বৃহস্পতিবার | নভেম্বর ১৪, ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

টেরাকোটা-পর্ব ৩

স্বতন্ত্র চরিত্র নিয়ে পুরান ঢাকার মহল্লা

ইফতেখার আহমেদ

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী পাড়া স্থানীয়ভাবে মহল্লা নামে পরিচিত। মহল্লা হলো পুরান ঢাকার মৌলিক দেশীয় শহুরে ইউনিট, যার স্বতন্ত্র পরিচয় চরিত্র বিদ্যমান। এই মহল্লার ধারণা গড়ে উঠেছে কয়েক শতকের কাল পরিক্রমায়। সাধারণভাবে মহল্লা দুই স্তরে বিভাজিত। রাস্তার সম্মুখভাগ (স্ট্রিট ফ্রন্ট) প্রায় ক্ষেত্রে বাজার বা ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে কর্মব্যস্ত থাকে। এটি প্রথম স্তর। অন্যদিকে দ্বিতীয় স্তর আবাসিক মহল্লার ঠিক পেছনে। এটি প্রায়ই বাজারের সম্মুখভাগের পেছনে লুকোনো থাকে। যদিও প্রথম দৃষ্টিতে মহল্লাকে জীর্ণ, সংকীর্ণ গাদাগাদিপূর্ণ লোকালয় বলে মনে হয়, তবে অবশ্যই এটি বাসযোগ্য জায়গা; যেখানে স্থানীয় স্থাপত্যের কিছু চমত্কার উদাহরণ আছে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কারুশিল্পের পণ্যের বাণিজ্যবেষ্টনী বা কেন্দ্র (এনক্লেইভ) হিসেবে গড়ে উঠেছে মহল্লাগুলো। এসব মহল্লা বড় ধরনের সামাজিক-রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আবর্তিত হয়েছে, যদিও কম-বেশি ভৌত আকার প্রায় ক্ষেত্রে অক্ষত বা একই অবস্থায় রয়ে গেছে। মহল্লার গঠন ধারাবাহিকতা প্রায়ই নির্ভর করেছে বিশেষ বা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীগুলোর ওপর, যারা শহুরে সামাজিক-রাজনৈতিক পরিবর্তন মোকাবেলা এবং নিজস্ব ব্যবসায়িক সুবিধায় একত্রে থাকার বাসনা পোষণ করেছে। এভাবে প্রতিটি মহল্লা একটি নিজস্ব স্বতন্ত্র চরিত্র নিয়েছে, যা তাদের ভৌত রূপে প্রতিফলিত হয়েছে। অন্যদিকে মহল্লাগুলোর কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যাকে পুরান ঢাকা নগরবাদ বলা যেতে পারে। বিশেষ স্বতন্ত্র পরিসর বা বেষ্টনী হিসেবে সূচিত হয়ে অধিকাংশ মহল্লা ব্যাপকতর পুনর্নির্মাণের ভেতর দিয়ে গেছে। এটি বিশ শতকের প্রথমাংশ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। পুরান ঢাকার অধিকাংশ বাড়ি ছিল অস্থায়ী প্রকৃতির, কাদা খড় কিংবা ছনের ছাউনি দিয়ে তৈরি। অবশ্য যারা সামর্থ্যবান বা ধনী তাদের বাড়ি ইট কংক্রিটের তৈরি। এসব বাড়ির অনেকটিতে কয়েক বছর ধরে আসল বা মূল জনগোষ্ঠী বাস করে এসেছে, অন্যদিকে অন্য কিছু বাড়ি নতুন জনগোষ্ঠী দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছে।

পুরান ঢাকার মহল্লাগুলো ভিন্ন ভিন্ন স্থানের বিশেষ শিল্পকর্ম, বাণিজ্য কুটির শিল্পের পরিসর বা বেষ্টনী হিসেবে উন্নয়ন হয়েছে। সেগুলোকে নিজস্ব নাম দিয়ে চিহ্নিত করা যেতে পারে, যা জনগোষ্ঠীর পেশা নির্দেশ করে। তাদের কিছু কিছু বসবাসকারী জনগোষ্ঠী হিসেবে বর্তমানকাল পর্যন্ত বাস করছে। মহল্লার বিশেষায়ণ প্রকাশকারী কিছু নাম হলো শাঁখারীবাজার (বিশেষ শাঁখের বাজার), কুমারতলী (কুমোরদের পাড়া/মহল্লা), তাঁতীবাজার (তাঁতীদের বাজার), বানিয়ানগর (বণিকদের জায়গা), চুড়িহাট্টা (চুড়ির বাজার) প্রভৃতি।

নাম থেকেই বোঝা যায়, মহল্লাগুলো খুব ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত সম্প্রদায়ের বিশেষায়িত কারিগর, কারুশিল্পী ব্যবসায়ীদের আবাসস্থল হিসেবে শুরু হয়েছে। এসব সম্প্রদায়ের অনেকেই পরবর্তী সময়ে ভারতে চলে গেছে। এক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে পরিবর্তনশীল সামাজিক, অর্থনৈতিক রাজনৈতিক অবস্থা। তবে একটি বিষয় উল্লেখযোগ্য, নতুন সম্প্রদায় দ্বারা প্রতিস্থাপিত হলেও আশ্চর্যজনকভাবে অধিকাংশ মহল্লায় আসল সম্প্রদায়গত বন্ধন বরাবরই বজায় থেকেছে। ঘনবসতিপূর্ণ এসব শহর এলাকায় বসবাসকারী সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সামাজিক যোগাযোগ এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক নানা বিষয়ে সাহায্যের পারস্পরিক নির্ভরতা থেকে মূলত বন্ধন সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামীণ সম্প্রদায়গুলোর মধ্যকার সামাজিক বন্ধন সফলভাবে প্রথম দিককার নগর বসতিতে অভিযোজিত হয়েছিল। সম্প্রদায়গুলোর ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা কারুশিল্প, বাণিজ্য বিনিময় কিংবা সুনির্দিষ্ট ধর্মের মাধ্যমে এসেছে। পুরনো শহর কাঠামোয় সমকালীন নগর সুবিধার ঘাটতি সত্ত্বেও জনগোষ্ঠীর সদস্যরা পুরান ঢাকার এসব মহল্লায় থাকা অব্যাহত রেখেছে। এর প্রধান কারণ মানসিক স্বস্তি, যা তারা তাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে পেয়েছে। মহল্লায় কীভাবে সামাজিক-রাজনৈতিক ডিনামিকস কাজ করে তা বুঝতে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মহল্লায় বাস করা জনগোষ্ঠীর সমাজতাত্ত্বিক দিক বিশেষায়িত কারুকর্ম বা বাণিজ্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত, যা পাড়া বা মহল্লার পরিচয় দান করে। নগরের ইতিহাস যেমনটা বলে, ভৌত অবয়ব কম-বেশি অপরিবর্তিত থাকলেও অধিকাংশ মহল্লা সামাজিক বিবর্তনের দীর্ঘ ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছে। বসবাসকারী ঘনিষ্ঠ জনগোষ্ঠীগুলো পরিবর্তনশীল সামাজিক-সাংস্কৃতিক চাহিদার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে।

পুরান ঢাকার মহল্লাগুলোর প্রতিবেশীদের মধ্যে আত্মীয়স্বজনের মতো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান, যা বাঙালি সংস্কৃতির অত্যাবশ্যক অংশ। সম্প্রদায়গুলো কর্তৃক মহল্লাগুলো সৃষ্টি হয়েছে কয়েক শতকের পরিক্রমায় এবং এতে নিজেদের প্রতিদিনকার সামাজিক কর্মকাণ্ড, রুচি, জীবনযাপন পদ্ধতি, পছন্দ প্রভৃতির প্রতিফলন ঘটে। বসবাসরত জনগোষ্ঠী প্রতিবেশীদের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্ক স্থানিক গঠন এবং মহল্লার সামাজিক পরিসর সম্মিলিত ব্যবহারের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায়। স্থানিক গঠন সফলভাবে বাঙালির জীবনপদ্ধতি পছন্দের প্রতিফলন ঘটায় এবং এটি দীর্ঘ সময় ধরে সামাজিক-সাংস্কৃতিকভাবে টেকসই প্রমাণিতও হয়েছে। এটি বৃহত্তর নগর অবয়ব থেকে শুরু করে নির্মিত স্থাপনার ভৌত লেআউটে বাহিত হয়ে এসেছে এবং তা হয়েছে অনুপুঙ্খভাবে। একটি প্রাক-পরিকল্পিত ধারণার চেয়ে সমাধান এসেছে সমস্যার স্বতঃস্ফূর্ত বা তাত্ক্ষণিক সমাধান থেকে এবং সেটি এসেছে স্থানীয়দের ঐতিহ্যিক জ্ঞান-প্রজ্ঞার সহায়তায়। এটি একটি স্থাপত্যিক ভাষা সৃষ্টি করেছে, যা এলাকায় অভিনব। মহল্লার বেশির ভাগ সাধারণ বা সামষ্টিক পরিসর সাংস্কৃতিক ধর্মীয় উৎসব-অনুষ্ঠান উদযাপনের জন্য সৃষ্টি হওয়ায় এমনকি ক্ষুদ্র নগর পরিসর শেয়ারিংয়েও সামাজিক সংহতি দেখা যায়। যেহেতু পরবর্তী সময়ে পরিবারগুলো প্রজন্মের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়েছে, সেহেতু সিঁড়ি বা উঠোনের মতো ক্ষুদ্র স্থাপত্যিক উপাদানগুলো ভাগাভাগি করতে হয়েছে সবাইকে। একটি সাধারণ সামাজিক ভাগাভাগি (কমন সোশ্যাল শেয়ারিং) সম্ভব কেবল সম্প্রদায়গত বন্ধনের উপস্থিতির মাধ্যমে। সাধারণ বা সামষ্টিক পরিসরের এই ভাগাভাগি এভাবে মহল্লার নগর অবয়বে বৃহত্তর কম্প্যাক্টনেস রাখতে সমর্থ হয়েছে।

আগের শহুরে পরিবারগুলো ছিল গ্রামীণ আঙিনাভিত্তিক বসতি (কোর্টইয়ার্ড সেটেলমেন্টের) থেকে অনুপ্রাণিত রেপ্লিকা। বাড়িগুলো নির্মাণ করা হয়েছিল কাদামাটি আর খড় বা ছনের ছাউনি দিয়ে। সেগুলোর গঠন বাঙালি জীবনযাত্রার প্রকৃত প্রতিফলন। ইটের স্থাপনাগুলোয় সাধারণত উঠোন বা চত্বরের মতো সম্মিলিত সামাজিক পরিসরের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এই শ্রেণীবিভাজন (টাইপোলজি) বিশ শতকের প্রথমার্ধ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। পরিবর্তনশীল জীবনযাপন পদ্ধতির পছন্দ এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক চাহিদার সঙ্গে স্থানিক গঠন অভিযোজন করা হয়েছিল। মৌলিক স্থানিক গঠন একই থাকলেও কাদামাটি খড়ের পরিবর্তে ইটের প্রতিস্থাপনসহ উপকরণের ব্যবহার অধিক স্থায়ী ছিল। পরবর্তী সময়ে নতুন নির্মাণ প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে বাড়িগুলো বহুতল হয়েছিল, কিন্তু বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রাধিকারগুলো সমন্বয়ে স্থানিক গঠন বরাবরই বজায় থেকেছে।

ঐতিহ্যবাহী পাড়া বা মহল্লাগুলোকে গঠনকারী উপাদানগুলোকে ভৌত এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক স্তরে ভাগ করা যেতে পারে। সামাজিক-সাংস্কৃতিক স্তরের অধরা/নির্বস্তুক (ইনটেনজিবেল) উপাদানগুলো ভৌত স্তরের উপাদানগুলোয় প্রতিফলিত হয়। সামাজিক-সাংস্কৃতিক স্তরের উপাদানগুলো মহল্লার দীর্ঘ ইতিহাসের মধ্য দিয়ে বিবর্তিত হয় এবং তা জনগোষ্ঠীর প্রতিদিনের জীবনযাপন পদ্ধতি, কারুকর্ম, সমন্বিত রীতি, অর্থ, পরিচয় সামষ্টিক স্মৃতির সঙ্গে অবয়ব নেয়। এভাবে এগুলো ভৌত স্তরের উপাদানগুলোয় প্রতিফলিত হয়, যেটি সামাজিক পরিসরের স্থানিক আয়োজনকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং যা একই সঙ্গে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর প্রত্যাশার প্রতিফলনও বটে। ভৌত স্তরের অন্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ইমারতের রূপ, অভিযোজিত স্থাপত্যরীতি, উপকরণের ব্যবহার, ডিটেইলস প্রভৃতি।

জনগোষ্ঠী, মহল্লা সেগুলোর স্তর সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত হয়। স্তরগুলো নতুন স্তরের সঙ্গে পাশাপাশি থাকে কিংবা আরোপিত হয়। সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিবর্তনের এই ধীর ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় টিকে থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলো স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য হিসেবে থেকে যায়। সেগুলো সুনির্দিষ্ট মহল্লার পরিচয়ে পরিণত হয়। যখন দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক-সাংস্কৃতিক উপাদানগুলো সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়, ভৌত উপাদানগুলো তখন স্থাপত্যিক ঐতিহ্য হিসেবে গণ্য হয়।

পুরান ঢাকার আবাসিক ভবনের কিছু শ্রেণীবিভাজনের মধ্যে মহল্লায় আঙিনাসহ বাড়ির একটি দৃঢ় উপস্থিতি বিদ্যমান। উন্মুক্ত আঙিনাগুলো (অন্য উন্মুক্ত পরিসরও) সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রভাবের কারণে গঠিত পরিসরের ভালো উদাহরণ। গ্রামীণ আঙিনা সফলভাবে নগর অবয়বে অভিযোজিত হয়েছে প্রধানত সামাজিক-সাংস্কৃতিক মিথস্ক্রিয়া সহজতর করার জন্য। প্রাত্যহিক জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়গত মিথস্ক্রিয়ার অত্যাবশ্যক পরিসর হওয়া ছাড়াও ধরনের আঙিনা বা চত্বর বিশেষ সাংস্কৃতিক ধর্মীয় উৎসব-অনুষ্ঠান উদযাপনের স্থানও। মহল্লার পারিসরিক গঠন এবং সম্প্রদায়ের সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড কীভাবে একে অন্যের পরিপূরক হতে পারে, এসব আঙিনাই হলো তার সফল উদাহরণ। সম্মিলিত সামাজিক পরিসরগুলো কেবল জনগোষ্ঠীর সামাজিক পরিবেশের সঙ্গে গঠিত একীভূত নয়, উপরন্তু সেগুলো প্রায় ক্ষেত্রে অনানুষ্ঠানিক কমিটির মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠী দ্বারা গভীরভাবে পরিচালিত রক্ষণাবেক্ষণ হয়।

পরিবর্তনশীল চাহিদা প্রয়োজনের সঙ্গে কয়েক শতকের আবর্তনে নগর অবয়ব গঠিত পুনর্গঠিত হয়ে এসেছে। দালানগুলোয় ছোট অলংকারমূলক পরিবর্তন থেকে সম্প্রসারিত এলাকার ব্যাপকতর পুনঃউন্নয়নসহ ভৌত অবয়বের পরিবর্তন অনেক রকম রূপ পরিগ্রহ করে। সৌভাগ্যক্রমে কিছু ভবন বাড়তি রাস্তার ব্যতিক্রমসহ নগর অবয়ব সার্বিক ভৌত রূপ কম-বেশি অপরিবর্তনীয় রয়ে গেছে। যদিও আসল দালানগুলোর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পরবর্তী সময়ে পরিবর্তন বা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, শতাব্দী প্রাচীন মৌলিক স্থাপত্যের কিছু ভালো উদাহরণ এখনো বিদ্যমান। কিছু ক্ষেত্রে যদিও ভৌত অবয়ব পরিবর্তিত হয়েছে, সাধারণভাবে মহল্লার পারিসরিক বোধ অপরিবর্তনীয় রয়ে গেছে। (ভাষান্তর: হুমায়ুন কবির)

 

ইফতেখার আহমেদ: সহযোগী অধ্যাপক, স্থাপত্য বিভাগ

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়   

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন