শনিবার | ডিসেম্বর ০৭, ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

শেয়ারবাজার

থেমে থেমে দরপতন চলছেই

একদিনেই বাজার মূলধন কমেছে ২ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

পতনের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না দেশের পুঁজিবাজার। এ বছরের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া নিম্নমুখী প্রবণতা এখনো চলছে। একদিন সূচক বাড়ছে তো পরের দিনই কমছে। আবার কখনো টানা দুদিন ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও এর পরের দিনই আবার বড় পতন হচ্ছে। এভাবে থেমে থেমে পুঁজিবাজারে দরপতন চলছেই। ক্রমাগত শেয়ারের দর কমতে থাকায় আতঙ্কিত বিনিয়োগকারীরা তাদের পোর্টফোলিওতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন। অন্যদিকে দরপতনের কারণে ব্রোকারেজ হাউজ থেকেও ফোর্সসেল বাড়ছে। পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে অর্থ মন্ত্রণালয়, বিএসইসি, বাংলাদেশ ব্যাংক, স্টক এক্সচেঞ্জ, এনবিআর, আইসিবি এবং বাজারসংশ্লিষ্ট দুই সংগঠন ডিবিএ ও বিএমবিএর বিভিন্ন উদ্যোগও কাজে আসছে না। ফলে সব মিলিয়ে অস্থির হয়ে উঠছে পুঁজিবাজার।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল লেনদেনের শুরুর প্রথম কয়েক মিনিট সূচক কিছুটা বাড়লেও এর পর থেকেই বিক্রয়চাপের কারণে নিম্নমুখী হতে থাকে। সব খাতের শেয়ারে বিক্রয়চাপ বাড়ার কারণে দিনশেষে আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৫২ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৭০৮ দশমিক ৬৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স ডিএসইএক্স।

ডিএসইর প্রধান সূচকের পাশাপাশি শরিয়াহ সূচক ডিএসইএসও পয়েন্ট হারিয়েছে। দিনের ব্যবধানে ৮ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট কমেছে ডিএসইএস। গতকাল ১ হাজার ৮১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে সূচকটি, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ৯০ পয়েন্টে। ব্লুচিপ সূচক ডিএস-৩০ ১৪ দশমিক ৬১ পয়েন্ট কমে দিন শেষে ১ হাজার ৬৬১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ৬৭৫ পয়েন্টে।

গতকাল ডিএসইতে সূচক কমার পাশাপাশি দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে। গতকাল এক্সচেঞ্জটিতে ২৮৮ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৩৫০ কোটি টাকা। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৫২টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দিন শেষে দর বেড়েছে ৩০টির, কমেছে ২৯২টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৩০টি সিকিউরিটিজের বাজারদর।

বাজারের সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে ডিবিএর প্রেসিডেন্ট মো. শাকিল রিজভী বণিক বার্তাকে বলেন, প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মেই বাজার একসময় ঘুরে দাঁড়াবে। অনেকগুলো কোম্পানির শেয়ার যৌক্তিক দরের চেয়ে অনেক বেশি অতিমূল্যায়িত হয়ে পড়েছিল। অথচ কোম্পানির ব্যবসায়িক ও আর্থিক পারফরম্যান্সের সঙ্গে শেয়ারদরের কোনো সামঞ্জস্য নেই। এ ধরনের কোম্পানিগুলোর মধ্যে বেশকিছু কোম্পানির শেয়ারদর বর্তমানে অনেক কমে এসেছে। এখনো যেগুলো অতিমূল্যায়িত রয়েছে সেগুলোও কমে আসবে। বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের কোনো আস্থা নেই, এর কারণ হচ্ছে আইপিওর মাধ্যমে মানহীন কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসছে। এটি বন্ধ করতে হবে। তাছাড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্রোকার, মার্চেন্ট ব্যাংকার, বিনিয়োগকারীসহ বাজারসংশ্লিষ্ট সবাইকেই তাদের নিজেদের ভূমিকা পর্যালোচনা করে দেখতে হবে। অতীতে যদি কোনো ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকে তাহলে সেগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে সবাইকে সামনের দিকে অগ্রসর হতে হবে। তাহলেই বাজারের প্রতি সবার আস্থা ফিরে আসবে এবং বাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলে জানান তিনি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন