মঙ্গলবার | ডিসেম্বর ১০, ২০১৯ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

পণ্যবাজার

নিম্নমানের চাল রফতানিতে আয় কমেছে ভিয়েতনামের

বণিক বার্তা ডেস্ক

চাল রফতানি থেকে আয় কমেছে ভিয়েতনামের। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে দেশটি থেকে ৫২ লাখ টন চাল রফতানি হয়েছে। এর বিপরীতে দেশটির আয় এসেছে ২২৪ কোটি ডলার। ভিয়েতনামের মিনিস্ট্রি অব এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্টের (এমএআরডি) তথ্য অনুযায়ী, এ সময় চাল রফতানির পরিমাণ গত বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। তবে নিম্নমানের চাল রফতানি হওয়ায় দেশটির আয় কমেছে ৯ দশমিক ৮ শতাংশ। এ অবস্থায় রফতানি করা চালের মান উন্নয়নে কাজ করছে ভিয়েতনাম সরকার। খবর ভিয়েতনাম নেট।

এমএআরডির তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ভিয়েতনাম থেকে চাল রফতানি হয়েছে ৫ লাখ ৮৬ হাজার টন। যার বিপরীতে দেশটির আয় এসেছে ২৫ কোটি ১০ লাখ ডলার, যা গত বছরের তুলনায় কম। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে ভিয়েতনাম থেকে চাল আমদানিতে শীর্ষে রয়েছে চীন। তবে নিম্নমানের চাল হওয়ায় গত বছর থেকে দেশটি থেকে চাল আমদানিতে কঠোর হয় চীন। চলতি বছরের এখন পর্যন্ত দেশটির চাল রফতানি ৬৫ শতাংশ কমেছে। এমনকি চালের মান খারাপ হওয়ায় দেশটি থেকে চাল আমদানিতে কোটা নির্ধারণ করেছে চীন। কোটা অনুযায়ী, ভিয়েতনাম থেকে বছরে ৫০ লাখ টন চাল আমদানি করতে চায় দেশটি। তবে চলতি বছর সেই কোটাও পূরণ হবে না বলে মনে করছে এমএআরডি। তারা মনে করছে, বছর শেষে ভিয়েতনাম থেকে চীনের চাল আমদানি ৩৩ লাখ টনে দাঁড়াতে পারে।

চালের এ নিম্নমানের কারণে বাজার হারানোর আশঙ্কায় এখন ভিয়েতনাম সরকার মান বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে চাল রফতানিতে ভালো প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে মান বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিতে হবে।

ভিনাফুড-১ করপোরেশনের মহাপরিচালক বুই থি থান তাম মনে করেন, রফতানি বাজার প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে। এ কারণে বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে অভ্যন্তরীণ উৎপাদনে চালের মান উন্নত করতে ফার্মগুলোকে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এছাড়া খাতসংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে বলেও জানান তিনি।

তাম আরো বলেন, বাজার চাহিদা মোকাবেলায় কৃষকদের অর্গানিক চাল উৎপাদন করতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে ভূমিকা রাখতে হবে। অন্যদিকে চাল রফতানির আগে মান নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদেরও কাজ করতে হবে। এ দুটি করা গেলে ভবিষ্যতে রফতানি বাজারে চালের প্রবৃদ্ধি উন্নত করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।

তবে চালের মান উন্নয়নে সরকার যে পদক্ষেপ নেয়নি, বিষয়টি এমন নয়। এরই মধ্যে ভিয়েতনামের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় (এমওআইটি) আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের চাল রফতানি বাড়াতে এবং বাজার উন্নয়নে কাজ করছে। আর রফতানি করা চালের মান উন্নয়নে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এমএআরডিকে।

ভিয়েতনামের কৃষিমন্ত্রী এনগুয়েন সুয়ান কৌং জানান, বর্তমানে চালের বৈশ্বিক বাজারের আকার ৩ কোটি ৬০ লাখ থেকে ৪ কোটি টনের মতো। এর মধ্যে ভিয়েতনাম এককভাবেই প্রতি বছর সরবরাহ করে ৭০ লাখ টনের মতো। কিন্তু বর্তমান বাজার চাহিদা বিবেচনায় চালের মান ঠিক রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় রফতানি থেকে উচ্চমূল্য আনতে সক্ষম হচ্ছেন না তারা।

কৌং বলেন, অভ্যন্তরীণ বাজারকে চালের মান ও প্যাকেজিং ঠিক রেখে সরবরাহ করতে হবে। রফতানি বাজারের কথা চিন্তা করে ভিয়েতনামকে চালের মান ঠিক রেখে উৎপাদন করতে হবে। বিশেষ করে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের মতো আঞ্চলিক দেশগুলোর বাজার ধরতে চালের মানের ওপর জোর দেয়ার কথা জানান তিনি।

এমএআরডির তথ্য অনুযায়ী, চাল উৎপাদনে ভিয়েতনামের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ হিসেবে ধরা হয় থাইল্যান্ডকে। দেশটি থেকে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ চাল আমদানি করে সিঙ্গাপুর। কিন্তু থাইল্যান্ডে তীব্র খরায় আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে করে দেশটির বিকল্প দেশ থেকে আমদানি বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের চেষ্টা করছে সিঙ্গাপুর। সে কারণে দেশটির বাজারে চাল সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে ভিয়েতনাম। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতি বছর প্রায় ৫০ শতাংশ চাল আমদানি করা জাপান বিকল্প বাজারের খোঁজ করছে। ফলে দেশটির বাজারেও চাল রফতানি বাড়ানোর বড় সম্ভাবনা রয়েছে ভিয়েতনামের জন্য। সে কারণেই চালের মান উন্নয়নে এখন জোরেশোরে কাজ করছে দেশটি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন