শনিবার | নভেম্বর ২৩, ২০১৯ | ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

টকিজ

‘বছরে তিনটা চলচ্চিত্রে কাজ করাও তো কম নয়’

ফিচার প্রতিবেদক

নাটক, টেলিফিল্ম, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র কিংবা বিজ্ঞাপন দিয়ে নিজের সরব উপস্থিতি জানান দেয়ার কথা যেখানে, সেখানে খানিকটা হারিয়েই গেছেন যেন লাক্স সুন্দরী প্রসূন আজাদ। তবে পুরোপুরি হারাননি, কথা যেমন সত্য, তেমনি সত্য হচ্ছে ঠিক আগের মতো নিয়মিতও নন তিনি

লা ক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার ২০১২-এর প্রথম রানারআপ হওয়ার মধ্য দিয়ে মিডিয়ায় পা রাখেন প্রসূন আজাদ। এরপর মোটামুটি দাপিয়েই কাজ করেছেন ছোট পর্দা-বড় পর্দা মিলিয়ে। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে প্রসূনভক্তরা তাকে ঠিক আগের মতো পর্দায় দেখছেন না। কেন এমন পরিবর্তন, এসব নিয়ে কথা হয়েছে অভিনেত্রীর সঙ্গে। তার সঙ্গে কথোপকথনে উঠে এসেছে আরো বেশকিছু বিষয়। আজকের আয়োজনে পাঠকের জন্য তার খানিকটা তুলে ধরা হলো:

কেন এই নীরবতা?

সবাইকে সুপারস্টার হতে হবে না। কাউকে কিন্তু খুব সাধারণ হয়েই থাকতে হয়। কেউ চাইলেই অভিনয় করতে পারে কিন্তু তাকে সুপারস্টার হতে হবে, এটাতে আমি বিশ্বাস করি না। কেউ অভিনয় করতে ভালোবাসে মানেই তাকে পর্দায় নিয়মিত হতে হবে, তাকে খুব জনপ্রিয় কেউ হতে হবে, এটার কোনো যৌক্তিকতা নেই আমার কাছে। সব মিলিয়ে আমার মনে হয় সবার জন্য সবকিছু নয়। আমি ঠিক তাদের দলে পড়ে গিয়েছি, যারা অভিনয় করতে ভালোবাসে কিন্তু জনপ্রিয় হতে না বা খুব নিয়মিত হতে না। অনেকটা স্কুলের লাস্ট বেঞ্চার শিক্ষার্থীটির মতো। যে কিনা সবার শেষে স্কুলে আসে, শেষের বেঞ্চটিতে আসন নেয়, ক্লাসের সবার কাছে জনপ্রিয়তাও নেই তার কিন্তু স্কুলে ঠিকই আসে, স্কুলকে ভালোবাসে। আমি ঠিক এমনই অভিনয়ের ব্যাপারে। ভালো লাগে অভিনয় করতে কিন্তু খুব জনপ্রিয় হতে না কিংবা পর্দায় নিয়মিত হতে না। প্রথমদিকে হয়তো বুঝে উঠতে পারতাম না, এখন এটা ভালোভাবে বুঝতে পেরেছি।

এমন পরিবর্তনের কারণ কী?

আমি তো খুব সাধারণ এক মেয়ে ছিলাম। এরপর মিডিয়ায় কাজের সুবাদে কিছু মানুষ আমাকে চেনা শুরু করল। সেটা বেশ উপভোগ্য। কিন্তু এতে যে আমার জীবন খুব বেশি কিছু বদলে গেল তা কিন্তু নয়। আমি ঠিক আগের মতোই আছি, শুধু মানসিক শান্তিটুকু হারিয়ে গিয়েছিল। ফলে যখন বিষয়টা বুঝতে পারলাম তখনই সিদ্ধান্ত নিলাম জীবনযাপনে পরিবর্তন আনার সময় এসেছে। ঠিক এটুকুই পরিবর্তন এসেছে। সব কিন্তু আগের মতোই আছে। শুধু আমার মানসিক শান্তিটুকু বেড়ে গেছে।

কাজ কমিয়ে দিয়ে খুব বেশি স্বস্তি মিলেছে কি তবে?

কাজ কমিয়েছি বলেই যে স্বস্তি এসেছে তা না। কিন্তু এটা সত্যি ব্যক্তিগত জীবনে অনেকটাই স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছি আমি। হতে পারে জীবনকে সময় দিচ্ছি বেশি এজন্য।

এবার সম্প্রতি শেষ করা চলচ্চিত্র নিয়ে বলুন।

বছরের শুরুতে কাজ করেছিলাম নুরুল আলম আতিক পরিচালিত মানুষের বাগান চলচ্চিত্রে। এরপর নির্মাতা রাশিদ পলাশের পদ্মপুরাণ ছবিতে কাজ করেছি। এরপর হাতে নিয়েছিলাম সরকারি অনুদানের চলচ্চিত্র পায়রার চিঠিতে। নিশীথ সূর্যের পরিচালনায় চলচ্চিত্রটি বাস্তব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তৈরি। ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রীকে লেখা এক স্কুলছাত্রের চিঠিকে ঘিরেই এর গল্প। এখানে আমি স্কুলছাত্রটির শিক্ষকের ভূমিকায় অভিনয় করেছি।


আপনার ভক্তদের কথা ভেবেও কি মনে হয়নি আরো একটু বেশি কাজ করা প্রয়োজন?

আসলে ভক্তরা হয়তো চান আমি আরো একটু বেশি কাজ করি, খুব নিয়মিত হই টেলিভিশনে। কিন্তু তারা আমার ভক্ত হয়েছেন আমার অভিনয় দেখেই। তাই কাজ বাড়িয়ে যদি ঠিক অভিনয় মান ধরে রাখতে না পানি তাহলে তো তারাই হতাশ হবেন। এখন যেমন মিডিয়ায় অনেক কাজই হচ্ছে বেশ ভালো, তেমন অনেক খারাপ কাজও কিন্তু হচ্ছে। দর্শক সেসব নিয়ে হতাশাও প্রকাশ করছেন। প্রচুর সমালোচনা হচ্ছে অভিনয়শিল্পীদের অভিনয় দক্ষতা নিয়ে। বিনোদনের জগতে আমার সম্পর্কে প্রচুর সমালোচনা ছিল কিন্তু সেসবের একটাও আমার কাজ বা অভিনয় নিয়ে নয়। এত সমালোচনার জন্ম দিয়েছিলাম কিন্তু আমার অভিনয় নিয়ে সবাই সন্তুষ্ট ছিলেন। কারণ একটাই, আমি কখনো চাইনি কাজ নিয়ে কোনো ধরনের আপস করতে। আরেকটা কথা হচ্ছে, আমি কাজ কমিয়ে দিলেও একদমই যে করছি না তা তো না। একজন শিল্পীর জন্য বছরে তিনটা চলচ্চিত্রে কাজ করা খুব একটা কমও তো না।

বাড়িতেই সময় কাটাচ্ছেন বেশি, কেন?

আমি একটা সময় খুব আড্ডা দিতাম, বাইরে সময় কাটাতাম, বন্ধুদের নিয়েই ব্যস্ত থাকতাম। বুঝতাম না অনেক কিছুই। চারপাশে সুসময়ের বন্ধুরা যখন বিদায় নিল তখন অনেক কিছুই বোঝা শুরু করলাম। আমার বাবা-মা দুজনেই সরকারি চাকরিজীবী। একটা সময় বুঝলাম তারা কোনো বিরতি নেন না। তার চলছেন তো চলছেনই। অনেক পরে হলেও বুঝেছি এসব। এখন অভিনয়ের ব্যস্ততা না থাকলে তাই ঘরেই সময় কাটানোর চেষ্টা করি। তাদের কীভাবে খানিকটা স্বস্তি দেয়া যায়, সে চেষ্টাই করি। হয়তো টুকটাক রান্না করি, ঘরোয়া কাজ করি। সব মিলিয়ে খুব ভালো আছি এখন।

ফেসবুকে আপনার সাম্প্রতিক ছবিতে অনেক ভক্তই শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে মন্তব্য করছেন, এমন পরিবর্তনের কারণ কী?

আমি বিগত নয় বছর নিজেকে ফিট রাখার জন্য, আমাকে পর্দায় ভালো দেখানোর জন্য, দর্শক কীভাবে দেখতে চায়এসব বিষয় নিয়ে বেশ সচেতন ছিলাম। অর্থাৎ পুরো মনোযোগ ঢেলে দিয়েছিলাম শারীরিক সুস্থতা, সৌন্দর্যের দিকে। অথচ মানসিক সুস্থতা বলেও যে একটা বিষয় রয়েছে, সেটা বেমালুম ভুলে গিয়েছিলাম। অন্যের ভালো লাগার কথা ভাবতে ভাবতে আসলে ক্লান্তও হয়ে গিয়েছিলাম। এখন তাই আমার চাওয়াকেই গুরুত্ব দিচ্ছি। যদি মানসিক সুস্থতা না থাকে, তাহলে শারীরিক সৌন্দর্য আসলেই মলিন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন