রবিবার | নভেম্বর ১৭, ২০১৯ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

টেরাকোটা-পর্ব ৩

বাংলায় ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক স্থাপত্য

ফারহাত আফজাল

শাসনক্ষমতায় ব্রিটিশরা আসার অনেক আগে থেকে বাংলা অঞ্চলের শিল্প স্থাপত্যরীতি ছিল সমৃদ্ধ সুন্দর, চমত্কার। বাংলার বিভিন্ন প্রত্নস্থলের ধ্বংসাবশেষ থেকে এটি স্পষ্ট যে অঞ্চলের ইতিহাসের সূচনাপর্ব থেকে এখানকার ইমারত শিল্পের একটি দীর্ঘ ধারাবাহিক চর্চা চলে এসেছে।

উদাহরণস্বরূপ মহাস্থানগড়ের ধ্বংসাবশেষ একটি অন্যতম প্রমাণ যে এমনকি প্রাচীন সময়েও নির্মাতারা ইট তৈরি ব্যবহারে অতি উন্নত কৌশল নিয়ে স্থাপনার কাজ করেছিল। সোমপুর মহাবিহারেরভারতীয় উপমহাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় বৌদ্ধবিহার হিসেবে বিবেচিতস্থিতিবোধ (ওরিয়েন্টেশন) কাঠামোর অনুপাত নির্মাতাদের স্থাপত্য কৌশলের প্রতি চরম সংবেদনশীলতার বিষয়টি তুলে ধরে। আট থেকে বারো শতকের পাল শাসনামলে বাংলায় স্থাপত্য, ভাস্কর্য, পোড়ামাটির অলংকরণ এবং চিত্রকলা ব্যাপকতরভাবে বিকাশ লাভ করেছিল। সুলতানি আমলে বাংলায় একটি স্বাতন্ত্র্যিক ভাষা, সংস্কৃতি স্থাপত্যের উন্নয়ন ঘটেছিল।

মোগলদের আগমনে রাজনৈতিক কেন্দ্রীকরণের উন্মেষ ঘটেছিল। তখন অঞ্চলের স্থাপত্যরীতি বলতে বোঝানো হতো দিল্লির নির্দেশনায় বাংলার শাসক কর্তৃক প্রয়োগকৃত ধারণা আদর্শ। প্রথমবারের মকো অঞ্চলের (বাংলা) স্থাপত্যিক ঐতিহ্য ভেঙে গিয়েছিল, যা ব্রিটিশ শাসনে আরো অব্যাহত ছিল। ইউরোপীয়দের আগমনে বাংলার স্থাপত্যে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বাঁকবদল হয়। পর্তুগিজরা হলো প্রথম ইউরোপীয় জনগোষ্ঠী, যারা ব্যবসায়ী মিশনারি হিসেবে বাংলায় এসেছিল। এক শতক পরে পর্তুগিজদের অনুসরণে ডাচ, ব্রিটিশ ফরাসিরা এসেছিল। ড্যানিস, আর্মেনীয়, গ্রিক জার্মানরাও অঞ্চলে বসতি গড়েছিল। অবশ্য ঔপনিবেশিক স্থাপত্য ব্রিটিশ স্থাপত্য প্রায় সমার্থক হয়ে যায়, যখন থেকে তারা এখনকার বৃহৎ ভূখণ্ড দখল করেছিল।

ব্রিটিশ শাসনের প্রাথমিক সময়ে শহর হিসেবে কলকাতা দ্রুত ব্যাপকভাবে গুরুত্ব অর্জন করেছিল। এর কারণ জনপথে ভালো যোগাযোগের ফলে বৃহত্তর বাণিজ্য সুযোগ থাকা। ফলে ১৭৭৩ থেকে ১৯১২ সাল পর্যন্ত এটি ভারতের ব্রিটিশ রাজধানী ছিল। কাজেই এটি বিস্ময়ের নয়, দুইশ বছরের ব্রিটিশ শাসনের সময়ে বেলভেডিয়ার হাউজ, রাইটার্স বিল্ডিং এবং ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়েলের মতো স্থাপত্যিকভাবে তাত্পর্যপূর্ণ অনেক ইমারত পশ্চিমবঙ্গে নির্মিত হয়েছিল।

সংজ্ঞাগতভাবে ঔপনিবেশিক স্থাপত্য হলো এমন এক স্থাপত্যরীতি, যেটি আসলে একটি দেশ থেকে ধার করে পরবর্তী সময়ে যতটা সম্ভব অঞ্চলে অবস্থিত কাঠামোর সঙ্গে একীভূত করা হয়েছিল বা অভিযোজন করা হয়েছিল।

এই সুনির্দিষ্ট স্থাপত্যরীতি আবর্তিত হয়েছিল তখনই, যখন ঔপনিবেশিকরা একটি মেলবন্ধন সৃষ্টি করেছিল উপনিবেশিত অঞ্চলের মৌলিক নকশার সঙ্গে উৎস দেশের স্থাপত্য ভাষার মেলবন্ধন ঘটানোর মাধ্যমে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক স্থাপত্যের সুবিশালতা চমত্কারিত্বে আরো গভীরে যাওয়ার আগে আমাদের অবশ্যই এসব কাঠামোর উদ্দেশ্য পুনর্বিবেচনা করতে হবে। সুনির্দিষ্ট সময়ের স্থাপত্যরীতি একটি অঞ্চলের সামাজিক অবস্থান রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রতিফলন। ক্ষমতা প্রদর্শন হিসেবে ত্রয়োদশ লুইস ভার্সাই প্রাসাদ, গ্রিকরা প্যানথিওয়ন মোগল সম্রাট শাহজাহান তাজমহল নির্মাণ করেছিলেন। যেহেতু ব্রিটিশরা নিজেদের মোগলদের উত্তরসূরি শাসক মনে করত, সেহেতু ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে তারাও স্থাপত্যরীতি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের সঙ্গে এসব ঘটনার ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছিল। যখন ভারতীয় সৈন্যরা প্রকাশ্যে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল, ঔপনিবেশিকদের কর্তৃক সেনাবিদ্রোহ দমন করা হয়েছিল। সর্বশেষ মোগল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরের ক্ষমতা থেকে উত্খাত মোগল সাম্রাজ্যের পতন হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। এরপর সময় ছিল নতুন শাসক হিসেবে ব্রিটিশদের ক্ষমতা প্রদর্শন।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া বার্কলের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ইতিহাসবিদ থমাস আর মেটকাফ তার অ্যান ইম্পেরিয়েল ভিশন: ইন্ডিয়ান আর্কিটেকচার অ্যান্ড ব্রিটিশরাজবইয়ে লিখেছেন, ‘ব্রিটিশরাজ কর্তৃক নির্মিত সরকারি ইমারতগুলোয় শাসক হিসেবে ব্রিটেনের সাম্রাজ্যিক অবস্থান সবসময় দৃশ্যমান করা আবশ্যক ছিল...

ঔপনিবেশিক স্থাপত্যরীতি এভাবে ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী সম্ভ্রম ক্ষমতা জাহিরের উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করা হয়েছিল। সাধারণ মানুষের দ্বারা নিজেদের ক্ষমতাবান দেখানোর লক্ষ্যে ঔপনিবেশিকরা উপলব্ধি করেছিল তাদের অবশ্যই একটি সংকর নকশায় (হাইব্রিড ডিজাইন) আসতে হবে, যার সঙ্গে আমজনতা এরই মধ্যে পরিচিত।

উনিশ শতকের শেষের দিকে ভারতীয় ব্রিটিশ স্থপতিরা এমন এক স্থাপত্যরীতি সৃষ্টি করেছিল, যা ভারতীয় ইসলামী ভারতীয় স্থাপত্যের একটি সন্নিবেশ, যেখানে গথিক নব্য ধ্রুপদী উপাদানগুলো ধার করা হয়েছিল। এভাবে তারা ইন্দো-সার্সানিক রিভাইভাল আর্কিটেকচার নামে পরিচিত একটি স্থাপত্যরীতির আন্দোলন শুরু করেছিল। সার্সানিক একটি মধ্যযুগের ল্যাটিন শব্দ, যেটি মুসলিমবোঝাতে ব্যবহূত হতো। ওই সময় অঞ্চল, যেটি আজকের বাংলাদেশ, ঔপনিবেশিকদের দ্বারা ব্যাপকভাবে উপেক্ষিত ছিল। কারণ এর নগরায়ণ শিল্পায়ন ঘাটতি। তবে এসব সত্ত্বেও ওই সময়ে ব্রিটিশদের কর্তৃক উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ইমারত নির্মিত হয়েছিল। এসব ইমারত এখনো লক্ষণীয় সেগুলোর স্থাপত্যিক ঐতিহাসিক তাত্পর্যের কারণে।

ব্রিটিশরা যখন সতেরো শতক থেকে মধ্য আঠারো শতকের মধ্যে বণিকের ভূমিকা থেকে নিজেদের নতুন শাসকের ভূমিকায় উন্নীত করেছিল, তখন তাদের ইমারতকর্ম বেশ কয়েকটি ক্রমানুক্রমিক উন্নয়ন ধাপের মধ্য দিয়ে এগিয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ব্রিটিশরা ঢাকা এবং এর সংলগ্ন এলাকায় ইউরোপীয় রেনেসাঁ ধাঁচের স্থাপত্যরীতির গির্জা নির্মাণ করেছিল, পরবর্তী সময়ে যা সেক্যুলার ইমারত হিসেবেও ব্যবহার হয়েছিল। পরবর্তী ধাপে অর্ধ-অষ্টকোণাকৃতি কিংবা গোলাকার কর্নার এবং টল ডরিক কলামের ইমারত অধিক জনপ্রিয় হয়েছিল। এর সময়কাল ছিল আঠারো শতকের শেষ থেকে উনিশ শতকের প্রথমার্ধ। তাসকান, ডরিক, আয়নিক করিন্থিয়ানসহ কয়েকটি ধ্রুপদী রীতিও অঞ্চলে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

উনিশ শতকে অর্ধগোলাকার খিলান, সেমি-করিন্থিয়ানের ওপর ত্রিকোণাকৃতির পেডিমেন্ট, ডরিক বা আয়নিক কলাম, পলেস্তারায় ফুলেল মোটিফের মতো কিছু নতুন স্থাপত্য উপাদানও প্রবর্তিত হয়েছিল। পুরান হাইকোর্ট বিল্ডিং ওই সময়ের উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের সময়ে এই ভবন আসলে পূর্ব বাংলা এবং আসামের গভর্নরের আনুষ্ঠানিক বাসভবন হিসেবে নির্মাণ করা হয়েছিল। ভবনে সাধারণ রেনেসাঁ ধাঁচের ফাসাদ এবং বড় খিলানের ওপর একটি ত্রিকোণাকৃতির পেডিমেন্ট রয়েছে, যেটি করিন্থিয়ান কলামের ওপর বসানো। এটি ঢাকায় নির্মিত ঔপনিবেশিক ইমারতের অন্যতম, যার স্থাপত্যিক শৈলীতে মোগল বৈশিষ্ট্যের আদৌ কোনো ছাপ নেই কিংবা থাকলেও খুব সামান্য। 

আহসান মঞ্জিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে অবস্থিত গ্রিক মেমোরিয়ালের স্থাপত্যে ধরনের নকশাগুলো আজও দেখা যায়। ১৯০৫ সালে বাংলা ভাগের পর উনিশ শতকের শেষ বিংশ শতাব্দীর শুরুতে, মোগল ইউরোপীয় শৈলীর মিশ্রণে নতুন একটি স্থাপত্যধারার সূচনা হয়। মূলত সংকর স্থাপত্যের ধারাটি পরিচালিত হয় লর্ড কার্জনের তত্ত্বাবধানে; যিনি ১৮৯৯ থেকে ১৯০৫ সাল পর্যন্ত ভারতের ভাইসরয়ের দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন মোগল শিল্প স্থাপত্যের অনুরাগী। তাই তার নামানুসারে তৈরি কার্জন হলটি সম্ভবত সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ, যা মোগল ইউরোপীয় শৈলীর মিশ্রণে সৃষ্ট নকশাকে তুলে ধরে। যা মোগল ঐতিহ্যবাহী শৈল্পিকতার সঙ্গে আধুনিক স্থাপত্যের উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত; যেমন অশ্বখুরাকৃতি, খাঁজকাটা খিলান আর নান্দনিক গম্বুজের ব্যবহার। মোগল আমলের ভবনের স্থাপত্য নকশা অনুসারে লাল রঙের ব্যবহার, আলংকারিক বন্ধনী, দীর্ঘ ছাঁচ আর গম্বুজযুক্ত ছত্রি (টেরেসড প্যাভিলিয়ন); এটিকে মোগল সম্রাট আকবরের সময়ে ফতেহপুর সিক্রিতে নির্মিত দেওয়ান--খাস ভবনের স্থাপত্য উপকরণ নকশার অনুকরণে তৈরি হিসেবে দেখা যেতে পারে। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে কার্জন হল বিজ্ঞান বিভাগের অংশ হিসেবে ব্যবহার শুরু হয়। শহরের জন্য লর্ড কার্জনের চমত্কার একটি টাউন হল তৈরির স্বপ্নের বাস্তব পরিণতির নাম কার্জন হল। যদিও শেষ পর্যন্ত তার স্বপ্নটি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তবে ভবনটি বাংলাদেশের ইতিহাসের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনার মূল সাক্ষী হিসেবে রয়ে গেছে, বিশেষ করে ১৯৪৮-৫৬ সালের ভাষা আন্দোলনের দিনগুলোতে।

মোগল ইউরোপীয় স্থাপত্যশৈলী মিশ্রিত সংকর রীতির অন্যান্য দর্শনীয় উদাহরণগুলো আজও দেখা যায় ঢাকার নর্থব্রুক হল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ এবং সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের নির্মাণ নকশাতে। তবে ইউরোপীয় শৈলীর স্থাপত্যের প্রভাব সত্ত্বেও, ঔপনিবেশিক আমলের স্থাপত্য সফলভাবে একটি স্বতন্ত্র স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে, যা কিনা সত্যিকার অর্থেই ঔপনিবেশিক আমলের নিজস্বতা নিয়ে হাজির হয়। যা বাংলো নামে পরিচিত। বাংলোবদ্বীপভূমির কুঁড়েঘরের স্থাপত্যরীতির পুনর্নির্মাণ। একটি ছাদ দ্বারা আবৃত নির্জন কুঁড়েঘরে প্রকৃতির কাছাকাছি বসবাসের ধারণার অনন্য উদাহরণ হিসেবে বাংলোর প্রচলন, একই সঙ্গে ঘরে বসে আদিগন্ত আকাশ দেখা যায়। তাই খুব অল্প সময়ে বাংলো উপমহাদেশ এবং পরবর্তী সময়ে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে ভবন তৈরির জনপ্রিয় স্থাপত্যশৈলীতে পরিণত হয়েছিল।

ইতিহাসের প্রথম দিকে যেভাবে অঞ্চলের স্থাপত্যশৈলীর বিকাশ ঘটেছে সে সম্পর্কে জানতে কয়েক মুহূর্ত সময় নেয়া এবং তা অবলোকন করার বিষয়টি সত্যিই চমত্কার। এমনকি মোগল রাজবংশের পর থেকে অঞ্চলটি এর ভবনের নির্মাণশৈলীতে নিজস্ব ঐতিহ্য সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে লড়াই করেছে। স্থাপত্য সাধারণত একটি অঞ্চলের পরিচয় বহন করে। যদিও বাংলাদেশের জন্য, বিশেষ করে বহু ভাগে বিভক্ত এর জটিল ইতিহাসের কারণে, ধরনের ঘটনা ঘটেনি। তবে ঐতিহাসিক উপকরণের অভাব অঞ্চলটির ইতিহাসের বিবরণকে কঠিন করে তোলে। আর কারণেই, এখন অব্দি টিকে থাকা সব ভবনের পুরনো কাঠামো সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। ইতিহাসবিদরা যারা কিনা অঞ্চলগুলোকে নিয়ে গবেষণাকাজে নিয়োজিত রয়েছেন তাদের অবশ্যই গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্যগুলো যথাসম্ভব নথিভুক্ত করতে হবে। কেননা অঞ্চলের স্থাপত্য, এর পেছনের দীর্ঘায়িত ইতিহাস ভবনের নকশায় ইতিহাসের প্রভাব সম্পর্কিত সুস্পষ্ট ধারণালাভের মাধ্যমে আমরা সম্ভবত একটি সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা পাব একটি বিন্দুতে উপনীত হতে পারব। (ভাষান্তর: হুমায়ুন কবির রুহিনা ফেরদৌস)

 

ফারহাত আফজাল: স্থপতি একাডেমিক অ্যাসোসিয়েট

বেঙ্গল ইনস্টিটিউট

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন