজন ক্যামেরাম্যান আর একটা হুইলচেয়ার, এই হলো তোমার ডলি শট।

টারান্টিনো। ঠিক।

স্করসেস। নিউইয়র্কের ব্যাপারটা শুরু হলো তোমার যুদ্ধের পর। তখন খুব অল্প সিনেমাই নিউইয়র্কে বানানো হচ্ছিল। স্টুডিও ব্যবস্থার মধ্যে, অবশ্যই, তোমার একটা ফ্যাক্টরি থাকবে। কেন নিউইয়র্ক যাবে যখন তোমার দরকারি সব জিনিস স্টুডিওতে আছে? তাই আমার যা মনে হয়, আবারো বলি, নিওরিয়ালিজমই পুরো পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছে, যা হচ্ছে সত্যিকারের আসল লোকেশনে শুট করা।

টারান্টিনো। হ্যাঁ।

স্করসেস। ফিল্ম নয়্যারে ডুবে গেলাম। (জুল ডেসিন) দ্য নেকেড সিটি আর (অটো প্রিমিঙ্গারের) হয়্যার দ্য সাইডোওয়্যাক এন্ডস আর সবকিছু। এমনকি ফোর্স অব এভিল, (আব্রাহাম) পোলোনস্কির ফিল্ম।

টারান্টিনো। হ্যাঁ

স্করসেস। (সেসবে ছিল) নিউইয়র্কের খুবই অবাক করা দৃশ্যরাশিমালা। জর্জ কোকুর, ডাবল লাইফ, এসব ফিল্ম, তারা আসলে ক্যামেরাটা রাস্তায় নিয়ে গেল।

টারান্টিনো। হ্যাঁ।

স্করসেস। আর তখনকার দিনে নিউইয়র্ক শুটিংয়ের জন্য ভালো (গন্তব্য) ছিল না। তোমার যানজট ছিল, সেখানকার কর্মব্যস্ত লোকজন ছিল, তাদের ক্যামেরার সামনে দিয়ে হেঁটে কাজে যেতে হতো, তারা কোনো কিছু বলা পছন্দ করত না। তারা নানা জায়গায় ক্যামেরা লুকিয়ে রাখত আর আল্টিমেটলি, এটা ছিল আমেরিকান আভা গার্ড। জোনাস মেকাস মধ্য পঞ্চাশের দিকে ফিল্মগুলো কিউরেট করেছিলেন, সিনেমা সিক্সটিন। আমোস ভোগেল, জোনাস মেকাস, শার্লি ক্লার্ক সঙ্গে, দ্য কানেকশন।

টারান্টিনো। হ্যাঁ।

স্করসেস। (ক্লার্কের) দ্য কুল ওয়ার্ল্ড। সে পুরো জিনিসটাই রাস্তায় শুট করেছিল। কাসাভিতেস হলেন সেই লোক যিনি শ্যাডো সিনেমা দিয়েই সত্যি প্রথা ভাঙা কাজ করে ফেললেন।

টারান্টিনো। হ্যাঁ, ব্যাপারটার গডফাদার উনি। একেবারে ঠিক।

স্করসেস। একবার আমি শ্যাডোজ দেখলাম, তারপর বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে বললাম, দেখো আমাদের কোনো দেয়ার মতো অজুহাত নেই। শেষ পর্যন্ত যদি কিছু বলার থাকে তা হলো, আমরা কাজটা করতে পারি। তারা (১৬ মিমি) একটা একলেয়ার (ক্যামেরা) ব্যবহার করছিল, যা ছিল ক্ষুদ্রতর আর হালকা। আর এটা কাজে নেমে পড়ার অবস্থা ছিল। কারণ আমি দেখছি তুমি এটা করতে পারো আর তোমার ভালো-খারাপ কোনো ধরনের মেশিন লাগছে না ওয়েস্ট কোস্টের।

টারান্টিনো। কিন্তু নিউইয়র্ক নতুন তরঙ্গ সম্পর্কে ইন্টারেস্টিং কথাটা, বিশেষ করে যখন নিওরিয়ালিজম কিংবা ফরাসি নতুন তরঙ্গের সাথে তুলনা করা হবে, আমায় বলতেই হবে, ফরাসি নতুন তরঙ্গের সিনেমায় সবই একই শহরে ঘটে। যেকোনো সময়ে, (গদারের) ভিভ্রে স্যা ভির আনা কারিনার চরিত্রটি (ত্রুফোর) শুট দ্য পিয়ানো প্লেয়ারের পিয়ানো বাদক চরিত্রের সাথে মিশে যেতে পারে। বোঝাতে চাইছি, এটা ঘটা খুবই সম্ভব।

স্করসেস। একদম ঠিক। হ্যাঁ।

টারান্টিনো। যখন কিনা নিউইয়র্ক নতুন তরঙ্গ, অন্যদিক দিয়ে, তাদের নিজস্ব অঞ্চল নিয়েই আছে এবং আমাদের নিউইয়র্কের বহুমাত্রিক চরিত্রই দেখাচ্ছে। তুমি ভাবতেই পারবে না, দ্য কুল ওয়ার্ল্ডের চরিত্রেরা (স্করসেসের) হুজ দ্যাট নকিং অ্যাট মাই ডোরের চরিত্রদের সাথে মিলেমিশে যাচ্ছে কিংবা (দে পালমার) গ্রিটিংস ফিল্মের গ্রিনউইচ গ্রামের হিপ্পিরা। এরা কিন্তু একই ফ্রেমে থাকতে পারবে না।

স্করসেস। না না না, সেসব ছিল একেবারেই আলাদা দেশ। আমরা কখনই ১১০তম রাস্তায় যেতে পারতাম না। আমি জানি না তারা সেখানে কী করে। আমি পাত্তা দিই না। এটা একটা আলাদা দুনিয়া। সুতরাং আমি যখন ১৯৬০ সালে ওয়াশিংটন স্কয়ারে গিয়েছিলাম, এনওয়াইইউ বলে সবাই চেনে আজকাল, আমি কেবল হিউস্টন আর এলিজাবেথ কর্নারের দিকে গেলাম যেখানে আমি থাকতাম, বামে মোড় নিয়ে ছয় ব্লক গেলাম, হলো সেই আলাদা দুনিয়া, আমি সম্পূর্ণ আলাদা এক স্থানে চলে গেলাম। আর তারপর জায়গাটা নিজের ভারসাম্যে ফিরল। মিন স্ট্রিটের ওরা ছিল দুই দুনিয়ারই মানুষ, ভেতর আর বাইরের।

টারান্টিনো। আমি দেখেছি, খুবই সম্প্রতি। হুজ নকিং অ্যাট মাই ডোর এবং একটা জিনিস আমার মধ্যে তীব্র ভাংচুর ঘটায় কারণ আমি জানি, তুমি (জন ফোর্ডের) দ্য সার্চারার ছবির কত বড় ফ্যান আর তাই একটা বড় দৃশ্য (স্টালেন আইল্যান্ড ফেরিতে) নিয়েছ যেখানে (হার্ভে কেটেলের চরিত্রটা) কথা বলছে দ্য সার্চারার নিয়ে।

স্করসেস। আমি জানি, আমায় এটা করতে হতো।

টারান্টিনো। এটা পুরো সিনেমায় আমার প্রিয়তম দৃশ্য। ইন ফ্যাক্ট, আমার নিউইয়র্ক নতুন তরঙ্গে তোমার ছবিই সবচেয়ে বেশি নতুন তরঙ্গের ছবির মতোই দেখতে, এটা দেখতে খানিক ফরাসি নতুন তরঙ্গের সিনেমাগুলোর মতো।

স্করসেস। হ্যাঁ, সাদা-কালো...কিন্তু হ্যাঁ, তুমি আসলে ঠিক বলেছ। কোনো সন্দেহ নেই, ফরাসি নতুন তরঙ্গের একটা প্রভাব তো ছিলই আর আসলে বের্তোলুচি, বিফোর দ্য রেভল্যুশন ছিল এক ক্লান্তিকর দুর্ঘটনা। পাসোলিনির আক্কাত্তোনে সবচেয়ে ভালো, অনুবাদের ধরনটার দরুন। সিনেমার অন্তর্গত শরীর নিয়ে তারা যা করেছিল সেটা আমি ভালোবেসেছিলাম।

টারান্টিনো। হ্যাঁ।

স্করসেস। ফ্রেমগুলো, তুমি জানো যখন তুমি একটা ফ্রেমের দিকে তাকাবে এবং তুমি সেলুলয়েড নিয়ে সম্পাদনায় বসবে আহ! এই হলো পরম! তুমি ফ্রেমের ধারটা ঠিকমতো কাটতে পারো। তুমি দুটো ফ্রেম পর্যন্ত যেতে পারো আর একটা ধরো তুলে নিলে। আমি বোঝাতে চাইছি, তারা এটা করেছিল, আর আমরা নিজেদের হাতে নিরীক্ষামূলক কাজ শুরু করেছি। আমার পুরনো এক শিক্ষক, হেইগ মানুগিয়ান, কথাটা বলেছিলেন, আমরা যখন এনওয়াইইউতে শর্টফিল্মগুলো শুট করার সময় নানা রকম সম্পাদনাসংক্রান্ত জটিলতায় পড়ছিলাম। আমরা হয়তো বলেছি, কিন্তু ত্রুফো বলেছেন, সিনেমা কেটে একদিকে নিতেন আবার কাটতেন অন্যদিকে নিতে। আমার প্রফেসর বলতেন, এসব বাজে কথা ছাড়ো! তিনি তেমন করতে পারেন না। হ্যাঁ, কিন্তু আমরা ওই দৃশ্যটা দেখেছিলাম। তিনি বলে যাচ্ছিলেন, শোনো, তুমি হয়তো কোনো সুনির্দিষ্ট কারণে দৃশ্যটা তুলেছিলে, কিন্তু পরে সম্পাদনা পদ্ধতির মধ্য দিয়ে যেতে যেতে দেখলে জিনিসটা আর কাজ করছে না... হলো সে (কুব্রিকের ২০০১-এর) মনোলিথের কারবার। তুমি জানবে, মনোলিথকে স্পর্শ করো, আর একটা শট নাও, যার ওই দৃশ্য নিয়ে কিছু করার থাকবে না।

টারান্টিনো। হ্যাঁ।

স্করসেস। এবং এটা অন্য ক্ষেত্রে অন্য কোনো এক মানে তৈরির কাজ করবে। তিনি বলতেন, তুমি শটটার জন্যেই তার মূল্য নির্ধারণ করতে শেখো। শট নিজস্ব একটা জীবনে ভর করে আছে এবং তুমি ছোট ছোট ফ্রেমে তা দেখছ, ১৬ বা ৩৫, কিছু এসে যায় না।

টারান্টিনো। তুমি যা বলেছ সেটা খুব মজার, কারণ তা আমার খুবই প্রিয় বিষয়। আমার সম্পাদকেরা প্রকৃতপক্ষে আমাদের খামখেয়ালের সাথে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে এবং এটি তোমার মুখে নাক থাকার মতোই স্পষ্ট।

স্করসেস। হ্যাঁ, এটা খুবই স্পষ্ট। শাটার আইল্যান্ডে এক দৃশ্য আছে যেখানে উন্মাদ আশ্রমের এক মহিলা ছিলেন আর (লিওনার্দো দি ক্যাপ্রিওর চরিত্রটি) তাকে একটা টেবিলে জেরা করছিলেন। খুবই সুন্দর মহিলা এবং তিনি (কেমন করে) তার স্বামীকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে খুন করলেন সেসব বলছিলেন, শটটা নিয়েছিলাম তার কাঁধের ওপর দিয়ে, যা কিনা খুবই হিচককসুলভ হয়েছিল, তার একটা গ্লাস ছিল এবং তিনি একটা চুমুক দেন তারপর নিচে রেখে দেন; আর লিওর দিকে কাটব্যাক, সে জেরা করছিল, তার কাছে এসে আর তারপর আরেকটা শট তার কাঁধের ওপর দিয়ে যেখানে সে গ্লাসটা হাতে নেয়, চুমুক দেয় আর রেখে দেয় আর তারপর তার হাতে কোনো গ্লাস নেই।

টারান্টিনো। উহ হু (হাসি)

স্করসেস। বেশ। সে রিহার্সাল করছিল, কিন্তু আমি বললাম, চলো করে দেখা যাক। তুমি চিন্তা করবে এখানে একটা গ্লাস আছে, আর তাই, পুরো গল্পটা: কোনটা সত্যি, কোনটা সত্যি নয়, কোনটা কাল্পনিক।

টারান্টিনো। ওহ্, ওটা ছিল একেবারে পারফেক্ট।

স্করসেস। প্রতারণাটা হচ্ছে...

টারান্টিনো। এটা করার মতো খুব সম্মানজনক কাজ। আপনাকে হলপ করে ফেলতে হবে।

স্করসেস। তা ঠিক। এটা আত্মঘাতক। যা তুমি ভাববে তা কখনই একসাথে কাট করা উচিত নয়। করো, (তারপর) যখন দেখবে ঘটনা সুন্দরের দিকে গড়াচ্ছে একসাথে কাট করো এক ধ্বংসাত্মক ব্যাপার হে!

টারান্টিনো। আমি আমার প্রচার সফর গুছিয়ে আনছি সিনেমাটা নিয়ে (ওয়ান্স আপন টাইম...) আর এমন প্রশ্ন পাচ্ছি, সিনেমাটায় কোন দৃশ্য শুট করতে বেশি জটিল লেগেছিল? আমি জানি, ধরনের প্রশ্নের প্রতি আমার সত্যিকারের উত্তর হচ্ছে, যদি আমি একটা বড় মঞ্চের টুকরো পাই, আমি সেটাই করতে প্রস্তুত হতে থাকি, এটা মঙ্গলবার আর আমরা বুধবারেই কাজ শুরু করি এবং সিনেমাটা করার অর্ধেক কারণ হলো, সিকোয়েন্সটা করা যা আমি মাথার ভেতর দেখি প্রায়ই। আর এখন, আমি যদি অন্তত মাথার মধ্যে যত সুন্দর করে দেখি সেটুকু করতে না পারি, কে জানে হয়তো কাজটাই করতাম না।

স্করসেস। এটা ঠিক। একদম।

টারান্টিনো। অনেকটা নিজের প্রতিভাটাকে পরখ করে দেখা। আমি কি এটার ওপর ভর করে ছাদটা স্পর্শ করতে পারব? নিজেকে যতটা ভালো ভাবি আমি কি ততটাই? এবং সেসব দিনগুলোর ঠিক আগে, সেসব সিকোয়েন্স আমার সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে ভরা। কারণ আমি চাই ওগুলো হবে সেরা আর আমি এখন একটা পাহাড়ের একেবারে তলায়, উপরে তাকিয়ে আছি, আমি জানি আরোহণ শুরু করলেই আমি ঠিক হয়ে যাব, কিন্তু সেটা তো শুরু করতে হবে। তোমায় এর মধ্য দিয়ে যেতে হবে...

স্করসেস। (হাসি) এটা সত্যি। আর সম্পূর্ণ উদ্বেগ, খারাপ স্বপ্ন, সবকিছু। সকাল সকাল সেখানে যাও। বিচ্ছিরি, তর্ক আর অভিযোগ করতে থাকা আর তারপর আমি শুরু করতে চাই।

টারান্টিনো। সেসব সকালে আমি হচ্ছি সবচেয়ে খারাপ। একেবারে আমায় বিরক্ত করবে না দশায় থাকি।

স্করসেস। আমার কাছে এসো না। (হাসি) আমি ট্রেলারের বাইরে যাই। আমি সবার সাথে খুব ভালো আচরণ করি। আমি ট্রেলারের ভেতরে যাই। সেখানে আমার এডি আর প্রযোজক, আমার সহকারী, তারা বুঝতে পেরেছে। ডিপি এল, তারাও টের পেল। আর আমি সাধারণত অভিযোগ করি, ট্রাফিক নিয়ে কিংবা আমার দাঁতের কিছু একটা সমস্যা নিয়ে বা আমি জানি না কি। এখানে একটা কাজও করতে পারছি না। পরিস্থিতি তুমি জানো।

টারান্টিনো। হ্যাঁ।

 

(আগামী পর্বে সমাপ্য)

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন