শনিবার | নভেম্বর ২৩, ২০১৯ | ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

শেষ পাতা

একপে, একসেবা ও একশপ উদ্বোধন

ই-গভর্ন্যান্স সূচকে ৫ বছরে দেশকে সেরা পঞ্চাশে নিতে চাই —সজীব ওয়াজেদ জয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

অনলাইনে সরকারি সেবাপ্রাপ্তি, বিল পরিশোধ গ্রামীণ উৎপাদনকারীর পণ্য ক্রেতার কাছে পৌঁছে দিতে ডিজিটাল মিউনিসিপ্যালিটি সার্ভিসেস সিস্টেমএকপে’, ‘একসেবাএকশপ’-এর যাত্রা হয়েছে। গতকাল রাজধানীর আইসিটি টাওয়ারে তিন সেবার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। সময় বাংলাদেশ -গভর্নমেন্ট মাস্টারপ্ল্যানের মোড়ক উন্মোচন করে তিনি বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে -গভর্ন্যান্স সূচকে আরো ৫০ ধাপ এগিয়ে যেতে চাই আমরা।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত হু কাং-ইল। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আইসিটি সচিব এনএম জিয়াউল আলম।

আইসিটি বিভাগের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) কর্মসূচির উদ্যোগেডিজিটাল মিউনিসিপ্যালিটি সার্ভিসেস সিস্টেমপাইলট প্রকল্পের অধীন পরীক্ষামূলকভাবে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন ছাড়াও ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, নাটোর, ঝিনাইদহ, টুঙ্গিপাড়া, পীরগঞ্জ, সিংড়া, তারাব রামগতি নয়টি পৌরসভায় এসব নাগরিক সেবা পাওয়া যাবে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এগুলো ছড়িয়ে দেয়া হবে।

অনুষ্ঠানে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, পাঁচ বছরের মধ্যে জাতিসংঘের -গভর্ন্যান্স সূচকে সেরা পঞ্চাশের মধ্যে আসতে চাই আমরা। গত বছরে আমরা সূচকে ৪০-৫০ ধাপ এগিয়েছি। তাই আগামী পাঁচ বছরে আরো উন্নয়ন সম্ভব হবে। ২০২১ সালের মধ্যে দেশের অধিকাংশ নাগরিক সরকারি প্রায় সব সেবা হয় তাদের হাতের ছোঁয়ার মাধ্যমেই পাবে, নয়তো ইউনিয়ন ডিজিটাল সেবাকেন্দ্রের মাধ্যমে নিজেদের দোরগোড়ায় এসব সেবা পাবে।

২০১৮ সালের জাতিসংঘের -গভর্ন্যান্স সার্ভে প্রতিবেদনে -গভর্ন্যান্সে ডেভেলপমেন্ট সূচকে ১৯৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ১১৫তম। জরিপের ভিত্তিতে প্রতি দুই বছর পর প্রতিবেদন প্রকাশ করে জাতিসংঘ।

সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, গত ১০ বছরে আমরা আইসিটির ভিত্তিগুলো নির্মাণ করেছি, তাই ১০ বছর লেগেছে -গভর্নমেন্ট মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করতে। আমাদের দেশ তো প্রযুক্তির দিক থেকে পেছনে পড়ে ছিল। সেখান থেকে উত্তরণের পথে আসা নিয়ে অনেক প্রশ্ন ছিল। আমরা তাদের মিথ্যা প্রমাণিত করেছি। ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন বাস্তবতা। পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ২০ লাখ নাগরিককে সেবা দেয়া হবে। ২০২০ সালের মধ্যে ৩০০ পৌরসভায় সেবা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এখানে আরো ডিজিটাল সেবা যুক্ত হবে।

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, -গভর্ন্যান্স ব্যবস্থায় এগিয়ে যেতে হলে দরকার সময় অর্থের ব্যয় কমিয়ে আনা। এজন্যই চালু করা হয়েছে একপে, একসেবা একশপ। সরকারের সব সেবা আমরা একই প্লাটফর্মে নিয়ে আসতে চাই। পর্যায়ক্রমে সরকারের তিন হাজার সেবাকে আমরা একসঙ্গে নিয়ে আসব।

১১২টি সেবা ডিজিটাইজড হয়েছে উল্লেখ করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, সরকারের আরো অনেক সেবা রয়েছে, সেগুলো দ্রুত অটোমেশন করতে হবে। তাহলে যথাযথভাবে সার্ভিসগুলো মনিটর সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় ১০০ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর মধ্যে ১০০টি ল্যাপটপ বিতরণ করেন সজীব ওয়াজেদ। সময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাওয়া তথ্য-প্রযুক্তি খাতের তিনটি পুরস্কার আইসিটি উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এটুআই সূত্রে জানা গেছে, এক ঠিকানায় সব সরকারি সেবার মাধ্যম হিসেবে কাজ করবেএকসেবাপ্লাটফর্ম। বর্তমানে এই ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে ১৬২টি সরকারি সেবা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে তিন হাজার সেবা ডিজিটাল প্লাটফর্মে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এর মাধ্যমে যেকোনো সেবাপ্রত্যাশী সেবার জন্য আবেদন দাখিল অনলাইনে ফি পরিশোধ করে আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা অনলাইনেই ট্র্যাক করতে পারবেন।

সব ধরনের সরকারি সেবার বিল পরিশোধের সুবিধা নিয়ে চালু করা হয়েছেএকপে ইউটিলিটি বিল, শিক্ষাসংক্রান্ত ফি অন্যান্য সব ধরনের ফি সহজে ঝামেলাহীনভাবে দেয়ারওয়ান-স্টপ পেমেন্টপ্লাটফর্ম এটি। একপে ওয়েবসাইট বা সেলফোন অ্যাপের মাধ্যমে দেশের যে কেউ তাদের ইউটিলিটি বিল দিতে পারবেন। যে কোনো সময় ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, মোবাইল ব্যাংকিং, ডিজিটাল ওয়ালেট, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, ব্যাংকের শাখা, ডিজিটাল সেন্টার বা যেকোনো এজেন্ট পয়েন্ট থেকে বিল দেয়া যাবে। এর ফলে একেক প্রতিষ্ঠানের বিল দেয়ার জন্য একেক পদ্ধতি বা ভিন্ন ব্যাংকে ঘুরতে হবে না।

সহজে দ্রুত সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রথম রুরাল অ্যাসিস্টেড -কমার্স প্লাটফর্মএকশপচালু করা হয়েছে। গ্রামীণ উৎপাদনকারীরা তাদের পণ্যের তথ্য আপলোড করতে পারবেন বিভিন্ন -কমার্স কোম্পানির ক্রেতারা সেসব পণ্য কিনতে পারবেন। একশপে ১০ লাখের বেশি প্রয়োজনীয় পণ্যের পাশাপাশি ওষুধ, বই, পোশাকও বিক্রি করা হবে এবং তা পৌঁছে দেয়া হবে দেশের যেকোনো প্রান্তে। এতে একদিকে যেমন প্রান্তিক উৎপাদনকারীর পণ্য প্রায় ২৫ লাখ -কমার্স গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ হবে, তেমনি শহরের মানুষও ঘরে বসে গ্রামের পণ্য কিনতে পারবেন সরাসরি। শিগগিরই মালয়েশিয়া সিঙ্গাপুরে একশপের কার্যক্রম চালু হবে এবং ভবিষ্যতে ২৩টি দেশে এর সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন