শনিবার | নভেম্বর ২৩, ২০১৯ | ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

প্রথম পাতা

পাক-ভারত যুদ্ধের পর বন্ধ রেললাইন চালু হবে —প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর ভারতের সঙ্গে রেল যোগাযোগের যেসব লিংক বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল, সেগুলো আবার চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল কুড়িগ্রাম-ঢাকা-কুড়িগ্রাম রুটে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কথা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উত্তরবঙ্গের যেসব রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিল, সেগুলো যেমন আমরা চালু করেছি। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর যেসব লিংক বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল তত্কালীন পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে, সেই লিংকগুলো আমরা আবার চালু করে দিতে চাচ্ছি। যেটা আমাদের রেলকে লাভবান করবে এবং আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থার আরো উন্নতি হবে।

যেসব এলাকায় রেল যোগাযোগ ছিল না, সরকার সেখানেও রেল যোগাযোগ স্থাপন করছে জানিয়ে তিনি বলেন, রেলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ শুধু যাতায়াত নয়, স্বল্প খরচে পণ্য পরিবহনও যাতে করতে পারে সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পণ্য পরিবহন সহজ হলে কৃষকরা উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করার সুযোগ পাবেন।

বিএনপি রেল বন্ধের আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, কোনো কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার নির্দেশনা ছিল কোনটা কোনটা লাভবান না, সেটা বন্ধ করে দাও। নির্দেশনা অনুযায়ী অনেকগুলো রেললাইন বন্ধ করে দেয়া হয় বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে। তাদের নীতি ছিল, যেহেতু লাভ হয় না, সেহেতু এটা চলবে না। তারা সেভাবে কিছু পদক্ষেপও নেয়। আমি মনে করি, এটা আমাদের দেশের জন্য একটা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত ছিল। কারণ দেশের সাধারণ মানুষ চলাচলের জন্য রেলকে বেছে নেয়।

তিনি বলেন, যেটা একেবারে মুমূর্ষু অবস্থায় ছিল এবং যেটা লাভজনক ছিল না বলে যারা এটা বন্ধ করতে চেয়েছিল, আমরা তাদের দেখাতে চাই, রেলকে লাভজনক এবং উন্নত করা যেতে পারে। রেলের মাধ্যমে মানুষের পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি হতে পারে।

গণভবনের অনুষ্ঠান থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকার সঙ্গে এটিই কুড়িগ্রামের প্রথম আন্তঃনগর ট্রেন সার্ভিস। গণভবন থেকে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান। অন্য প্রান্ত কুড়িগ্রাম রেল স্টেশন থেকে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন। সেখানে সূচনা বক্তব্য রাখেন রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। পরে রংপুর লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনের র্যাকে নতুন কোচ প্রতিস্থাপন করেন শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস বুধবার বাদে সপ্তাহে ছয়দিন চলাচল করবে। প্রতিদিন কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবে সকাল ৭টা ২০ মিনিটে এবং রাত পৌনে ৯টায় ঢাকা ছাড়বে কুড়িগ্রামের উদ্দেশে। একই ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে রংপুর এক্সপ্রেস লালমনি এক্সপ্রেসের র্যাক প্রতিস্থাপনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে ভিডিও কনফারেন্সেংয়ের মাধ্যমে সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নের কয়েকটি প্রকল্পও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এগুলো হচ্ছে ময়মনসিংহ-গফরগাঁও টোক সড়কে বানার নদীর ওপর সেতু, ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ইন্দ্রপুল থেকে চক্রশালা পর্যন্ত বাঁক সরলীকরণ, সাতক্ষীরা শহর বাইপাস সড়ক, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতায় চার লেনবিশিষ্ট ফ্লাইওভার এবং মুন্সীগঞ্জের ঝুঁকিপূর্ণ ১৩টি সেতু স্থায়ী কংক্রিট সেতু দ্বারা প্রতিস্থাপন।

সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ট্রাফিক আইন নিয়ে স্কুলের শিশুদের সচেতন করার ওপর জোর দিতে হবে। সড়কে দুর্ঘটনা কমাতে যানবাহনের চালক চলাচলকারী উভয়কেই দায়িত্বশীল সচেতন হতে হবে।

রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহন চালকদের সচেতন দায়িত্বশীলতা নিয়ে তিনি বলেন, রাস্তায় যারা গাড়ি (বাস ট্রাক) চালাবেন বা মোটরসাইকেল চালাবেন, তাদেরও সচেতন হতে হবে। সচেতন হতে হবে কারণে যে, অহেতুক একটা প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে অনেক সময় সড়ক দুর্ঘটনা হয়।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন