বৃহস্পতিবার | নভেম্বর ২১, ২০১৯ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ফিচার

নিলামে উঠেছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মূল্যবান যেসব স্মৃতি...

বণিক বার্তা অনলাইন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ যেন বেদনা আর রহস্যের আধার। তবে এখানেও খুঁজে পাওয়া যায় মানবতা, আবেগ, আশা, সাহস ও বীরত্বের গল্প। যুদ্ধ যখন শেষ হয় তখন বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার হয় যুদ্ধকালীন ব্যবহৃত নানান জিনিস। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- ডায়েরি ও চিঠি থেকে শুরু করে গাড়ি অব্দি নানান কিছু। এসবের প্রত্যেকটিই বহন করছে যুদ্ধের স্মৃতি। পরবর্তীতে এগুলো চড়ামূল্যে নিলামে বিক্রি হয়। আগ্রহী ক্রেতারা আকাশচুম্বী দাম বুঝিয়ে কিনে নেন এসব জিনিস। এ নিয়েই এবারের আয়োজন-

উইন্সটন চার্চিলের স্নাফবক্স
স্নাফবক্স হচ্ছে- একধরনের ছোট অলঙ্কৃত পাত্র যাতে স্নাফ রাখা হয়। আর স্নাফ হলো এক প্রকার সুগন্ধময় তামাক। লন্ডনে জার্মানদের ঝটিকা অভিজান চলাকালীন উইন্সটন চার্চিল হাউজ অব কমন্সের দারোয়ানকে তার এই স্নাফবক্সটি দেন। স্নাফবক্সটি ২০০৬ সালের জুলাইয়ে ২৪ হাজার ডলারে নিলামে বিক্রি করে আমেরিকান বহুজাতিক কর্পোরেশন সথবি’স।

মুসোলিনির কর্ম সাহসীকতার পদক
বেনিতো মুসোলিনি যখন তাঁর প্রশাসন কর্তৃক বরখাস্ত হন এবং ১৯৪৩ সালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, তখন তার সম্পত্তিও নিয়ে নেওয়া হয়। তার সম্পদের মধ্যে ছিল তার কর্ম সাহসীকতার একটি পদকও। যুদ্ধে পদকটির কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। পরবর্তীতে, ২০১২ সালের মার্চ মাসে নিলামদার লা গ্যালারি নুমিসম্যাটিক তা এক লাখ ২৩ হাজার ডলারে বিক্রি করে।

পিটার হোয়াইটের আর্কাইভ
স্কটল্যান্ডের রয়েল আর্মিতে কর্মরত পদাতিক প্লাটুন নেতা পিটার হোয়াইট যুদ্ধ চলাকালীন দৈনিক ঘটনাগুলো একটি ডায়েরিতে লিখে রেখেছিলেন। সেখানে লিপিবদ্ধ ছিল ১ জানুয়ারী, ১৯৩৮ থেকে থেকে ১০ আগস্ট, ১৯৪৪ সাল অব্দি ঘটে যাওয়া সবকিছুই। এই ডায়েরিতে সংযুক্ত ছিল আঁকা ছবি, স্কেচ ও কয়েকটি নিউজ ক্লিপ। পরবর্তীতে, ৫০ হাজার ডলার মূল্যে এই ডায়েরির সঙ্গে আরও বিক্রি হয়েছে ৪ টি পদক, একটি কোডাক ক্যামেরা ও এই ক্যামেরা থেকে প্রাপ্ত সব ছবি।

অ্যানা ফ্র্যাঙ্কের চিঠি
যদিও অ্যানা ফ্র্যাঙ্ক তার ডায়েরির জন্য বেশি বিখ্যাত, যা যুদ্ধের পর উদ্ধার করা হয়েছিল। এছাড়াও তার লেখা চিঠিপত্রগুলোও অনেক মূল্যের বিনিময়ে বিক্রি হয়। অ্যানা ফ্র্যাঙ্কের স্মৃতি বহনকারী জিনিসগুলোর মধ্যে দুটি চিঠি, একটি পোস্টকার্ড ও দুটি পাসপোর্ট আকারের ফটোগ্রাফ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই চিঠিগুলো অ্যামস্টারডামের অ্যানা ফ্র্যাঙ্ক সেন্টারের পরিচালক কর্তৃক প্রমাণিত হয়েছিল। নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক সোয়ান অকশন গ্যালারি চিঠিগুলো এক লাখ ৬৬ হাজার ডলারে নিলামে তোলে।


হিটলারের পিতলের রাইটিং ডেস্ক

এটি সেই ডেস্ক, যেখানে অ্যাডলফ হিটলার মিউনিখ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। ডেস্কে খোদাই করা ছিল হিটলারের আদ্যক্ষর এএইচ এবং এতে সংযুক্ত ছিল একটি কালির দোয়াত। ২০১১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের নিলামদার আলেকজান্ডার অটোগ্রাফের নিলামে তোলা হয় এটি। বিক্রি হয় চার লাখ ২২ হাজার ডলারে।

হিটলারের মার্সিডিজ বেঞ্জ ৭৭০কে
গাড়িটির সঙ্গে হিটলারের ঐতিহাসিক একটি ছবির মিল পাওয়ার পর তা নিয়ে বিস্তর অধ্যয়ন করা হয়। নিশ্চিত হওয়া যায় যে গাড়িটি অ্যাডলফ হিটলারের। এরপরই, জার্মান গাড়ি ব্যবসায়ী মাইকেল ফ্রোহলিচ মার্সিডিজ বেঞ্জকে একজন রাশিয়ান ধনকুবেরের কাছে ১০ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে বিক্রি করেছিলেন।

সূত্র: ফিন্যান্সেস অনলাইন

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন