শনিবার | নভেম্বর ২৩, ২০১৯ | ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

শেষ পাতা

বাসের ভাড়া বাড়াতে তৎপর বিআরটিএ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাসের ভাড়া বাড়াতে চান পরিবহন মালিকরা। তাদের যুক্তি, জ্বালানি পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লোকসান হচ্ছে। তাই বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছে ভাড়া বৃদ্ধির আবেদন করা হয়েছে। মালিকপক্ষের আবেদন আমলে নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছে বিআরটিএ। যাত্রীবাহী মোটরযানের ভাড়া পুনর্নির্ধারণের জন্য গঠিত বিআরটিএর সংশ্লিষ্ট কমিটি এরই মধ্যে দুটি সভাও করেছে।

বিআরটিএর কর্মকর্তারা বলছেন, ভাড়া বাড়ানোর জন্য মাঠ পর্যায় থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এরপর বিস্তারিত আলোচনার জন্য মন্ত্রণালয়ে (সড়ক পরিবহন সেতু মন্ত্রণালয়) পাঠানো হবে। অনুমোদন সাপেক্ষে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করবে বিআরটিএ।

ঢাকাসহ সারা দেশে স্বল্প দূরপাল্লার রুটে বাস ভাড়া বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির প্যাডে গত জুন বিআরটিএতে একটি আবেদন করা হয়। মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ স্বাক্ষরিত ওই আবেদনে বলা হয়, ঢাকা আশপাশ এলাকায় চলাচলরত ৪০ শতাংশ বাস-মিনিবাস সিএনজিতে চলে। সিএনজিচালিত বাস-মিনিবাসের ভাড়া সর্বশেষ নির্ধারণ হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর কয়েক দফা বেড়েছে সিএনজির দাম। কারণে বেড়েছে সিএনজিচালিত বাসের পরিচালন ব্যয়।

আবেদনে আরো বলা হয়, চার বছর ধরে ডিজেলচালিত যানবাহনের ভাড়া বাড়ানো হয়নি, যদিও কয়েক দফায় বেড়েছে ডিজেলের দাম। কারণে দেশের পরিবহন মালিকরা লোকসানের মুখে পড়ছেন। তাই ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয় ওই আবেদনে।

ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে মালিক সমিতির মহাসচিব এনা পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বণিক বার্তাকে বলেন, চার-পাঁচ বছর ধরে বাস-মিনিবাসের ভাড়া বাড়েনি। অথচ সময়ে যানবাহনের জ্বালানি থেকে শুরু করে হালকা ভারী যন্ত্রাংশ সবকিছুরই দাম বেড়েছে। আগে যে চালককে ট্রিপপ্রতি ৪০০-৫০০ টাকা মজুরি দিতে হতো, এখন দেয়া লাগছে কমবেশি হাজার টাকা। শ্রমিকদের বেতন বেড়েছে। শুধু আগের অবস্থায় রয়ে গেছে ভাড়ার পরিমাণ। বাস মালিকদের একটা বড় অংশ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করছেন। নিয়মিত লোকসানের কারণে ঠিকমতো তারা ঋণ পরিশোধও করতে পারছেন না। তাই আমরা বাস ভাড়া বাড়ানোর আবেদন করেছি।

বর্তমানে আন্তঃজেলা দূরপাল্লার রুটে কিলোমিটারপ্রতি বাস ভাড়া আদায় করা হচ্ছে টাকা ৪২ পয়সা। ঢাকা চট্টগ্রাম মহানগরে কিলোমিটারপ্রতি আদায় করা হচ্ছে টাকা ৬০ পয়সা। নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর ঢাকা জেলায়ও কিলোমিটারপ্রতি একই হারে ভাড়া আদায় হচ্ছে। বাসের সর্বনিম্ন ভাড়া টাকা মিনিবাসের টাকা। ২০১৬ সালের ১৫ মে থেকে ভাড়া কার্যকর করে বিআরটিএ। যদিও যাত্রীদের অভিযোগ, বিআরটিএর বেঁধে দেয়া ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা আদায় করছে পরিবহন কোম্পানিগুলো। বিভিন্ন রুটে সরেজমিন ঘুরে অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে। তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ বরাবরের মতোই অস্বীকার করেছেন পরিবহন মালিকরা।

বাস ভাড়া পর্যালোচনার জন্য বিআরটিএর একটি কমিটি রয়েছে, যার আহ্বায়ক বিআরটিএর চেয়ারম্যান। এর বাইরে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) প্রতিনিধি, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিসি) প্রতিনিধি, বিআরটিএর পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং), সড়ক বিভাগের উপসচিব, রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) প্রতিনিধি, সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মহাসচিব, ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রয়েছেন কমিটির সদস্য হিসেবে।

বিআরটিএতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এরই মধ্যে কমিটির দুটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব সভায় ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। কমিটির এক সদস্য বণিক বার্তাকে জানান, বিষয়টি এখন পুরোপুরি মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভরশীল। শিগগিরই কমিটির সুপারিশ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলে প্রজ্ঞাপন জারি করে ভাড়া বাড়ানো হবে। তবে কমিটি কী পরিমাণ ভাড়া বাড়ানোর সুপারিশ করেছে, সে সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে বিআরটিএর পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) লোকমান হোসেন মোল্লা বণিক বার্তাকে বলেন, বাস-মিনিবাসের ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি বেশ স্পর্শকাতর। আমরাও বেশ সতর্কতার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। মাঠ পর্যায় থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো এখন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন