বৃহস্পতিবার | নভেম্বর ১৪, ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

ফিচার

গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে দিচ্ছে বিশ্বের যেসব শহর

বণিক বার্তা অনলাইন

বর্তমান বিশ্বে বায়ু দূষণ অন্যতম একটি বড় সমস্যা। বাতাস দূষিত হওয়ার পেছনে অন্যতম দায়ী- গাড়ি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া। বায়ু দূষণ কমাতে বিশ্বের উন্নত অনেক দেশই স্বাগত জানাচ্ছে বৈদ্যুতিক গাড়িকে। কোনো কোনো শহর গাড়ির ব্যবহারই কমিয়ে ফেলতে নতুনভাবে পরিকল্পনা করছে। অবার এমনও অনেক শহর রয়েছে যেখানে গ্যাস ও ডিজেল চালিত গাড়ি চালানোই নিষেধ। জেনে নিন বিশ্বের কোন কোন শহরে গাড়ির ব্যবহার কমে যাচ্ছে-

বর্তমানে কোপেনহেগেনের জন্যসংখ্যার অর্ধেকই সাইকেলে চড়ে কর্মস্থলে যায়। ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে এখন ২০০ মাইলেরও বেশি বাইক লেন রয়েছে। উল্লেখ্য, গোটা ইউরোপের মধ্যে এখানেই গাড়ির ব্যবহার সবচেয়ে কম। তবে আশপাশের শহরতলীতে যাওয়ার সুবিধার্থে সাইকেলের জন্য সুপারহাইওয়ে তৈরি করছে তারা। ২০১৮ সালের মধ্যেই পরিকল্পিত অনেগুলো রুট তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। শহরটির লক্ষ্য, ২০২৫ সালের মধ্যে পুরোপুরি কার্বনমুক্ত শহরে রূপান্তরিত হওয়া।



প্যারিস শহরের কেন্দ্রস্থলে গাড়ি চালানোকে পুরোপুরি নিরুৎসাহিত করতে চায়। ২০১৬ সালের জুলাই মাসে প্যারিসে ১৯৯৭ সালের পূর্বে তৈরি কোনো গাড়ি শহরের বড় রাস্তায় চালানোর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। যদি তারা এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গাড়ি চালায় তাহলে জরিমানা করা হবে বলেও জানানো হয়। শহরের মেয়র জানান, ২০২০ সালের মধ্যে প্যারিসে বাইকের লেনগুলোর প্রশস্ততা এখনকার চাইতে দ্বিগুণ করে দেয়া হবে ও নির্বাচিত কয়েকটি রাস্তা শুধুমাত্র বৈদ্যুতিক গাড়ি চালানোর জন্য নির্ধারিত করে দেয়া হবে।
প্যারিসের মতো লন্ডনের মেয়রও বলেছেন, ২০২০ সালের মধ্যেই সেখানে ডিজেল চালিত গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়া হবে। তবে বর্তমানে, শহরটি ডিজেল চালিত গাড়ি ব্যবহারকে নিরুত্সাহিত করার জন্য পিক আওয়ারে এসব গাড়ির ড্রাইভারদের কাছ থেকে প্রতিদিন ১২ দশমিক ৫০ ডলার ফি নেয়। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে ব্রিটেন ঘোষণা করেছিল, ২০৪০ সালের মধ্যে ডিজেল ও গ্যাস চালিত নতুন গাড়ি বিক্রয় পুরোপুরি নিষিদ্ধ করবে। ব্রিটেনের ক্রমবর্ধমান বায়ু দূষণ মোকাবেলা করার লক্ষ্যেই মূলত এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।



বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসের সিটি স্কয়ার, স্টক এক্সচেঞ্জ ও বড় একটি শপিং স্ট্রিট রু নাভের আশপাশের রাস্তাগুলো কেবল পথচারিদের জন্য নির্ধারিত। ১৯৯৮ সালের আগেই এখানে ডিজেল চালিত গাড়ি নিষিদ্ধ করা হয়। ২০০২ সালে ব্রাসেলসে প্রথমবারের মতো ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহার করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়। আর প্রতি বছরের সেপ্টেম্বরের এক দিন কেন্দ্রীয় শহরে সব ধরনের গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়।
২০১৬ সালের এপ্রিলে মেক্সিকো শহরের স্থানীয় সরকার প্রতি সপ্তাহের দুই কর্মদিবসে ও প্রতি মাসের দুই শনিবার শহরের প্রাণকেন্দ্রে নির্দিষ্ট সংখ্যক গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এক্ষেত্রে গাড়ির নম্বর প্লেট দেখে ঠিক করে দেয়া হয় সেসব দিনে কোন গাড়িগুলো চলাচল করবে এবং কোন গাড়িগুলোর চলাচল বন্ধ থাকবে। এর ফলে ওই দিনগুলোয় প্রায় দুই মিলিয়ন গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকে। এতে করে শহরের দূষণ কিছুটা হলেও কমে।

সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার

 

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন