রবিবার | নভেম্বর ১৭, ২০১৯ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

টেরাকোটা-পর্ব ৩

বাংলার স্থাপত্যে পাশ্চাত্য প্রভাব

সুমন বিশ্বাস , ড. এটিএম মাসুদ রেজা

স্থাপত্য সমাজ সময়ের প্রতিচ্ছবি প্রযুক্তির সঙ্গে রয়েছে স্থাপত্যের ওতপ্রোত সম্পর্ক প্রযুক্তি ছাড়াও এই বিদ্যা নির্ভর করে ওই স্থানে প্রাপ্ত নির্মাণ উপকরণ এবং সেখানকার নির্মাণ শ্রমিকের দক্ষতার ওপর সবচেয়ে প্রধান ভূমিকা পালন করেন সেই স্থাপত্যের পৃষ্ঠপোষক রুচিবোধের সঙ্গে তার প্রজ্ঞা, তার দূরদর্শী চিন্তার প্রতিফলন সে স্থাপত্য স্থপতিরা শিল্পীর মতো মুক্ত নয় তাকে ধারণ করতে হয় পৃষ্ঠপোষকের স্বপ্ন এখানে একজন স্থপতির ভূমিকা এবং সার্থকতা দেশ, কাল, স্থান, আবহাওয়া, জলবায়ু, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ধারণ করে একজন স্থপতিকে চিন্তা করতে হয়, চাহিদা পূরণ করতে হয় পৃষ্ঠপোষকের লালিত ভাবনার; আবার তাকেই স্বপ্ন দেখতে হয়, স্বপ্ন দেখাতে হয় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ইতালীয় স্থপতি রেঞ্জো পিয়ানোর ভাষায় বলতে হয়, ‘স্থাপত্য সাংঘাতিক এক পেশা একজন লেখক খারাপ একটি বই লিখলে পাঠক হয়তো পড়বে না কিন্তু একটি খারাপ স্থাপত্য মানুষকে বাধ্য করে কদর্যতায় শত বছর ব্যবহার করতে

পঞ্চদশ শতকে ১৪৯৭ থকে ১৪৯৯ সময়কালে পর্তুগিজ পর্যটক ভাস্কো দা গামা সাগর পাড়ি দিয়ে ভারত আসেন, যার মাধ্যমে প্রথম প্রাচ্য আর পাশ্চাত্য তথা ভারতের সঙ্গে ইউরোপের যোগাযোগ ঘটে তার আগমন আটলান্টিক মহাসাগরের সঙ্গে ভারত মহাসাগরকে যেমন সংযোগ করে, তেমনি পশ্চিমা সংস্কৃতির সঙ্গে প্রাচ্যের সেতুবন্ধ ঘটায় তারই ধারাবাহিকতায় ১৫১৪ সালে প্রথম পর্তুগিজরা ভারতের কোচিনে কুঠি স্থাপন করে ১৫১৬ সালে তারা বাংলায় আসে এবং ১৫১৭ সালে প্রথম চট্টগ্রাম সপ্তগ্রামে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে ১৬০২ সালে হল্যান্ডের অধিবাসীডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিগঠন করে এবং কোম্পানির সনদ অনুযায়ী তারা কালিকট, নাগাপট্টম বাংলার চুঁচুড়া বাকুড়ায় বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে ১৬০০ সালে ইংরেজরাইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিগঠন করে এবং ১৬০৮ সালে মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনকালে সুরাটে প্রথম বাণিজ্য কুঠি স্থাপনের অনুমতি পায় ১৬৫৮ সালে জেমস হার্ট ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে প্রথম ঢাকায় আসে, যার মধ্য দিয়ে বাংলায় ইংরেজদের আগমন ঘটে ডেনমার্কের বণিকরাডেনিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিগঠন করে ১৬২০ সালে দক্ষিণ ভারতের তাঞ্জোর জেলার ত্রিবাঙ্কুর এবং ১৬৭৬ সালে বাংলার শ্রীরামপুরে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে উপমহাদেশে সর্বশেষে ইউরোপীয় কোম্পানিফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’, তারা ১৬৬৪ সালে কোম্পানি গঠন করে ১৬৬৮ সালে প্রথম সুরাটে কুঠি স্থাপন করে ১৬৭৪ সাল থেকে তারা বাংলায় আসা শুরু করে এভাবে ইউরোপিয়ান বণিকদের আগমনের মধ্য দিয়ে বাংলায় প্রবেশ করে পাশ্চাত্য সংস্কৃতি

১৭৫৭ সালে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদ্দৌলাকে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলা তথা ভারতবর্ষ ইংরেজ কোম্পানি শাসনের অধীনে চলে যায় ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের সিপাহী বিপ্লবের পর কোম্পানির হাত থেকে বাংলার শাসনভার ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে যায় এভাবে রাজনৈতিক পরিবর্তনে ভারতবর্ষের স্থাপত্যে সংযোজন ঘটে এক নতুন স্থাপত্যরীতি; যা ভারতীয়, ইউরোপিয়ান মধ্য এশীয় (ইসলামিক) উপাদানের মিশ্রণে ইন্দো-ইউরোপিয়ান ধরনের এক মিশ্র স্থাপত্য প্রাচীন গ্রিক রোমান ঐতিহ্যকে মূলধারা বিবেচনা করলে ইউরোপীয় রেনেসাঁর পর তার পথ পরিবর্তিত হয় এবং তা ফ্রান্স ইংল্যান্ড হয়ে তার উপনিবেশে ছড়িয়ে পড়ে এভাবে ইংরেজরা ভারতীয় উপমহাদেশে রেনেসাঁর চিন্তা-চেতনার সঙ্গে স্থানীয় উপকরণের সমন্বয়ে নতুন এক স্থাপত্যের সৃষ্টি করে

যিশু খ্রিষ্টের জন্মের প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে পুণ্ড্রনগর নামে পরিচিত মহাস্থানগড়ের আদি ধ্বংসাবশেষে যে রোদে শুকানো ইটের ব্যবহার দেখা যায় তার ধারাবাহিকতা পাওয়া যায় নওগাঁ জেলার পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে পাল বংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপাল দেব (৭৮১-৮২১) অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করেন সময় নির্মাণ উপকরণ ছিল পোড়া ইট কোথাও কোথাও ইটের ওপর ছিল পোড়া মাটির শিল্পকর্ম বা টেরাকোটা আর ইটের গাঁথুনিতে দেখা যায় কাদা মাটির ব্যবহার ত্রয়োদশ শতাব্দী থেকে মুসলিম শাসনামল কালে মসজিদসহ অন্যান্য ভবন তৈরিতে পোড়া ইটের প্রচলন বৃদ্ধি পায়, যা চৌদ্দ, পনেরো ষোল শতকের পরও বাংলার মন্দির নির্মাণে দেখা যায় অন্যদিকে সতেরো শতক থেকে মোগল স্থাপত্যরীতি ব্যাপকতা লাভ করে সুলতানি আমলে অধিকাংশ ইমারতগুলো ছিল ইটের তৈরি এবং দেয়াল ছিল . থেকে মিটার পর্যন্ত পুরু ভবনে দরজা, জানালা ছাদ তৈরিতে খিলান গম্বুজের ব্যবহার শুরু হয় পাশাপাশি ইটের গাঁথুনিতে দেখা যায় চুন-সুরকির ব্যবহার সময় অধিকাংশ ভবনে ইটের দেয়ালে ইট ছিল উন্মুক্ত, কখনো কখনো সেখানে টেরাকোটা ফলকের ব্যবহার দেখা যায় অন্যদিকে মোগল স্থাপত্যে ইটের দেয়ালে পলেস্তারা দেখা যায় এবং শুরু হয় অলংকরণের ব্যবহার মোগল আমলে কিছু কিছু ভবনের ছাদ তৈরিতে বাংলার দোচালার মতো করে ছাদ তৈরি করতেও দেখা যায়

ঔপনিবেশিক সময়ে প্রথমে কুঠি পরে ধর্মীয় স্থাপনা তথা গির্জা তৈরি শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে তারা আবাসিক ভবন, বাণিজ্যিক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাঠাগার মিলনায়তন তৈরি শুরু করে সপ্তদশ শতক থেকে ইউরোপীয়রা নীল সিল্ক ব্যবসার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের একতল দ্বিতলবিশিষ্ট কুঠি নির্মাণ করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা দখলের পর এসব পর্তুগিজ, ওলন্দাজ ফরাসি কুঠির ব্রিটিশ সাহেবরা ব্যবহার শুরু করে এসব কুঠি সাধারণত নদী-তীরবর্তী স্থানে নির্মিত হতো উঁচু বেদির ওপর নির্মিত কুঠিগুলো অধিকাংশ প্যালাডিয়ান রীতি তথা প্রতিসম এবং সুষম অনুপাতে তৈরি, যেখানে সামনে লম্বা বারান্দায় একসারি গোল ডরিক স্তম্ভ এবং ছাদে কাঠের কড়িবর্গার ব্যবহার দেখা যায় ২০-২৫ ইঞ্চি পুরু ইটের দেয়ালে নির্মিত এসব কুঠি অধিকাংশ পলেস্তারায় আচ্ছাদিত উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে সারা দেশে এসব কুঠি ছড়িয়ে পড়ে এখনো টিকে থাকা কুঠিগুলোর অন্যতম যশোরের মোল্লাহাটি বড়কুঠি, রাজশাহীর বড়কুঠি, সারদাহ বড়কুঠি, কাজলাকুঠি রাজশাহীর বড়কুঠি ওলন্দাজ ব্যবসায়ীরা প্রথমে নির্মাণ করে, যা তখন দুর্গ হিসেবেও ব্যবহূত হতো রাজশাহীর সারদাতে দুটি কুঠিছোটকুঠি বড়কুঠি, যা এখন পুলিশ একাডেমি হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে

উনিশ শতকের শুরুতে ইংরেজরা তাদের সেনা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জন্য সারা দেশে বিশেষ ধরনের বাড়ি তৈরি করে কৃষিপ্রধান বাংলা বাড়ির আদলে এই বাড়িগুলো উঁচু বেদির ওপর স্থানীয় উপকরণে তৈরি সামনে প্রশস্ত বারান্দার সঙ্গে যুক্ত ছিল মূল কক্ষগুলো গ্রীষ্মের উত্তাপ, মৌসুমি বৃষ্টি এবং বায়ু চলাচলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থার জন্য বাংলা কুঁড়েঘরের চালের মতো দোচালা, চারচালা ছিল এগুলো ধারণা করা হয়, বাংলা বাড়ি থেকে বাংলোনামের উত্পত্তি নদীমাতৃক দেশে নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষার জন্য অধিকাংশ বাড়ি অস্থায়ী নির্মাণ উপকরণে তৈরি করা হয় তবে সুস্পষ্ট প্রভাব ছিল ইউরোপিয়ান ক্ল্যাসিক রীতির সম্মুখের বারান্দায় এক সারি গোল স্তম্ভ থাকত, যা প্রথমদিকে ডরিক পরে তুশকান রীতিতে তৈরি হতো এসব স্তম্ভ ছিল ইংরেজ শৌর্য-বীর্যের প্রতীক

১৭৯৩ সালে তত্কালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিশ প্রচলিত জায়গিরদারি প্রথা বিলুপ্ত করে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশে জমিদারি প্রথা চালু করেন ফলে তখন জমিদাররা জমির স্থায়ী মালিকানা লাভ করে জমিদার শ্রেণী আধুনিক পাশ্চাত্য ভাবধারায় অনুপ্রাণিত হয়ে ইউরোপিয়ান রীতির সঙ্গে মধ্যযুগীয় স্থাপত্যের সমন্বয়ে ভবন নির্মাণ শুরু করে তাদেরই পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলায় মন্দির স্থাপত্যের প্রসার ঘটে এসব জমিদারি প্রাসাদ জমিদারদের আভিজাত্যের প্রতীক হয়ে ওঠে বিরাট প্রবেশদ্বার, নিচতলা থেকে দোতলা উঠে যাওয়া বিশাল সম্মুখ সিঁড়ি আর ইউরোপিয়ান নিও-ক্ল্যাসিক্যাল রীতিতে গড়ে ওঠা প্রাসাদ করিন্থিয়ান কলাম, শীর্ষে পেডিমেন্ট, সারি সারি জানালা, জানালায় রঙিন কাচের ব্যবহার, কাঠের খড়খড়ি, সঙ্গে যুক্ত হয় মোগল স্থাপত্য উপকরণ কখনো কখনো ভবনের সামনে লন, লনে ভাস্কর্য, ভবনে ব্যবহূত অলংকৃত আসবাবপত্র সবই তাদের অতিমাত্রায় ইউরোপিয়ান হয়ে ওঠার নমুনা রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবাড়ি, নাটোরের রাজপ্রাসাদ, দিঘাপতিয়া রাজপ্রাসাদ, নওগাঁর বলিহার রাজপ্রাসাদ, রংপুরের তাজহাট রাজপ্রাসাদ, ময়মনসিংহ রাজবাড়ি, টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী নবাব প্রাসাদ আজও সেই ঐতিহ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে

ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধ থেকে বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে বাংলায় নতুন আরেক জোয়ার আসে সময় বাংলার সমাজে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বিকাশ ঘটে তাদের রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার মধ্য দিয়ে সমাজে পাশ্চাত্য ভাবধারার গতিবৃদ্ধি করে তখন গথিক রীতির সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদের সমন্বয়ে গথিক-ইন্ডিয়ান বা ইন্দো-সারাসিন রীতির আবির্ভাব ঘটে, যেখানে স্থানীয় রীতির সন্নিবেশ আরো সহজতর হয় খাঁজযুক্ত খিলান, সারিবদ্ধ কলাম, স্বাধীনভাবে দণ্ডায়মান মিনার, শিখর, ছত্রিএসব গথিক রীতিতে বহুল ব্যবহূত উপকরণ সময় ভবনগুলো ছিল মূলত ইটের ভিত্তির ওপর ইটের দেয়ালের এবং তার ওপর কড়িবর্গা দিয়ে ছাদ, যা ট্রাবিয়েট পদ্ধতি নামে পরিচিত তখন ভবনে ভিত তৈরিতে উল্টানো মাটির হাঁড়ি, ইটের খিলান বিটুমিনের ব্যবহার দেখা যায় কোথাও কোথাও নিচের ফ্লোরে কাঠের কড়িবর্গার উপরে চুন-সুরকি দিয়ে মাটির টালি ব্যবহার করতেও দেখা যায় সময় ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি ঘটে বেশকিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও গড়ে ওঠে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এর মধ্যে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল, পোগোজ স্কুল সেন্ট গ্রেগরীজ উচ্চবিদ্যালয় অন্যতম বাংলায়ইন্দো-সারাসিনরীতির স্থাপত্যের প্রকৃষ্ট উদাহরণ ঢাকার আহসান মঞ্জিল ১৮৭২ সালে নবাব আব্দুল গনি তার পুত্র নবাব আহসানউল্লাহ বাহাদুরের নামে প্রাচীন ফরাসি কারখানাকে প্রাসাদে রূপান্তরিত করেন প্যালাডিয়ান রীতিতে নির্মিত দ্বিতল ভবনটি নদীকে সামনে রেখে প্রশস্ত সিঁড়িসহ উঁচু মঞ্চের ওপর নির্মিত এছাড়া পুঠিয়া রাজবাড়ির মূল প্রাসাদ, রংপুরের তাজহাট রাজপ্রাসাদ, চট্টগ্রাম কোর্ট ভবন অন্যতম

বাংলার ইতিহাসে অতি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সংগঠিত হয় ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে পূর্ববঙ্গ আসাম প্রদেশের নতুন রাজধানী হিসেবে ঢাকার আত্মপ্রকাশ আমাদের যে স্বপ্ন দেখায় তা ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদের পর হারিয়ে যায় সময় নতুন রাজধানীর টাউন হল হিসেবে যাত্রা শুরু করে কার্জন হল যদিও এর নির্মাণ শুরু হয় এক বছর আগে ১৯০৪ থেকে এখানে মোগল আমলের লাল বেলেপাথরের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয় লাল রঙ; গম্বুজবিশিষ্ট প্যাভিলিয়ন, বিশেষ করে মাঝের অংশগুলো সম্রাট আকবরের রাজধানী প্রাসাদ সমৃদ্ধ নগরদুর্গ ফতেহপুর সিক্রির ছোট কিন্তু সুপরিচিত দিওয়ান--খাসের আদলে নির্মিত স্থাপত্যে ইউরোপিয়ান রীতি মোগল রীতির সমন্বয়ে নতুন এক স্থাপত্যের জন্ম দেয় সময়ের অন্যতম ভবন কার্জন হলের বিপরীতে পুরনো হাইকোর্ট ভবন বঙ্গভঙ্গের পর পূর্ব বাংলা আসাম প্রদেশের গভর্নরের সরকারি বাসভবন হিসেবে দ্বিতল ভবনটি তৈরি করা হয় কিন্তু নির্মাণকাজ শেষে ভারত সরকারের নিযুক্ত স্থপতি মনে করেন যে এটি গভর্নর হাউজ হিসেবে বেমানান এবং সে কারণে এটি অব্যবহূত থেকে যায়

১৯১৪ সালে ইন্ডিয়া সিমেন্ট কোম্পানি যাত্রা শুরু করে ১৯২৭ সালেইন্ডিয়া কংক্রিট অ্যাসোসিয়েশনপ্রতিষ্ঠা হয় ১৯৩০ থেকে ১৯৩৫ সালের পর থেকে ভবন তৈরিতে সিমেন্টের ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয় প্রযুক্তির নতুন উদ্ভাবন স্থাপত্যের গতি ঘুরিয়ে দেয় তাছাড়া মধ্যবিত্ত শ্রেণীর অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি স্থাপত্যে ভিন্নধারার জন্ম দেয়ইন্দো-সারাসিনরীতি অলংকার বর্জিত হয়ে নতুন এক রূপ নেয় তার অন্যতম উদাহরণ ১৯৪৪ সালে দানবীর রণদাপ্রসাদ সাহা কর্তৃক মির্জাপুরে প্রতিষ্ঠিত কুমুদিনী হাসপাতাল ভবনটি জমিদারির সেই আভিজাত্য দেখা যায় না ভবনটিতে, কিন্তু মোগল স্থাপত্যের রেশ চারটি গম্বুজ দেখা যায় ভবনটির শীর্ষদেশে

 

 

সুমন বিশ্বাস: সহকারী স্থপতি, স্থাপত্য অধিদপ্তর, গৃহায়ন গণপূর্ত মন্ত্রণালয়

. এটিএম মাসুদ রেজা: সহযোগী অধ্যাপক, স্থাপত্য বিভাগ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন