বৃহস্পতিবার | নভেম্বর ২১, ২০১৯ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

শেষ পাতা

বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণে দেশের শিল্পী ও টিভিকে প্রাধান্য দিতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণে দেশের শিল্পী টিভিকে প্রাধান্য দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, বাংলাদেশে টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বিজ্ঞাপনের ওপরই চলে এবং আমাদের দেশে এখন ৩৩টি টেলিভিশন চ্যানেল সম্প্রচারে আছে, ৪৫টির লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বিজ্ঞাপনের আয়ের ওপর নির্ভরশীল। এখানে শত শত নয় কয়েক হাজার সাংবাদিক, সংবাদকর্মী এগুলোর সঙ্গে যুক্ত। শুধু সাংবাদিক, সংবাদকর্মীই নয়, এর সঙ্গে আরো নানাবিধ ব্যবসাও যুক্ত। যেটি আমাদের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় সম্মেলন কক্ষে দেশের কেবল নেটওয়ার্ককে ডিজিটাল পদ্ধতির আওতায় আনার লক্ষ্যে আয়োজিত সভার শুরুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, কিন্তু আমরা দেখতে পেয়েছি, বাংলাদেশের বিজ্ঞাপনগুলো বিদেশী চ্যানেলের মাধ্যমে প্রচার করা হয়, অর্থাৎ বাংলাদেশী পণ্যের বিজ্ঞাপন বিদেশী চ্যানেলের মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছিল, বিদেশী বিজ্ঞাপন তো আছেই। এক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী কোনো ধরনের বিজ্ঞাপনেই বিদেশী চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রদর্শিত হতে পারে না। আমরা নির্দেশনা জারি করার পর আইনটি মনে করিয়ে দেয়ায় বাংলাদেশী পণ্যের বিজ্ঞাপন বিদেশী চ্যানেলের মাধ্যমে প্রচার বন্ধ হয়েছে।

কিন্তু এখনো বিদেশী চ্যানেলের মাধ্যমে বিদেশী বিজ্ঞাপন বাংলাদেশে প্রদর্শিত হচ্ছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এর মধ্যে অনেকগুলো মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির বিজ্ঞাপন দেশেও বাজারজাত করা হয়, বিদেশেও বাজারজাত করা হয়। যদিও বাংলাদেশে বিদেশী বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধ হয়েছে কিন্তু বিদেশী পণ্যের বিজ্ঞাপন আইন অনুযায়ী প্রদর্শন করা যায় না এবং এটি আইনের লঙ্ঘন। এগুলো আলোচনা করার জন্যই আজকে যারা সম্প্রচারের সঙ্গে যুক্ত তাদের রাখা হয়েছে। আমাদের শিল্পীদের বঞ্চিত করে বাইরের শিল্পী দিয়ে বিজ্ঞাপন বানানোর ওপর কী পরিমাণ ট্যাক্স হবে, তা নির্ধারণে এরই মধ্যে আমরা সংসদ সদস্যদের চিঠি দিয়েছি। সবার সঙ্গে আলোচনা করেই আমরা সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।

বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা প্রসঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের জনসভা ডাকার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে প্রচণ্ড অনৈক্য। আবরার হত্যা নিয়ে তারা একটু ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু আবরার হত্যার পর সরকার এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করেছে, তাতে সন্তুষ্ট হয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করেছে। সভা মূলত ঐক্যফ্রন্টের ঐক্য ধরে রাখার একটি চেষ্টা। তাদের স্বার্থে তারা সভা আহ্বান করেছে। আমি ঐক্যফ্রন্টকে বলব, যে ইস্যু সমাধান হয়ে গেছে, সেই ইস্যু নিয়ে মাঠে নেমে হালে পানি পাবেন না।

কেবল নেটওয়ার্ক ডিজিটাল না হওয়ার কারণে সম্প্রচার সঠিকমতো হয় না, একই সঙ্গে সরকার অনেক রাজস্ব হারাচ্ছে যুক্তি তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশ ডিজিটাল হয়ে গেছে, ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন স্বপ্ন নয়, বাস্তবতা। কিন্তু কেবল নেটওয়ার্ক এখনো ডিজিটাল হয়নি। এটিকে অবশ্যই ডিজিটাল করতে হবে। আমরা বিষয়ে সময়সীমা নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। কেবল নেটওয়ার্ক যারা পরিচালনা করেন তারা একটি সময়সীমার মধ্যে পুরো কেবল নেটওয়ার্ককে ডিজিটাল করার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। পূর্বসভার ধারাবাহিকতায়ই আজকের সভা।

সম্প্রচার অঙ্গনে শৃঙ্খলা আনতে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, সম্প্রচারের ক্ষেত্রে বহু অনিয়ম ছিল, সেগুলো দূর করার ক্ষেত্রে অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়েছি এবং বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বিশেষত, সম্প্রচারের ক্ষেত্রে টেলিভিশনের সিরিয়ালগুলো মানা হতো না। দেখা যেত বিদেশী টেলিভিশনে সিরিয়াল আগে, এরপর বাংলাদেশী টেলিভিশনের সিরিয়াল। বারবার নির্দেশনা দেয়ার পরও অতীতে বাংলাদেশের সরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো এবং বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো সিরিয়াল কোনোভাবেই মানা হচ্ছিল না।

মন্ত্রী বলেন, একটি চলচ্চিত্র বানানোর পর সেটি যেখানে সেন্সর বোর্ড হয়ে সম্প্রচারে আসতে হয়। বিদেশী সিরিয়াল যেটি একবার নয়, পঞ্চাশবার, একশবার পর্যন্ত প্রদর্শিত হবে, সেটি সেন্সর ছাড়া প্রদর্শন হওয়া মোটেও সমীচীন নয়। এটির জন্য পূর্বানুমতিও লাগে। আমরা এরই মধ্যে সেই নির্দেশনা জারি করেছি এবং যারা প্রদর্শন করছিল, তারা দরখাস্ত করেছে। যেগুলো প্রদর্শিত হচ্ছে, সেগুলো আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা-বিবেচনা করে অনুমোদন দিচ্ছি, যাতে প্রদর্শনে ব্যত্যয় না ঘটে। কিন্তু ভবিষ্যতে এগুলো অবশ্যই সেন্সর হয়ে আসতে হবে। সেজন্য আমরা একটি কমিটি করে দিচ্ছি। খুব সহসা সেই কমিটি আমরা ঘোষণা করব।

বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায়, এমনকি অনেক বিত্তবান পরিবারেও দেখা যাচ্ছে, অবৈধ ডিটিএইচ সংযোগ লাগিয়ে সেগুলোর মাধ্যমে দেশী বিদেশী চ্যানেল দেখার এবং প্রদর্শন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ। বিদেশী কোনো ডিটিএইচকে বাংলাদেশে সম্প্রচার করার জন্য সরকার অনুমতি দেয়নি। এর জন্য হুন্ডি হয়ে বছরে ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে খাতে পাচার হচ্ছে। আমরা এরই মধ্যে নির্দেশনা জারি করেছি, আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সমস্ত  অবৈধ ডিটিএইচ সংযোগ সরিয়ে নিতে হবে। যারা এগুলো লাগিয়েছেন এবং যারা ব্যবহার করছেন, সবার ওপরই দায়িত্ব বর্তায়। এরপর আমরা যেখানে অবৈধ সংযোগ পাব, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন