বৃহস্পতিবার | নভেম্বর ১৪, ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

প্রথম পাতা

ভোলার ঘটনার পেছনে উদ্দেশ্য কী: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফেসবুকে অপপ্রচারণাকে কেন্দ্র করে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় তাওহিদী জনতার ব্যানারে মানুষ সমবেত করার পেছনে উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ফেসবুকে নানা ধরনের অপপ্রচার সব জায়গায় ছড়ানো হচ্ছে অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য। এরা কারা? এদের উদ্দেশ্যটা কী?

গতকাল গণভবনে আওয়ামী যুবলীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের আগে নিজের সূচনা বক্তব্যে প্রশ্ন ছুড়ে দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোলার বোরহানউদ্দিনে একটি হিন্দু ছেলের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে তার নাম দিয়ে কতগুলো মিথ্যাচার করা হয়েছে। ফেসবুক হ্যাককারী আবার ফোন করে ২০ হাজার টাকা চেয়েছে তার কাছ থেকে। টাকা না দিলে তার ফেসবুক আইডিতে ক্ষতিকর কথা লিখবে বলে হুমকি দিয়েছে। হুমকি পাওয়ার পরপরই ওই হিন্দু ছেলেটা পুলিশ স্টেশনে গিয়ে একটা জিডিও করেছে। জিডি করা সত্ত্বেও তাকে কিন্তু পুলিশ আটক করে রেখেছে। সঙ্গে সঙ্গে যে টেলিফোনটা করেছিল, তাকেও আটক করা হয়েছে। কিন্তু ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে গেছে।

তিনি বলেন, হিন্দু ছেলেটার আইডি হ্যাক করে তার নাম দিয়ে যে লিখেছে, সে তো একজন মুসলমান ছেলে। একজন মুসলমান হয়ে কীভাবে নবী করিম (সা.) নিয়ে ধরনের বাজে কথা লেখে? আবার সেই কথাকে কেন্দ্র ধরে সেখানকার লোক একজন পীর সাহেব বেশকিছু লোক জড়ো করে ফেলে। যখন পুলিশ তাদের বোঝাচ্ছে আপনারা এগুলো করবেন না, আমরা তাকে গ্রেফতার করেছি, আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি, তখন পুলিশের ওপর চড়াও হয় তারা। পুলিশের ওপর চড়াও হলে পুলিশ নিজেদের বাঁচানোর জন্য একটা ঘরে আশ্রয় নেয়। আশ্রয় নেয়ার পরও তারা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। সেখানে একজন এসআইয়ের গায়ে গুলি পর্যন্ত লাগে। ততক্ষণে সেখানে এসপি, ডিসি সবাই পৌঁছে যায়। নিজেদের এবং অন্যান্য সাধারণ মানুষ যারা ছিল সেখানে, যারা তাদের বোঝাতে গিয়েছিল, তাদের রক্ষার জন্য গুলি ছোড়ে পুলিশ। ফলে অনেকজন আহত হয়। এর মধ্যে তিনজনের মৃত্যু কনফার্ম করা হয়েছে। বলা হয়েছে, আরেকজনের অবস্থা মুমূর্ষু।

শেখ হাসিনা বলেন, যারা ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়, আমরা অন্তত তাদের উদ্দেশ্য খুঁজে বের করব এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দেশে একটা অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য এসব ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করা হয়। যখনই দেখা যায় দেশটা একটু ভালোভাবে চলছে, অগ্রগতি হচ্ছে, তখনই একটা শ্রেণী আছে নানাভাবে একটা অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়। এটা যেন কোনোভাবে করতে না পারে, সেজন্য আমি সাধারণ মানুষের কাছে সহযোগিতা চাই। দেশবাসীর কাছে আমার একটাই আহ্বান থাকবে, সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। কেউ যদি আমাদের নবী করিমের (সা.) বিরুদ্ধে কিছু লিখে থাকে, নিশ্চয়ই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অন্যের ক্ষতি করার জন্য যারা ধরনের কথা লিখবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, টেকনোলজি মানুষ যেমন ব্যবহার করতে পারে, আবার কেউ অপকর্ম করলে সেটা ধরার টেকনোলজিও আছে। এটা ধরা পড়বে। কারণ ছেলে যদি টেলিফোন করে টাকাটা না চাইত, তাহলে তাকে খুঁজে বের করা মুশকিল হতো। ধরনের ঘটনা যারা ঘটাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেও আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব। পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেছে। আরো যারা আছে, আমরা তাদের গ্রেফতার করব। আমরা ফেসবুক অথরিটির সঙ্গে যোগাযোগও করেছি। তারা আমাদের তথ্য দেবে বলে জানিয়েছেন। আরো তথ্য আমরা বের করতে পারব।

গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবসময় সব জিনিস একেবারে ধারাবাহিক এমনভাবে প্রচার করবেন না, যা অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে। বরং যারা সত্যিকার অপরাধী তাদের দেখান।

তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ করে দিয়েছি, ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল যেমন মানুষ ভোগ করছে, সে রকম এর কুফলও ভোগ করছে। এটি নানা ধরনের বিপদে ফেলে দেয়। এটা যেন বিপদে ফেলতে না পারে অর্থাৎ গুজবে কান না দিয়ে সঠিক বিষয় জেনে নেয়া দরকার।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের যতগুলো সহযোগী সংগঠন আছে, তাদের সবার যেন একে একে সম্মেলন হয়, সেই পদক্ষেপ নিয়েছি। আমরা তারিখ নির্ধারণ করে দিয়েছি। অনেক সময় নানা কারণে সম্মেলন দীর্ঘায়িত হয়ে যায়। আজকে যুবলীগের সঙ্গে বসেছি। পর্যায়ক্রমে সবার সঙ্গে বসব। যুবলীগের সম্মেলন খুব সামনে। সম্মেলনের আগে আমাদের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি করতে হবে। যাতে করে সম্মেলনগুলো ভালোভাবে সুষ্ঠুভাবে হয়। সব সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন যাতে নভেম্বরের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। আমরা ডিসেম্বরে আমাদের সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। ডিসেম্বরের মধ্যে আমাদের আওয়ামী লীগের সম্মেলন সম্পন্ন হবে। নিয়মতান্ত্রিকভাবে সম্মেলন হলে সংগঠন চাঙ্গা হয়, সংগঠনের গতি বাড়ে এবং সংগঠন এগিয়ে যেতে পারে। আমাদের সহযোগী সংগঠনগুলো আরো সুসংগঠিত হোক, সেটাই আমরা চাই।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন