শনিবার | নভেম্বর ২৩, ২০১৯ | ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

নতুন ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে ইইউ-ব্রিটেনের সমঝোতা

বণিক বার্তা ডেস্ক

গতকাল ব্রাসেলসে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক শুরু হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যস্থতাকারীরা একটি চুক্তিতে পৌঁছেন। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ টানাপড়েন আর অনিশ্চয়তার পর ব্রেক্সিট চুক্তির বিষয়ে ইইউর সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছল যুক্তরাজ্য। খবর বিবিসি ও সিএনবিসি।

চুক্তির পর এক টুইট বার্তায় ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, আমাদের মধ্যে দারুণ একটি চুক্তি হয়েছে, পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণও ফিরেছে।

শনিবার (কাল) ব্রিটিশ পার্লামেন্টে চুক্তিটি উপস্থাপন করবেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। এ চুক্তিতে সমর্থন দিতে ব্রিটিশ আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বরিস জনসন। ৩১ অক্টোবর প্রক্রিয়ামাফিক ব্রেক্সিট শেষ করার পথ সুগম করতে শনিবারই ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বিশেষ অধিবেশনে চুক্তির বিষয়ে অনুমোদন পাওয়ার আশা করছেন তিনি।

উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা এখন এ চুক্তির আইনগত দিকগুলো নিয়ে কাজ শুরু করছেন। তবে চূড়ান্ত চুক্তি হওয়ার আগে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অনুমোদন লাগবে।

ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট জঁ-ক্লদ ইয়ুংকার বলেছেন, চুক্তিটিসুষ্ঠু ও সুষম হয়েছে। এক চিঠিতে তিনি বলেন, ইইউর ২৭ সদস্যরাষ্ট্রকে চুক্তিতে অনুমোদন দেয়ার সুপারিশ করবেন তিনি। কারণ ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার শেষ সময় এখনই। তবে লেবার নেতা জেরমি করবিন বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী টেরিসা মের সঙ্গে যে ধরনের চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, এ চুক্তি তার থেকেওখারাপ মনে হচ্ছে এবং আইনপ্রণেতাদের উচিত এ চুক্তি প্রত্যাখ্যান করা।

বেরিয়ে যাওয়ার চুক্তিটি নিয়ে এখন ইইউ নেতারা সম্মেলনে আলোচনা করবেন। এবং এরপর কাল ব্রিটিশ আইনপ্রণেতারা এ নিয়ে পার্লামেন্টে আলোচনা করবেন। ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা গত কয়েক দিন প্রায় বিরতিহীন আলোচনা চালিয়ে পরিবর্তিত ব্রেক্সিট চুক্তির একটি খসড়া সম্পর্কে ঐকমত্যে পৌঁছেন গতকাল।

চুক্তি হওয়া নিয়ে দেয়া বক্তব্যে ইইউ জোটের ব্রেক্সিট বিষয়ক প্রধান আলোচক মিশেল বাহনিয়ে বলেন, উভয় পক্ষের মধ্যস্থতাকারীদের আন্তরিক ও কঠোর পরিশ্রমের ফলাফল এ চুক্তি। তিনি বলেন, আমরা একসঙ্গে এ চুক্তি উপহার দিলাম।

আইন অনুযায়ী, ব্রেক্সিট নিয়ে যদি কোনো চুক্তি না হয় কিংবা চুক্তি বাতিল হয়ে যায়, তবে বেরিয়ে যাওয়ার সময়সীমা বাড়ানোর জন্য ১৯ অক্টোবরের মধ্যে অনুরোধ জানাতে হবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে। ৩১ অক্টোবর ইইউ থেকে ব্রিটেনের বেরিয়া যাওয়ার নতুন নির্ধারিত তারিখ।

চুক্তি নিয়ে এবার ইইউ একটু বেশি সতর্ক। কেননা সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিসা মেও ইইউর সঙ্গেবিচ্ছেদ চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন। কিন্তু তিনবার সংসদে তা অনুমোদন করতে ব্যর্থ হন তিনি। বর্তমান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ব্রিটিশ পার্লামেন্টে যথেষ্ট সমর্থন আদায় করতে পারবেন কিনা তাও এখনো স্পষ্ট নয়। বিশেষ করে যখন উত্তর আয়ারল্যান্ডে সরকারি জোটের শরিক দল নতুন চুক্তির বিরোধিতা করছে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বরিস জনসন আগেই পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছেন। ব্রেক্সিট চুক্তির আওতায় উত্তর আয়ারল্যান্ড প্রদেশকে যুক্তরাজ্য থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করতে চাইলে তিনি বিরোধী ও বিদ্রোহীপক্ষের প্রবল বিরোধিতার মুখে পড়তে পারেন। উল্লেখ্য, দেশ হিসেবে ব্রিটেন এ চুক্তি মেনে নিলে তবেই ইইউ আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমঝোতা মেনে নিতে প্রস্তুত থাকবে।

ব্রিটেনের পার্লামেন্ট এ চুক্তি অনুমোদন করলে চলতি মাসে আরেকটি জরুরি শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করে ইইউ নেতারা চূড়ান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে পারেন। ব্রিটেনের আইনপ্রণেতাদের রায় পাওয়া যাবে শনিবার। তবে সব পক্ষ সম্মতি জানালেও ৩১ অক্টোবর ব্রেক্সিট কার্যকরের জন্য যথেষ্ট সময় নেই বলে ইইউ কর্মকর্তারা মনে করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, প্রক্রিয়াগত কারণে ব্রেক্সিট কিছুদিন পিছিয়ে যেতে পারে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন