রবিবার | নভেম্বর ১৭, ২০১৯ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

শেষ পাতা

১০ দিনের রিমান্ডে সম্রাট

আদালত প্রতিবেদক

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে অস্ত্র মাদক আইনের দুটি মামলায় পাঁচদিন করে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে সম্রাটের সহযোগী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহসভাপতি এনামুল হক আরমানকে মাদক আইনের মামলায় পাঁচদিন পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঠিয়েছেন আদালত।

পুলিশের করা রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে গতকাল দুপুরে আদেশ দেন ঢাকা মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেন।

রিমান্ড শুনানির জন্য গতকাল দুপুর পৌনে ১২টার দিকে কারাগার থেকে ঢাকা সিএমএম আদালতে হাজির করা হয় সম্রাটকে। বেলা পৌনে ১টার দিকে তাকে সিএমএম আদালতের দ্বিতীয় তলার ২৭ নম্বর এজলাস কক্ষে ওঠানো হয়। সেখানে প্রথমে ঢাকা মহানগর হাকিম সারাফুজ্জামান আনছারী আসামিদের গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়ে এজলাস কক্ষ ত্যাগ করেন। এরপর একই এজলাসে রিমান্ড আবেদনের শুনানি গ্রহণ করেন ঢাকা মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেন।

প্রথমে অস্ত্র এবং পরে মাদক আইনের মামলায় রিমান্ড আবেদনের বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করে শুনানি করেন। আদালতকে তিনি বলেন, আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরো অস্ত্র মাদক উদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট গাজী জিল্লুর রহমান, অ্যাডভোকেট বেলায়েত হোসেন, অ্যাডভোকেট আক্তার হোসেন ভূইয়া, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক আফরোজা শাহানাজ পারভীন (হীরা), অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম সুমন প্রমুখ রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিনের প্রার্থনা করে শুনানি করেন।

শুনানিতে সম্রাটের রিমান্ড বাতিল জামিনের আর্জি জানিয়ে তার আইনজীবীরা বলেন, সম্রাট প্রথমে যুবলীগের রমনা থানার আহ্বায়ক ছিলেন। এরপর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পরে সভাপতি হন। নেতাকর্মীদের বিপদে আপদে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন। কুচক্রী মহল মিথ্যা অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

তারা আরো বলেন, সম্রাট যদি পালাতে চাইতেন তাহলে যেকোনো মুহূর্তে চলে যেতে পারতেন। দলকে, নেতাকর্মীদের তিনি ভালোবাসেন, তাই যাননি। জনপ্রিয়তা আর প্রতিহিংসা তার জন্য কাল হয়েছে। পরিকল্পনা করেই তাকে ফাঁসানো হয়েছে।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে দুই মামলায় সম্রাটের পাঁচদিন করে ১০ দিনের এবং আরমানের পাঁচদিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। শুনানির পর বেলা ১টা ২৭ মিনিটের দিকে তাকে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিকে সম্রাটকে রিমান্ড শুনানির জন্য আদালতে আনা হবে এমন খবরে তার কর্মী-সমর্থকরা সকাল ৯টা থেকে আদালত চত্বরে জড়ো হন। হাজারখানেক কর্মী-সমর্থক সিএমএম আদালতের সামনে ভিড় করতে থাকেন। একপর্যায়ে বেলা ১১টার দিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আদালত অঙ্গনের নিরাপত্তা বিধানের স্বার্থে তাদের সিএমএম আদালতের মূল ফটকের বাইরে বের করে দেয়। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে সম্রাটকে প্রিজন ভ্যানে সিএমএম আদালতে আনা হলে কর্মী-সমর্থকরা তার মুক্তির দাবিতে স্লোগান দেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন