শনিবার | নভেম্বর ২৩, ২০১৯ | ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

টকিজ

‘নির্বাচনের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছি’

ফিচার প্রতিবেদক

ভোলা তো যায় না তারে চলচ্চিত্র দিয়ে রুপালি পর্দায় অভিষেক ঘটে চিত্রনায়িকা তানহা তাসনিয়ার। এরপর আরো দুটো চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। তবে এখানেই যেন থেমে গেলেন। কেননা তার কাজের গল্পে আর চলচ্চিত্রের কথা উঠে আসে না। তার মতে, ছোট্ট একটা বিরতি নিয়েছেন। আবার ফিরবেন চলচ্চিত্রেই। এ বিরতিতে নিয়মিত কাজ করছেন ছোট পর্দায়। আজকের আয়োজন তাকে ঘিরে

কলকাতা থেকে ফিরলেন, কাজের জন্য গিয়েছিলেন নাকি ঘোরাঘুরি?

পরিবারসহ ঘুরতে গিয়েছিলাম। কাজ থেকে খানিকটা বিরতি মিলেছিল, তাই পরিবারের সবাইকে নিয়েই যাওয়া।

ব্যস্ততা রয়েছে কী নিয়ে?

কিছুদিন আগেই একটি ডকুমেন্টারি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে কাজ শেষ করলাম। আনওয়ান্টেড টুইন নামে সে চলচ্চিত্রটি মূলত তৈরি হয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন আইন নিয়ে। এটির কনটেন্ট সাপোর্ট পার্টনার হিসেবে ছিল ইউনিসেফ। এটার কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া নিয়মিত কিছু সিরিয়ালের কাজও চলছে। এছাড়া একক নাটক, বিজ্ঞাপন, মিউজিক ভিডিওর কাজ তো চলছেই। সব মিলিয়ে ছোট পর্দায় সময় দিচ্ছি বেশ। দুদিন আগে ফিরেছি কলকাতা থেকে। এখন আবার কাজে ডুব দেব। রসের হাঁড়ি নামে একটি ধারাবাহিকের কাজ শুরু করব দুয়েকদিনের মধ্যেই।

ছোট পর্দা ঘিরে ব্যস্ততা, বড় পর্দার জন্য নতুন খবর আছে কি?

আপাতত ছোট পর্দায় অভিনয় দিয়েই ব্যস্ত রয়েছি। চলচ্চিত্র নিয়ে ভাবছি না। এখন তো চলচ্চিত্রের খারাপ সময় চলছে, তাই কিছুটা বিরতি নেয়াই ভালো বলে মনে করছি। যদিও বেশকিছু চলচ্চিত্রে কাজের প্রস্তাব রয়েছে, তবে সেসব কোনোটাই মনঃপূত হয়নি। তাই আগ্রহও দেখাইনি। তবে এটাও সত্যি, সব গল্প পছন্দসই হয়নি এমনটাও না। কোনোটার হয়তো গল্প ভালো লাগেনি, কোনোটা আবার সহশিল্পী ভালো লাগেনি। ফলে চলচ্চিত্র নিয়ে ভক্তদের খুশির কোনো সংবাদও দিতে পারছি না। তবে ভালো কিছুর জন্য অপেক্ষা করছি। সেই সঙ্গে অপেক্ষা করছি শিল্পী সমিতির নির্বাচনের ফলাফলের জন্যও।

তবে কি কাজের তালিকা ছোট হয়ে এসেছে?

আমি আসলে এতগুলো চলচ্চিত্রে কাজ করেছি, এটা বলার জন্য কিংবা কাজের তালিকায় চলচ্চিত্রের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য কিন্তু কাজ করি না। বরং ভালো কাজ দুয়েকটা হলেও আমি খুশি। আমি যে কাজ করব, আগে তো আমার নিজেরই সেটা ভালো লাগতে হবে। সেটাই যদি না লাগে, তাহলে কেনইবা করব সে কাজ। সেদিক থেকে তালিকা ছোট বা বড়ই হোক, সেসব নিয়ে ভাবি না।

বলছিলেন শিল্পী সমিতির নির্বাচনের ফলাফলের ওপরও কাজ করার অনেক বিষয়ই নির্ভর করছে, বিষয়টি খুলে বলুন


আশা করছি, যিনি যোগ্য তিনিই জয়ী হবেন। আমরা সব শিল্পী মিলে আগেই কথা বলে ঠিক করে রেখেছিলাম, শিল্পী সমিতির সভাপতি হিসেবে যিনি জয় লাভ করবেন, তার মাধ্যমে সরকারের কাছে সিনেপ্লেক্স বাড়ানোর দাবি জানাবেন। আমাদের চাওয়া মূলত ১০০টি সিনেপ্লেক্স নির্মাণ। হল বাড়লে সিনেমাও বাড়বে। চলচ্চিত্রের সংকটকালীন বিদায় নেবে।

সিনেপ্লেক্স বাড়লেই চলচ্চিত্র বাড়বে বলে মনে করেন কেন?

চলচ্চিত্র দেখার জন্য উপযোগী হল না থাকার কারণে অনেক প্রযোজকই অর্থলগ্নি করতে চান না। কেননা দর্শক ভিড়বে না সে চলচ্চিত্র দেখতে। ফলে লাভের আশা থাকে না। সিনেপ্লেক্স বাড়লে, হলে পরিবেশ ভালো হলে দর্শক ফিরবেন, প্রযোজকরাও আগ্রহবোধ করবেন, ভালো নির্মাতারাও আর হাত গুটিয়ে থাকবেন না। অন্যদিকে একজন পরিচালক যদি বছরে একটি করে চলচ্চিত্রও নির্মাণ করেন, তাহলেও কিন্তু হলগুলো খালি থাকবে না।

সবাই কমবেশি ওপার বাংলার চলচ্চিত্রে কাজ করছেন, সেদিক থেকে আপনার কাছে প্রস্তাব আছে কি?

আপাতত নেই। তবে ভালো কাজের প্রস্তাব পেলে অবশ্যই করব। শিল্পীর তো কোনো সীমানা নেই। তাই শুধু ঢাকাই কিংবা কলকাতার চলচ্চিত্রই নয় বরং সর্বত্রই কাজ করব।

অভিনয় ভালো লাগে ছোট নাকি বড় পর্দায়?

আমার শুরু যেহেতু আলো ঝলমলে বড় পর্দা দিয়ে। তাই সেটার প্রতি ভিন্ন আবেগ কাজ করে। চলচ্চিত্রে কাজ করতে আমার ভালো লাগে। যেহেতু চলচ্চিত্র শিল্পটি এখন কিছুটা খারাপ সময় পার করছে। এজন্য কাজ বন্ধ রেখেছি। অবস্থা ফিরুক আবার চলচ্চিত্র নিয়ে থাকব। ছোট পর্দায় নিয়মিত হওয়ার কারণ এখানে কিন্তু অভিনয়টা ঝালাই করে নেয়া যাচ্ছে। বসে থাকলে কিংবা অভিনয় থেকে দূরে থাকলে সেটা কিন্তু সম্ভব হতো না।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন