মঙ্গলবার| ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২০| ৫ফাল্গুন১৪২৬

টেরাকোটা-পর্ব ৩

ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী শশী লজ

মিয়া মুহাম্মদ মারুফ

ঔপনিবেশিক বাংলায় যে কয়েকটি স্থান আঞ্চলিক পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল তার মধ্যে ময়মনসিংহ অন্যতম অঞ্চলে নির্মিত বিভিন্ন স্থাপনা ওই সময়ে তার সমৃদ্ধির কথা জানান দেয় বিশেষত, ময়মনসিংহ শহরের মধ্যস্থলে ব্রহ্মপুত্র নদের ১৫০ ফুট দক্ষিণে অনিন্দ সুন্দর শশী লজ প্রাসাদটি ঔপনিবেশিক যুগের স্মৃতি ধারণ করে আজও টিকে আছে উনিশ শতকের মাঝামাঝি মুক্তাগাছার মহারাজা সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরী স্থানে প্রথমে একটি দ্বিতল ভবন নির্মাণ করেন একটা পর্যায়ে এসে ভূমিকম্পে ওই ভবনটি ধ্বংস হয়ে যায় জনশ্রুতি অনুযায়ী, এই দ্বিতল ভবনে একটি সুড়ঙ্গ পথ ছিল, এই পথ দিয়ে মুক্তাগাছায় যাতায়াত করা যেত, আবার দ্বিতল ভবনের কাঠের সিঁড়ির সঙ্গে প্যারিস থেকে আনা মিউজিক্যাল বক্স ছিল সিঁড়িতে ওঠানামার সময় মিউজিক্যাল বক্স থেকে সুমধুর সংগীত বাজত দ্বিতল পাকা বাড়ি ধ্বংস হওয়ার পর সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরী একতলা ভবনটি নির্মাণ করেন প্রায় নয় একর জমির ওপর এই ভবনটি এখনো টিকে আছে কালের সাক্ষী হয়ে

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক শশীলজের মূল ভবনটি সংরক্ষিত, যা ময়মনসিংহ জেলার গঙ্গাদাস গুহ রোডে জেলা পরিষদের উল্টো দিকে অবস্থিত এই সুরম্য ভবনটি জমিদারদের স্থাপত্য শিল্পের সৌন্দর্য ঘোষণা করছে ভবনের প্রধান ফটকটি দোতলা স্থাপত্য এর উপরে একটি বর্গাকার প্যানেল রয়েছে অন্যদিকে ফটকের নিচের মধ্যবর্তী অংশে পাঁচ খাঁজবিশিষ্ট অর্ধগোলাকৃতির নেভ পাওয়া যায় এই নেভের মধ্য দিয়ে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করা যায় নেভের দুই দিকে বর্গাকার ভিতের ওপর তিনটি করে স্তম্ভ রয়েছে স্তম্ভ তিনটির মাঝেরটি বর্গাকার দুদিকের স্তম্ভ গোলাকার অবকাঠামো হিসেবে দৃশ্যমান এর মাঝের বর্গাকার স্তম্ভে খাঁজকাটা খিলানযুক্ত লম্বা কুলুঙ্গি রয়েছে এর বেশির ভাগ স্তম্ভগুলোর ক্যাপিটাল নেভের অর্ধগোলাকার খিলানের শেষ অংশ একই সমান্তরালে অবস্থিত তবে নেভের উপরের বর্গাকার প্যানেলের দুই দিকে দুটি গোলাকার ছোট স্তম্ভ প্যানেলের কার্নিশে গিয়ে ফুলদানি নকশার সঙ্গে মিশে গিয়ে এক অদ্ভুত মায়াবী শৈল্পিকতার পরিচয় দিচ্ছে

পিলার দুটির মাঝখানে দুদিকে বর্গাকার স্তম্ভ সংযুক্ত পাঁচ খাঁজবিশিষ্ট ছোট আরেকটি খিলান রয়েছে খিলানের অভ্যন্তরে নিরাপত্তারক্ষী পাহারায় থাকত

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন