বৃহস্পতিবার | নভেম্বর ১৪, ২০১৯ | ৩০ কার্তিক ১৪২৬

দেশের খবর

খুলনার নদী ও খাল উদ্ধারে অভিযান

৩৯ দিনে ২১২ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

বণিক বার্তা প্রতিনিধি খুলনা

 খুলনার ময়ূর নদসহ ২৬ খাল দখলমুক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে সিটি করপোরেশন জেলা প্রশাসন গত সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া অভিযানে গতকাল পর্যন্ত বহুতল ভবনসহ ২১২টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে মাঝে দুর্গা পূজার জন্য এক সপ্তাহ অভিযান বন্ধ ছিল

গতকাল জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান খানের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয় অভিযানে দেয়ানা মৌজার কিছু অংশ বিল পাবলা মৌজার মোড়লপাড়া হতে লতা পাহাড় ব্রিজ পর্যন্ত এবং লতা পাহাড় ব্রিজসংলগ্ন খুদে নদীর সীমানার মধ্যে থাকা আড়াআড়ি মাটির বাঁধ অপসারণ করা হয় এছাড়া একটি বাথরুম, একটি পাটাসহ বেশকিছু গাছপালা অপসারণ করা হয় বলে জানান কেসিসির এস্টেট অফিসার মো. নূরুজ্জামান তালুকদার সময় প্রায় ২০ শতক জমি দখল মুক্ত করা হয়

কেসিসির এস্টেট অফিসার মো. নূরুজ্জামান তালুকদার জানান, খুলনার ২৬ খাল উদ্ধারে গত সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া অভিযান এখনো অব্যাহত আছে মাঝে শারদীয় দুর্গোৎসবের কারণে এক সপ্তাহ অভিযান বন্ধ ছিল পূজা শেষে রোববার থেকে আবারো অভিযান শুরু হয়েছে পর্যন্ত ময়ূর নদসহ সাতটি খাল থেকে ২১২টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে আর দখলমুক্ত করা হয়েছে ময়ূর নদ, খুদে নদী, ক্ষেত্রখালী খাল, লাউড়ি খাল, ছড়ি খাল, লবণচরা দ্বিতীয় স্লুইচ গেট খাল খোলাবাড়িয়া খাল ২৬ খাল দখল করে গড়ে ওঠা ৩৮২টি তালিকাভুক্ত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার পর নদী খাল পুনঃখনন করা হবে

তিনি আরো জানান, অভিযানে বহুতল ভবন, কাঁচা-পাকা ঘর, বাড়ি, দোকান, বাথরুম, পাকা সীমানা প্রাচীর, মসজিদ কারখানা উচ্ছেদ করা হয় খালের মধ্যে পাইলিং দিয়ে মাটি ভরাট করায় দুজনকে জরিমানা করা হয় ৬৫ হাজার টাকা এছাড়া খালের মধ্যে এবং ময়ূর নদে আড়াআড়িভাবে দেয়া পাটা অপসারণ হয়েছে একই সঙ্গে দুটি মাছ ধরার চোংজালসহ ঘেরাবেড়া উচ্ছেদ করা হয়েছে কর্তন করা হয়েছে বহু গাছপালা

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত নদী খালগুলোর দুই তীরে হাঁটা এবং সড়ক মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতির জন্য সেতু নির্মাণসহ বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলার ব্যবস্থা করা হবে যাবতীয় নির্মাণকাজ যাতে মানসম্মত হয়, সেজন্য খুলনা প্রকৌশল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সঙ্গে চুক্তি করেছে খুলনা সিটি করপোরেশন ময়ূর নদ সংরক্ষণের কাজে পাঁচ বছরে ব্যয় হবে ৬০০ কোটি টাকা, যা অনুদান হিসেবে দেবে জার্মানি নেদারল্যান্ডস সরকার

কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ময়ূর নদ ২৬টি খালের অবৈধ স্থাপনাসংক্রান্ত যৌথ জরিপ চালায় জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে সরকারের চারটি সংস্থা এর মধ্যে নদী খাল দখল করে রাখা ৪৬০ জন দখলদারের একটি তালিকা তৈরি করা হয় জরিপে নদী খাল দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ ৩৮২টি স্থাপনার কথা উল্লেখ করা হয় এর মধ্যে ময়ূর নদে ৭৯ জন ব্যক্তি ৬৩টি অবৈধ স্থাপনা তৈরি করেছেন বলে জরিপে উঠে আসে এসব অবৈধ স্থাপনার কারণে প্রত্যেক বর্ষা মৌসুমে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে নগরজুড়ে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় সড়ক, ঘরবাড়ি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অন্যদিকে পানি জমে থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সড়ক কারণে ময়ূর নদ ২৬টি খাল দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে সিটি করপোরেশন প্রশাসন

৩০ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. ফয়সাল আহমেদ জানান, প্রভাবশালীরা ময়ূর নদ খালগুলোয় পাটা বাঁধ দিয়ে দখল করে রেখেছেন কেসিসির জমি পৈত্রিক সম্পত্তি হিসেবে ধরে নিয়ে গাছপালা লাগানো হয়, চাষাবাদ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পাকা বাড়িঘর নির্মাণও করেছেন অনেকে তাদের কারণে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন