শুক্রবার | ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

শেষ পাতা

শর্তসাপেক্ষে ফরিদপুর সিটি করপোরেশনের অনুমতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

নতুন সাতটি থানা এবং একটি পৌরসভা করার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) একই সঙ্গে বিভাগ হওয়ার শর্ত দিয়ে ফরিদপুরকে সিটি করপোরেশন করার প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত নিকারের সভায় অনুমোদন দেয়া হয়। পরে সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ফরিদপুর সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবে শর্তসাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে নিকার। নীতিগত সিদ্ধান্ত হলো, বিভাগীয় সদর দপ্তরই হবে সিটি করপোরেশন। ফরিদপুর এখনো বিভাগীয় শহর হয়নি। যখন বিভাগীয় শহর হবে, তখন থেকেই ফরিদপুর সিটি করপোরেশন কার্যকর হবে।

কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ গাজীপুর বিভাগ না হওয়া সত্ত্বেও সিটি করপোরেশনের মর্যাদা পাওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এটা অতীতে হয়ে গেছে, ভবিষ্যতে হবে না। গাইডলাইন হলো বিভাগীয় সদর হলে ওখানে সিটি করপোরেশন হবে। এটা ভবিষ্যতের জন্য অনুসরণীয়।

নিকার সভায় অনুমোদন পাওয়া নতুন সাত থানা হলো চুয়াডাঙ্গার দর্শনা, পদ্মা সেতুর দুই পাড়ে উত্তর দক্ষিণ থানা, ঠাকুরগাঁও সদর থানার একটি অংশে ভুল্লী নামে নতুন থানা, নোয়াখালী জেলার হাতিয়ার ভাসানচরে নতুন থানা, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়াকে বিভক্ত করে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া নামে নতুন থানা, কক্সবাজার সদর থানাকে ভাগ করে ঈদগাঁ থানা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, গোপালগঞ্জ পৌরসভা এবং বাগেরহাটের মোংলা বন্দর পৌরসভার সীমানা সম্প্রসারণ, নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ পৌরসভার সীমানা সংকোচনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয় সভায়। সোনারগাঁয়ের কিছু অংশ বেজার মধ্যে পড়ে গেছে। নিয়ম হলো পৌরসভায় বেজা থাকতে পারবে না। এজন্য পৌরসভা থেকে তা বাদ দেয়া হয়েছে। এছাড়া সিলেট জেলার বিশ্বনাথে পৌরসভা গঠন এবং গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর পৌরসভার সীমানা সম্প্রসারণের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার সদর দপ্তর ছত্রখিলে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাবে নিকার অনুমোদন দিয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আদর্শ সদর উপজেলার উপজেলা পরিষদ ভবনাদি সিটি করপোরেশনের মধ্যে পড়ে গেছে। এজন্য এটাকে সিটি করপোরেশন থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের কাজিহাট থানার প্রশাসনিক সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। একটা অংশ ছিল, যেটাকে একীভূত করে দেয়া হয়েছে।

গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে মন্ত্রণালয় বিভাগগুলোর ২০১৮-১৯ অর্থবছরের কার্যাবলি সম্পর্কিত বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে সরকারের বিভিন্ন খাতের অগ্রগতি অর্জনের তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবদনে বলা হয়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় হাজার ৭৫১ ডলার থেকে বেড়ে হাজার ৯০৯ ডলারে উন্নীত হয়েছে। রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ কোটি ৫১ লাখ ৮৩৬ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৬ দশমিক ২৯ শতাংশ। পণ্য সেবা খাতে বাংলাদেশের রফতানির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার। এর আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিমাণ দশমিক ৮৮৯ বিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের তুলনায় ৫০ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেশি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বেপজায় বিনিয়োগ এসেছে ৩৩৩ দশমিক ৩২ মিলিয়ন ডলার। বেপজাধীন আটটি রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (ইপিজেড) ৪৫৮টি চালু শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ১৯ হাজার ৫৪৮ জন বাংলাদেশী নাগরিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাঠানো বৈধপথে প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) পরিমাণ ১৬ দশমিক ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। লাখ ৫৯ হাজার ১২৯ জন বাংলাদেশী কর্মী বৈদেশিক কর্মসংস্থান লাভ করে।

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মোট ২৩টি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব সভায় ৩১৮টি প্রকল্প অনুমোদিত হয়। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে হাজার ৯৭৮টি প্রকল্পে ব্যয় হয় লাখ ৬৬ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা, যা বরাদ্দের ৯৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) সমাপ্তিযোগ্য ৩৪৫টি প্রকল্পের মধ্যে ৩১৭টি প্রকল্প সমাপ্ত হয়।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে দারিদ্র্যের হার ২৩ দশমিক শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে ২১ দশমিক শতাংশে এবং চরম দারিদ্র্যের হার ১২ দশমিক শতাংশ থেকে কমে ১১ দশমিক শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

কৃষি উৎপাদনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সার, বিদ্যুৎ, ইক্ষু ইত্যাদি খাতে ৭৬৯৩ দশমিক ৪৭৮৪ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়া হয়। ২০১৮ সালের কোরবানি পশুর চাহিদা শতভাগ দেশীয় গরুর মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব হয়। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সর্বমোট ১৫ দশমিক ২২৪ লাখ টন খাদ্যশস্য অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সংগৃহীত হয়। দেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে ১০ টাকা কেজি দরে মোট ৫০ লাখ পরিবারের মধ্যে ৩০ কেজি করে সর্বমোট লাখ ৫০ হাজার টন খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিদ্যুৎ সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠী শতকরা ৯০ শতাংশ থেকে বেড়ে শতকরা ৯৪ শতাংশে উন্নীত হয়। কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) টার্মিনাল স্থাপন করা হয় এবং তা সরবরাহ শুরু হয়। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের প্রথম দ্বিতীয় ইউনিটের কোর কার্টার স্থাপন করা হয়।

৩০ দশমিক শূন্য কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ; ৮৯৪ দশমিক ৭২ কিলোমিটার মহসড়ক সার্ফেসিং; হাজার ৬৩৬ দশমিক ৬০ কিলোমিটার মহাসড়ক প্রশস্তকরণ; ১২৮টি সেতু ৫৬১টি কালভার্ট নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়। ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ (এমআরটি লাইন-) বাংলাদেশে প্রথম উড়াল মেট্রোরেলের পূর্তকাজের গড় অগ্রগতি ৪৬ দশমিক শতাংশ। পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের মূল সেতুর ৮১ শতাংশ ভৌত অগ্রগতি সাধিত হয়। রাজশাহী-ঢাকা রুটে আন্তঃনগর বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেন, পঞ্চগড়-ঢাকা রুটে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেন চালু করা হয়। দুটি ৭৮৭- উড়োজাহাজ বিমানবহরে সংযোজিত হয়। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ নৌপথের প্রায় ১৩৯ দশমিক ৬৩ লাখ ঘনমিটার সংরক্ষণ ড্রেজিং এবং ৪১৫ দশমিক শূন্য ঘনমিটার উন্নয়ন ড্রেজিং সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় সরকার বিভাগ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৫৮টি উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ, ১১০টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ, হাজার ৪০০ কিলোমিটার উপজেলা, ইউনিয়ন গ্রাম সড়ক নির্মাণ করা হয়। ৩৬তম বিসিএসের মাধ্যমে হাজার ২৫২ জন এবং ৩৭তম বিসিএসের মাধ্যমে হাজার ২২৪ জন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দেয়া হয়।

নবম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ডের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে ৪৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা সুবিধা দেয়া হয়।

দেশে টেলিডেনসিটি ৯৮ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং ইন্টারনেট ডেনসিটি ৫৭ দশমিক ৩৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সি গঠন, ইউনিয়ন পর্যায়ে ফাইবার অপটিক কানেক্টিভিটি স্থাপন, ফোর টিয়ার ডাটাসেন্টার স্থাপন, সফটওয়্যার কোয়ালিটি পরীক্ষাকরণ সার্টিফিকেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠাকরণ, উদ্ভাবন উদ্যোক্তা উন্নয়ন একাডেমি প্রতিষ্ঠাকরণসহ ২৩টি হাই-টেক পার্ক স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে ৯৪টি হাসপাতালে উন্নতমানের টেলিমেডিসিন কার্যক্রম চালু করা হয়। নওগাঁ, নীলফামারী, মাগুরা, চাঁদপুর নেত্রকোনায় একটি করে মোট পাঁচটি সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হয়।

২০১৯ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের ৩৫ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৮২ কপি পাঠ্যপুস্তক বিনা মূল্যে বিতরণ করা হয়। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৯৭টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সরকারি করা হয়। শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। কারিগরি শিক্ষায় এনরোলমেন্ট শতাংশের কম থেকে ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশে উন্নীত হয়।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নামে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ঢাকা অঞ্চলের একমাত্র নৌ-অপারেশনাল ঘাঁটি বানৌজা শেখ মুজিব কমিশনিং করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর ১০টি বিশেষ উদ্যোগ শেখ হাসিনা বিশেষ উদ্যোগ ব্র্যান্ডিং এবং ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পগুলোর ত্বরিত বাস্তবায়ন কাজ নিবিড়ভাবে তদারকি অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হিউম্যানিটেইন অ্যাওয়ার্ড, স্পেশাল ডিশটিংশন অ্যাওয়ার্ড ফর লিডারশিপ, ভ্যাকসিন হিরো চ্যাম্পিয়ন অব স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফর ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড- ভূষিত করা হয়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীকে . কালাম স্মৃতি ইন্টারন্যাশনাল এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০১৯ এবং টেগর পিস অ্যাওয়ার্ড- ভূষিত করা হয়।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন