বৃহস্পতিবার | নভেম্বর ২১, ২০১৯ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

প্রথম পাতা

জিপি-রবিতে প্রশাসক নিয়োগে বিটিআরসির আবেদনে সম্মতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিরীক্ষা দাবির অর্থ আদায়ে গ্রামীণফোন রবিতে প্রশাসক নিয়োগের অনুমতি চেয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) আবেদনে সম্মতি দিয়েছে ডাক টেলিযোগাযোগ বিভাগ। অপারেটর দুটির প্রত্যেকটিতে একজন প্রশাসকসহ চারজন করে কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেবে বিটিআরসি।

সেলফোন অপারেটর দুটিতে প্রশাসক নিয়োগে অনুমতি প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডাক টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তিনি বলেন, বিটিআরসি প্রশাসক নিয়োগে যে অনুমতি চেয়েছিল, তাতে সম্মতি দেয়া হয়েছে।  প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি বাস্তবায়ন করবে বিটিআরসি। প্রশাসক কাকে নিয়োগ করা হবে, সেক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর উপদেশ নেয়া হবে। সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অর্থ আদায় হয়ে গেলে প্রশাসক আর থাকবে না। নিয়োগের পর অপারেটরদের এনওসি প্রদানের বিষয়টি চালু করা হতে পারে। প্রশাসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা এখন সময়ের ব্যাপারমাত্র।

বিটিআরসির দাবি অনুযায়ী, নিরীক্ষা আপত্তিতে গ্রামীণফোনের কাছে ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ   রবি আজিয়াটার কাছে ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে সরকারের। গত এপ্রিলে পাওনা অর্থ দাবি করে গ্রামীণফোন রবিকে নোটিস পাঠায় বিটিআরসি। অর্থ পরিশোধে অপারেটর দুটিকে দুই সপ্তাহ সময় দেয়া হয়।

তবে সময়ের মধ্যে নিরীক্ষা আপত্তির পাওনা অর্থ পরিশোধ না করায় গত জুলাই দুই সেলফোন অপারেটর গ্রামীণফোন রবির ব্যান্ডউইডথ ক্যাপাসিটি সীমিত করার নির্দেশ দেয় বিটিআরসি। ওইদিন গ্রামীণফোনের ব্যান্ডউইডথ ক্যাপাসিটি ৩০ রবির ব্যান্ডউইডথ ক্যাপাসিটি ১৫ শতাংশ সীমিত করতে বেসরকারি পাঁচ ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) অপারেটরকে নির্দেশ দেয় সংস্থাটি। এর দুদিন পর রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেডকে (বিটিসিএল) আইআইজি হিসেবে গ্রামীণফোন রবির ব্যান্ডউইডথ ক্যাপাসিটি সীমিত করার নির্দেশ দেয়া হয়।

ব্যান্ডউইডথ সীমিত করার সিদ্ধান্তের পর রবি আজিয়াটা জানিয়েছিল, এতে সাধারণ গ্রাহকই সমস্যায় পড়বে। আর একই প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিটিআরসির সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছিল গ্রামীণফোন। প্রতিষ্ঠান দুটি নিরীক্ষা আপত্তির বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা করার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু তাতে সাড়া দেয়নি নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

তবে গ্রাহকের সমস্যার কারণ দেখিয়ে ১৩ দিন পর ওই নির্দেশনা প্রত্যাহার করে নেয় বিটিআরসি। একই সময়ে অর্থ আদায়ে অপারেটর দুটির অনাপত্তি (এনওসি) প্রদান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে বলেও জানায় নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। পরবর্তী সময়ে অপারেটর দুটির এনওসি প্রদান বন্ধ করে দেয়া হয়।

ব্যান্ডউইডথ ক্যাপাসিটি সীমিত এনওসি প্রদান বন্ধ করার পর নিরীক্ষা আপত্তির পাওনা অর্থ আদায়ে দুই সেলফোন অপারেটর গ্রামীণফোন বাংলালিংকের লাইসেন্স কেন বাতিল হবে না তা জানতে চেয়ে গত সেপ্টেম্বর অপারেটর দুটিকে চিঠি দেয় বিটিআরসি। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০১-এর ৪৬ () ধারা অনুযায়ী সেলফোন অপারেটর গ্রামীণফোন রবির টুজি থ্রিজি লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, ৩০ দিনের মধ্যে তার কারণ দর্শানোর জন্য নোটিস দেয়া হয়। নোটিসের জবাবে অপারেটর দুটি নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ত্রুটির বিষয়গুলো তুলে ধরে।

তবে এর আগেই ঢাকার দেওয়ানি আদালতে আলাদাভাবে দুটি মামলা করে গ্রামীণফোন রবি। গত ২৫ আগস্ট মামলা করে রবি। আর গ্রামীণফোন মামলা করে ২৬ আগস্ট।

এমন পরিস্থিতিতে বিরোধ মীমাংসায় টেলিযোগাযোগমন্ত্রী, বিটিআরসি অপারেটর দুটির কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল। তবে এতেও সংকটের সুরাহা না হওয়ায় প্রশাসক নিয়োগে ডাক টেলিযোগাযোগ বিভাগের অনুমতি চেয়ে আবেদন করে বিটিআরসি।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান জহুরুল হক জানান, অপারেটর দুটির প্রত্যেকটিতে একজন প্রশাসকসহ চারজন কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হবে। প্রশাসকের সঙ্গে নিয়োগ পাবেন হিসাব, আইন টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞ। পাওনা আদায় বিষয়ে তারা সহযোগিতা করবেন। যোগ্যদের পদে নিয়োগ দেয়া হবে।

ডাক টেলিযোগাযোগ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অপারেটর দুটির সঙ্গে বৈঠকে রবির কাছে মূল দাবি ৫০৮ কোটি টাকার মধ্যে ২৫ কোটি গ্রামীণফোনের কাছে মূল দাবি হাজার ৩০০ কোটি টাকার মধ্যে ১০০ কোটি টাকা দিতে বলা হয়। সাতদিনের মধ্যে রবি ২৫ কোটি গ্রামীণফোনের ১০০ কোটি টাকা দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। তবে পরবর্তী সময়ে অপারেটররা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেনি।

প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে অপারেটর দুটি এখনো ধরনের কোনো নির্দেশনা পায়নি বলে  জানিয়েছে। গ্রামীণফোন জানায়, স্বচ্ছ, বন্ধুত্বপূর্ণ সময়োচিত সমাধানের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে গ্রামীণফোন। সম্প্রতি সরকারের কাছ থেকে নতুন কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, যা বিষয়টিকে দীর্ঘায়িত করতে পারে। বিটিআরসির ভিত্তিহীন বিধিনিষেধ লাইসেন্সসংক্রান্ত কারণ দর্শানোর নোটিসটি এখনো বহাল থাকায় গ্রামীণফোনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম গ্রাহকসেবা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম জানান, আমরা শুরু থেকেই দ্ব্যর্থহীনভাবে বলে আসছি, নিরীক্ষা প্রতিবেদন ভিত্তিহীন বিষয়ে আমাদের অবস্থান বিটিআরসিকে খুব স্পষ্টভাবে পরিষ্কার করা হয়েছে। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে বারবার প্রস্তাব দেয়া হলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে তা আমলে নেয়া হয়নি। উপায়ান্তর না পেয়ে সমস্যার ন্যায্য সমাধান চেয়ে আমরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। বিচারাধীন একটি বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তে আসার আগেই প্রশাসক নিয়োগের মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা বিচার ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থার শামিল। ধরসের সিদ্ধান্ত দেশের প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ পরিস্থিতি (এফডিআই) ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন