শুক্রবার | জুলাই ০৩, ২০২০ | ১৮ আষাঢ় ১৪২৭

টেরাকোটা-পর্ব ৩

ভবনে সাংস্কৃতিক প্রভাব

জাকিয়া রহমান ঋতা

সোনার বাংলা বলে একসময় বাংলার সুখ্যাতি ছিল। কাজল মাটির বাংলার রূপ-গুণ সমৃদ্ধির আকর্ষণে দেশে এসেছে নানা দেশের পর্যটক, ভাগ্যান্বেষণে এসেছে অনেক ব্যবসায়ী, শাসন করতে এসেছে ভিনদেশী জাতি। প্রথমে উপমহাদেশ এবং ক্রমান্বয়ে তত্কালীন বাংলায় বাণিজ্যের পথ সুগম করে দেন পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো ডা গামা। ১৪৯৭ সালে ভারতের কালিকট বন্দরে তার আগমনের মধ্য দিয়ে উপমহাদেশে বহির্বাণিজ্যের দরজা খুলে যায়। আস্তে আস্তে বিদেশী বণিক সম্প্রদায় বাংলার অফুরন্ত সম্পদ সমৃদ্ধির সুযোগের প্রতি বিশেষভাবে আকৃষ্ট হয় এবং ইউরোপের নানা স্থান থেকে তারা দেশে আসতে শুরু করে। মোগল যুগে বাংলার শিল্প উৎপাদনের ক্ষেত্রে এক সার্বিক উন্নতি সাধন হয় মাটিতে। ফলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিও পথ ধরেই বাংলায় তাদের কার্যক্রম শুরু করে। পর্তুগিজ ইংরেজ ছাড়াও তখন এসেছিল ফরাসি, ওলন্দাজ, আর্মেনীয়, গ্রিক প্রভৃতি ইউরোপীয় জাতি। এসব বিদেশীর দল ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর  তাদের আধিপত্য বিস্তার লাভ করতে থাকে। ১৬৯০ সালে জব চার্নক কলকাতার গোড়াপত্তন করেন। এভাবে ইউরোপীয় বণিকরা ক্রমে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি অতিক্রম করে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তাদের উপস্থিতিকে প্রকাশ করতে থাকে। ঔপনিবেশিক শাসন শুরু হয় মূলত ১৭৫৭ সালে, যখন সে সময়ের বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার (ওড়িশা) শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলা নির্মমভাবে পরাজিত নিহত হন মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতা ইংরেজদের কুচক্র বিচক্ষণতার কারণে। এভাবে ইংরেজদের সংস্পর্শে এসে বাংলার মধ্যযুগের অবসান হয়, শুরু হয় ঔপনিবেশিক শাসন; যা স্থায়ী হয় প্রায় দীর্ঘ ২০০ বছর। তবে আধুনিক যুগে এসেও ইংরেজ শাসনের সেই প্রভাব সমাজের বিভিন্ন স্তরে কতটুকু কার্যকর ছিল বা এখনো আছে, তা কিন্তু ভাবার বিষয়!

কোম্পানি শাসন প্রতিষ্ঠার পর ক্রমে সোনার বাংলার জ্যোতি সমৃদ্ধি যেন নিঃশেষ হতে থাকে। ঘটে ভয়ানক দুর্ভিক্ষ বা ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (বাংলা ১১৭৬, ইংরেজি ১৭৭০) শাসকগোষ্ঠীর হাতে পরিবর্তিত হতে থাকে বাংলার চিত্রপট, তত্কালীন রাজধানী ঢাকার সার্বিক প্রেক্ষাপট। আবহমান কাল ধরে শাসকশ্রেণী কিংবা সমাজের প্রভাবশালী সম্প্রদায় স্থাপত্যের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতা, আধিপত্য এবং সে সময়ের সামাজিক-অর্থনৈতিক আবহকে প্রতিফলিত করতে সচেষ্ট হয়েছে। ঔপনিবেশিক আমলেও এর তারতম্য ঘটেনি। তাই বাংলাদেশের নানা জেলায় দেখা যায় উপনিবেশ বাংলার বিচিত্র স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন। তবে ২০০ বছরের শাসনামলে অন্যান্য উপনিবেশগোষ্ঠী অপেক্ষা ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী নির্মিত ইমারতগুলো বেশি দৃশ্যমান। ঢাকা রাজধানী এবং প্রধান একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর হওয়ায় নগরে রয়েছে এসব ঐতিহাসিক নিদর্শনের বিচিত্র সমাহার।

মোগল আমলের সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ঢাকায় ইউরোপীয়দের আগমন উজ্জীবিত হতে থাকে। পর্তুগিজ বণিকরা প্রথম ইউরোপীয়, যারা ঢাকায় বাণিজ্যের জন্য আগমন করে। পর্তুগিজ ওলন্দাজদের পরে আসে ইংরেজরা। সম্ভবত সপ্তদশ শতকের প্রথম দিকেই পর্তুগিজরা শহরে আসে এবং ঢাকার নিকটবর্তী শ্রীপুরে বসতি স্থাপন করে। পরে অবশ্য ইসলামপুর, শরাফতগঞ্জ নবাবপুরে

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন