শুক্রবার | ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

এক দশকের সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধির পথে বিশ্ব অর্থনীতি

বণিক বার্তা ডেস্ক

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) জানিয়েছে, এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শ্লথগতির প্রবৃদ্ধি করতে যাচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতি। সংস্থাটির মতে, ম্যানুফ্যাকচারিং কার্যক্রমের শ্লথগতি বাড়তে থাকা বাণিজ্য এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কমাতে মূল ভূমিকা রাখছে। খবর বিবিসি টাইমস অব ইন্ডিয়া।

বৈশ্বিক ঋণদাতা সংস্থাটি নিজেদের সর্বশেষ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে পূর্বাভাস করেছে যে চলতি বছর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি হবে শতাংশ। এপ্রিলের পূর্বাভাসে দশমিক শতাংশের কথা জানিয়েছিল আইএমএফ। এবার নিয়ে পাঁচবার প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমাল সংস্থাটি।

প্রতিবেদনটিতে বলা হচ্ছে, ২০০৮-০৯ বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর চলতি বছর সবচেয়ে শ্লথগতির প্রবৃদ্ধি হবে। ২০২০ সালের জন্যও প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে আইএমএফ। এপ্রিলে দশমিক শতাংশের কথা বললেও আগামী বছর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি দশমিক শতাংশ হবে বলে এবার জানিয়েছে তারা।

আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ গীতা গোপীনাথ বলেন, পরিস্থিতির সঙ্গে মিল রেখেই বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়ে পড়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, বাণিজ্য বাধা বৃদ্ধির সঙ্গে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে প্রবৃদ্ধির দুর্বল হয়ে পড়া অব্যাহত থাকবে। আইএমএফের হিসাব অনুসারে, মার্কিন-চীন বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে ২০২০ সাল নাগাদ বৈশ্বিক জিডিপি কমবে শূন্য দশমিক শতাংশ।

গোপীনাথ বলেন, ২০২০ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ঘুরে দাঁড়াবে বলে প্রত্যাশা করা হলেও তা নিয়ে এখনো যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। আইএমএফ আরো বলছে, কয়েকটি উন্নত অর্থনীতিতে যদি অতি শিথিল মুদ্রানীতি গ্রহণ করা না হয়, তবে চলতি আগামী বছর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কমতে পারে শূন্য দশমিক শতাংশীয় পয়েন্ট।

তবে সংস্থাটি এও সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, দীর্ঘ সময় ধরে নিম্ন সুদহার ধরে রাখলে তা বড় ধরনের আর্থিক সংকট তৈরি করতে পারে। আইএমএফ বলছে, অর্থনীতিতে ঝুঁকি তৈরি করে এমন কারণগুলোর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি হয়ে উঠেছে।


গোপীনাথ বলেন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, ঝুঁকির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান সৃষ্টি ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য দেশগুলোকে নীতি পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি কাঠামোগত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে নীতিসংক্রান্ত ভুলের কোনো জায়গা নেই এবং বাণিজ্য ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনে দ্রুতই পদক্ষেপ নিতে হবে।

আইএমএফ বলছে, চলতি আগামী বছর উন্নত অর্থনীতিগুলোর প্রবৃদ্ধি হবে দশমিক শতাংশ। আর উদীয়মান উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোর প্রবৃদ্ধি চলতি বছর হবে দশমিক শতাংশ এবং ২০২০ সালে বেড়ে দাঁড়াবে দশমিক শতাংশ।

চলতি আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে দশমিক শতাংশ দশমিক শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস করেছে আইএমএফ। অন্যদিকে সংস্থাটির এবারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর ইউরো অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি হবে দশমিক শতাংশ এবং আগামী বছর কিছুটা বেড়ে দাঁড়াবে দশমিক শতাংশে।

আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী, চীনের প্রবৃদ্ধি চলতি আগামী বছর হবে যথাক্রমে দশমিক শতাংশ দশমিক শতাংশ। পূর্বাভাস মিলে গেলে তা হবে ১৯৯০ সালের পর চীনের সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি।

ভারতের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও কমিয়েছে আইএমএফ। দেশটির চলতি বছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আগের থেকে দশমিক শতাংশ কমিয়ে করেছে দশমিক শতাংশ। তবে ২০২০ সালে ভারতের প্রবৃদ্ধি শতাংশ হবে বলে সংস্থাটি মনে করছে। অন্যদিকে ২০২০ সালে পাকিস্তানের প্রবৃদ্ধি হতে পারে দশমিক শতাংশ।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি জার্মানির প্রবৃদ্ধি চলতি বছর হবে শূন্য দশমিক শতাংশ এবং আগামী বছর বেড়ে দাঁড়াবে দশমিক শতাংশে। ব্রেক্সিটসংশ্লিষ্ট অনিশ্চয়তায় ক্ষতিগ্রস্ত যুক্তরাজ্যের প্রবৃদ্ধি চলতি বছর হবে দশমিক শতাংশ। আগামী বছর জাপানের প্রবৃদ্ধি হবে মাত্র শূন্য দশমিক শতাংশ এবং রাশিয়ার প্রবৃদ্ধি চলতি বছরের দশমিক শতাংশ থেকে বেড়ে আগামী বছর হবে দশমিক শতাংশ। চলতি বছর সৌদি আরবের প্রবৃদ্ধি হতে পারে শূন্য দশমিক শতাংশ এবং আগামী বছর দশমিক শতাংশ।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন