সোমবার | নভেম্বর ১৮, ২০১৯ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

পণ্যবাজার

অস্ট্রেলিয়ার রফতানি খাতে স্বর্ণের আধিপত্য বাড়ছে

বণিক বার্তা ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদের দিকে তাকালেই আগে দৃশ্যমান হবে আকরিক লোহা, এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) কয়লা খাত। কারণ প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যে আকরিক লোহা এলএনজি রফতানিতে বিশ্বে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে দেশটি। এছাড়া কয়লা রফতানিতেও শীর্ষ রফতানিকারক দেশ ইন্দোনেশিয়াকে টপকে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় আছে দেশটি। এতকিছুর পরও রফতানি খাতে দেশটির অন্যতম মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ স্বর্ণের আধিপত্য বাড়ছে। এমনকি মূল্যবান ধাতুটি উৎপাদনে শীর্ষ দেশ চীনের পরই দেশটির অবস্থান। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দায় এখন স্বর্ণ রফতানিতেও চীনকে ছাড়িয়ে শীর্ষে অবস্থানে চলে এসেছে দেশটি। যে কারণে ধারণা করা হচ্ছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা অবস্থায় অন্যান্য পণ্য রফতানিতে ভাটা পড়লে স্বর্ণ খাতে ভর করে এগিয়ে যেতে পারে অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি।

চীন শীর্ষ স্বর্ণ উৎপাদনকারী দেশ হলেও অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে দেশটিকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আমদানি করতে হয়। এর বিপরীতে অস্ট্রেলিয়া অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে উল্লেখযোগ্য স্বর্ণ রফতানি করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে দেশটি এখন স্বর্ণ রফতানিতেও শীর্ষ অবস্থানে চলে এসেছে। দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব ইন্ড্রাস্ট্রি, ইনোভেশন অ্যান্ড সায়েন্সের রিসোর্স অ্যান্ড এনার্জি কোয়াটারলি প্রতিবেদনেও রফতানি খাতে স্বর্ণের উত্তরোত্তর চিত্র প্রবৃদ্ধি তুলে ধরা হয়েছে।

প্রাক্কলিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছর ( জুলাই-৩০ জুন) দেশটি থেকে স্বর্ণ রফতানি বেড়ে হাজার ৫০০ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলারের সমপরিমাণ হতে পারে। যেখাতে গত অর্থবছর দেশটির রফতানি ছিল হাজার ৯০০ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলারের সমপরিমাণ। সে হিসাবে চলতি অর্থবছর রফতানি ৩২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। আর রফতানি মূল্য বাড়বে ৬০০ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার।

তবে সময় দেশটি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহূত তাপ কয়লা রফতানি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যেতে পারে বলে প্রাক্কলনে বলা হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশটির কয়লা রফতানি কমে হাজার কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলারে দাঁড়াতে পারে। যেখানে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রফতানি ছিল হাজার ৬০০ কোটি ডলারের। এতে চলতি অর্থবছর কয়লা খাত থেকে আয় কমে এলেও স্বর্ণ রফতানি বাড়ানোর মাধ্যমে রফতানি আয়ে ভারসাম্য বজায় থাকবে। যে কারণেই স্বর্ণকে এখন দেশটির রফতানি খাতের সৌভাগ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার স্বর্ণ রফতানি বৃদ্ধির মধ্যে দিয়ে আকরিক লোহা, এলএনজি, কোকিং কোলের পরই মূল্যবান রফতানি পণ্য হিসেবে এখন জায়গা করে নিয়েছে স্বর্ণ। তবে সরকারি প্রাক্কলনে স্বর্ণের দাম কিছু কমিয়ে মূল্যনির্ধারণ করা হয়েছে। যেখানে স্বর্ণের প্রতি আউন্সের বর্তমান দাম হাজার ৪৯৭ ডলারের কাছাকাছি। সেখানে চলতি অর্থবছর স্বর্ণের গড় প্রাক্কলন দাম ধরা হয়েছে আউন্সপ্রতি হাজার ৪৭০ ডলার। হিসাবেই স্বর্ণের রফতানিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে আগামীতে বুলিয়নের বাজার চাঙ্গা হলে স্বর্ণ রফতানি থেকে দেশটির আয় যে আরো বাড়বে, সেটা সহজেই অনুমেয়। কারণ স্বর্ণের বাজার বর্তমান অবস্থায় থাকবে এটার কোনো নিশ্চয়তা নেই। উপরন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামীতে স্বর্ণের বাজার আরো ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে ইকুইটি বা বন্ডের তুলনায় স্বর্ণে বিনিয়োগ বেড়ে যায়। ফলে ঊর্ধ্বমুখী থাকে বুলিয়ান মার্কেট। বর্তমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা আগামীতে আরো বাড়লে স্বর্ণ খাত থেকে অস্ট্রেলিয়ার আয়ের পরিমাণও বাড়তে থাকবে।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র সুদের হার কমালে স্বর্ণের দাম বাড়ে। পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পলিসির কারণেও বর্তমান ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা স্বর্ণের বাজারে চাঙ্গা করেছে। বিশেষ মার্কিন-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ বুলিয়ান বাজারকে চাঙ্গা করতে সহায়ক হিসেবে কাজ করছে।

অন্যদিকে জ্বালানি তেলের বাজার দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমুখী রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এর মিত্র দেশ সৌদি আরবের বিপরীতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনায় জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। এতে অস্ট্রেলিয়া রফতানি হওয়া এলএনজি খাতও চাপের মধ্যে রয়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারে এলএনজির প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে দেশটিকে।

তাই বৈশ্বিক অর্থনীতির শ্লথগতির মধ্যে এখন স্বর্ণই হতে পারে অস্ট্রেলিয়ার রফতানি আয়ের অন্যতম হাতিয়ার। কারণ অর্থনীতি মন্দা অবস্থায় অন্যান্য পণ্যের দাম কমলেও উল্টে পথে চলে স্বর্ণ। যে কারণে রফতানি হওয়া অন্যান্য পণ্যের দাম কমলেও এখন স্বর্ণ রফতানি বাড়িয়ে প্রাকৃতিক সম্পদের সৌভাগ্যবান দেশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে অস্ট্রেলিয়া সক্ষম হবে বলে ধারণা করে হচ্ছে।

            সূত্র: রয়টার্স

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন