শনিবার | নভেম্বর ২৩, ২০১৯ | ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

শিল্প বাণিজ্য

নরডিক ও চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে টিপু মুনশির বৈঠক

রফতানি বাণিজ্য সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে নিযুক্ত নরডিক অঞ্চলের দেশ সুইডেন, নরওয়ে ও ডেনমার্ক এবং চীনা রাষ্ট্রদূতকে রফতানি বাণিজ্যে সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজমন্ত্রী টিপু মুনশি। গতকাল বাংলাদেশ সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর বাণিজ্যমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত নরডিক অঞ্চলের দেশ সুইডেনের রাষ্ট্রদূত চারলোটা স্লাইটার, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত সিডসেল ব্লেকেন ও ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত উইনি এস্ট্রাপ পিটারসন সাক্ষাৎ করতে এলে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এ আহ্বান জানান। নরডিক দেশগুলোর পর বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন চীনা রাষ্ট্রদূত। এতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রফতানি) তপন কান্তি ঘোষ উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। দেশে এখন একের পর এক গ্রিন ফ্যাক্টরি চালু হচ্ছে। পৃথিবীর বড় কমপ্লায়েন্স ফ্যাক্টরি এখন বাংলাদেশে। বাংলাদেশের শ্রমিকরা এখন কর্মবান্ধব ও নিরাপদ পরিবেশে কাজ করছেন। সব ফ্যাক্টরিতে বিল্ডিং সেফটি, ফায়ার সেফটিসহ সব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের জন্য উপযুক্ত মজুরি নিশ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের শ্রমিকরা সব ধরনের শ্রম অধিকার ভোগ করছে। ইপিজেডে শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের শ্রমিকরা এখন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কারখানায় কাজ করছেন। শ্রমিকদের অধিকার, মজুরি ও উন্নত কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার সবসময় আন্তরিকতার সঙ্গে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

রাষ্ট্রদূতরা বাণিজ্যমন্ত্রীকে বলেন, বাংলাদেশে তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর নিরাপদ কাজের পরিবেশ ও শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রত্যাশার চেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে। শ্রমিকদের কল্যাণে আরো কিছু করার সুযোগ আছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ নরডিক রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশকে বাণিজ্য সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে, ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এরপর ঢাকায় চীনের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে বাংলাদেশ সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চীন বাংলাদেশের বন্ধুরাষ্ট্র এবং বড় ব্যবসায়িক অংশীদার। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশ চীনের আরো বেশি বিনিয়োগ আশা করে এবং আরো বেশি রফতানি সুবিধা প্রত্যাশা করে। বাংলাদেশে পণ্য উৎপাদনের খরচ কম। চীন বাংলাদেশে পণ্য উৎপাদন করে সারা বিশ্বে রফতানি করতে পারে। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য চীনের ভিসা সহজ করলে উভয় দেশের বাণিজ্য আরো বাড়বে।

চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, চীন বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য চীনের ভিসা সহজ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগামী দিনগুলোয় বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য আরো বাড়বে। চীন বাংলাদেশকে আরো বাণিজ্য সুবিধা প্রদান করবে এবং বিনিয়োগ বাড়াবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন