শনিবার | নভেম্বর ২৩, ২০১৯ | ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

শেষ পাতা

ভোলায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত ৪

আহত দুই শতাধিক

বণিক বার্তা প্রতিনিধি ভোলা

ভোলার বোরহানউদ্দিনে ফেসবুক পোস্টের প্রতিবাদেতাওহিদী জনতারব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ-সমাবেশ থেকে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে কয়েকশ মানুষ। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দফায় দফায় সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২০ পুলিশ সদস্যসহ দুই শতাধিক।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বোরহানউদ্দিনে জরুরি ভিত্তিতে চার প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসক মাসুদ আলম সিদ্দিক জানিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয়রা জানান, বিপ্লব চন্দ্র শুভ নামে এক হিন্দু যুবক হজরত মোহাম্মদকে (সা.) নিয়ে কটূক্তি করেছে, এমন তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ওই যুবকের বিচারের দাবিতে গতকাল বোরহানউদ্দিন পৌর এলাকার ঈদগাহ মাদ্রাসার মাঠেতাওহিদী জনতারব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শুরু হতে না হতেই পুলিশ সদস্যরা সমাবেশস্থল থেকে মুসল্লিদের সরে যেতে বলেন। পুলিশের কথায় মুসল্লিরা ক্ষিপ্ত হয়ে গেলে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। মুহূর্তের মধ্যেই বেধে যায় সংঘর্ষ। সময় পুলিশ মুসল্লিদের ওপর কাঁদানে গ্যাসের শেল রাবার বুলেট ছোড়ে। এতে ২০ পুলিশসহ দুই শতাধিক আহত হয়। আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভোলা সদর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের চারজনকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতরা হলেন মাহফুজ পাটওয়ারী, মিজান, শাহিন মাহবুব।

বিষয়ে ভোলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, বিপ্লব চন্দ্র শুভ নামের এক আইডি থেকে ফেসবুকে মহানবী হজরত মোহাম্মদকে (সা.) নিয়ে কটূক্তি করা হলে বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। অবস্থায় শনিবার সন্ধ্যার পর বিপ্লব চন্দ্র নিজেই বোরহানউদ্দিন থানায় গিয়ে তার আইডি হ্যাক হয়েছে মর্মে জিডি করেন। এরপর বিষয়টি তদন্ত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা পুলিশ বিপ্লব চন্দ্রকে তাদের হেফাজতে আটক করে রাখে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল সকালে তাওহিদী জনতার ব্যানারে মুসল্লিরা বিপ্লবের ফাঁসির দাবিতে ঈদগাহ মাদ্রাসার মাঠে বিক্ষোভ প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। সেখানে উত্তেজিত মুসল্লিরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। এতে মাহফুজ পাটওয়ারী, মিজান, শাহিন মাহবুব নামে চারজন মুসল্লি নিহত হন। এছাড়া ২০ পুলিশসহ আহত হন অত্যন্ত দুই শতাধিক মুসল্লি।

এদিকে ঘটনার পর পরই মুসল্লিরা ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি টায়ার জ্বালিয়ে কয়েক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করলে সেখানেও পুলিশ গিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করে দেয়।

খবর পেয়ে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুল ঘটনাস্থলে যান। তিনি ঘটনায় আহত নিহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। এছাড়া ভোলা জেলা প্রশাসক মো. মাসুদ আলম সিদ্দিক, বিভাগীয় কমিশনার ইয়ামিন চৌধুরী, র‌্যাব--এর সিও আতিকা ইসলাম, বরিশাল বিভাগীয় ডিআইজি শফিকুল ইসলাম, ভোলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পরিস্থিতি যাতে আরো খারাপ না হয়, সেজন্য গতকাল বিকালের দিকে খুলনা থেকে হেলিকপ্টারে আসেন চার প্লাটুন বিজিবি সদস্য। তারা এসে পৌর এলাকায় টহল দিচ্ছেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের বক্তব্য: ভোলার বোরহানউদ্দিনে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনা সম্পর্কে গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স। এতে বলা হয়েছে, হামলার একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিতি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশেই আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয়। ঘটনায় নিহত চারজনের মধ্যে দুজনের মাথা ভোঁতা অস্ত্র দিয়ে থেতলানো ছিল বলে নিশ্চিত করেছেন চিকিৎসক। ঘটনাটি তদন্তে ডিআইজি বরিশাল রেঞ্জকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, এসবি, পিবিআই জেলা পুলিশ থেকে একজন করে মোট চারজন কর্মকর্তা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন