বুধবার | মে ২৭, ২০২০ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

টেরাকোটা-পর্ব ৩

বরিশালের জমিদারবাড়ি ও গির্জা

ড. ফাতেমা হেরেন

বাকলা-চন্দ্রদ্বীপ ১৭৫৭ সালে পলাশী যুদ্ধের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে ইংরেজ কোম্পানি শাসনের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। সময়ে নানাবিধ প্রশাসনিক পালাবদল, জমিদারির নতুন মালিকানা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিচারব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদি সামাজিক পটপরিবর্তনের ধারায় অনেক নতুন ভবন নির্মিত হয়। পর্বে আমরা ১৭৫৭ সাল-পরবর্তী বিশ শতকের মাঝপর্ব পর্যন্ত যেসব প্রত্নসূত্রের পরিচয় পেয়েছি, সেসব স্থাপনার বিবরণ তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। মোগল এবং নবাবি শাসন সমাপ্তির পর ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের পটপরিবর্তন হয়। পরিবর্তনের ধারা প্রথম শুরু হয় বাংলা থেকে। যে শাসনামলের ঐতিহাসিক নাম ঔপনিবেশিক শাসনামল। ঔপনিবেশিক শাসনের ক্রমবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় আমাদের বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ে। স্বাভাবিকভাবে বরিশাল অঞ্চল ঔপনিবেশিকতার অধীনে চলে আসে। বিদেশী শাসনের প্রভাবে বরিশাল অঞ্চলের রাজনীতি, প্রশাসন সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানান পরিবর্তন সাধিত হয়। এসব পরিবর্তনের ধারা স্থাপত্য শিল্পেও উল্লেখযোগ্যভাবে লক্ষ করা যায়। সময় তথা আঠারো থেকে বিশ শতক পর্যন্ত স্থাপিত স্থাপনাগুলোর মধ্যে সাধারণত জমিদারবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ভবনসহ পাশ্চাত্য ধর্ম প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রথমেই জমিদারবাড়িগুলো উল্লেখ করা হলো।

কলসকাঠি জমিদারবাড়ি: বর্তমান বাকেরগঞ্জ থানার এই জমিদারবাড়িটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। অঞ্চলের জমিদার জানকী বল্লভ মোগল সুবাদার শায়েস্তা খানের সহযোগিতায় সম্রাট আওরঙ্গজেবের পাঞ্জাযুক্ত সনদপ্রাপ্ত হয়ে পিতার জমিদারিতে নিজ অধিকার প্রতিষ্ঠা করে আওরঙ্গপুর পরগনার মধ্যস্থিত কলসকাঠি গ্রামে নিজ বাসস্থান স্থানান্তর করেন। কলসকাঠি আগমন করে তিনি বিশাল বাসভবন নির্মাণ করেন, যা কলসকাঠি জমিদারবাড়ি নামে পরিচিত। বসতবাড়িসহ তিনি এখানে কয়েকটি মন্দির নির্মাণ করেন এবং মন্দিরে বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেন।

এখানে প্রতিষ্ঠিত বিগ্রহের মধ্যে নীলমাধব বিগ্রহ অন্যতম। এই বিগ্রহটি জানকী বল্লভের পরিবারের কুলদেবতা হিসেবে পূজিত হয়। জানকী বল্লভের পরিবারের অন্যতম সদস্য বরদাকান্ত কলসকাঠিতে গনেশ পূজার সঙ্গে পূজা উপলক্ষে মেলার আয়োজন করেছিলেন বলে কথিত আছে। বর্তমানে জমিদারি সম্পত্তিতে কলসকাঠি ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। তবে জমিদারবাড়ির অভ্যন্তরে সম্রাট আওরঙ্গজেব মুর্শিদকুলি খানের আমলের কয়েকটি দালান আছে। তাছাড়া তত্কালীন জমিদারদের প্রতিষ্ঠিত নীলমাধব, গণেশ, কালী ভগবান শিবের মন্দির রয়েছে ওই বাড়ির অভ্যন্তরে। স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় এসব মন্দিরে নিয়মিত পূজা-

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন