মঙ্গলবার | ডিসেম্বর ১০, ২০১৯ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

প্রথম পাতা

অভিজিৎ ব্যানার্জিসহ তিন গবেষকের অর্থনীতিতে নোবেল

বণিক বার্তা ডেস্ক

বৈশ্বিক দারিদ্র্য বিমোচনে পরীক্ষামূলক পদ্ধতির ব্যবহার, বিশেষত স্বাস্থ্যসেবা শিক্ষা খাতে নতুন কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৯ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিন মার্কিন অর্থনীতিবিদ। তারা হলেন অভিজিৎ ব্যানার্জি, এস্তার দুফলো মাইকেল ক্রেমার। কলকাতায় জন্ম নেয়া অভিজিৎ ব্যানার্জি নোবেল পুরস্কার বিজয়ী চতুর্থ বাঙালি। গতকাল রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সের পক্ষ থেকে অর্থনীতিতে বছরের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। খবর এএফপি টাইম।

নোবেল কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিজয়ী তিন অর্থনীতিবিদ বৈশ্বিক দারিদ্র্য বিমোচনের লড়াইয়ে সবচেয়ে কার্যকর কৌশল খুঁজে পেতে সফল হয়েছেন। দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে কঠিন প্রশ্নগুলোকে সহজে ব্যবস্থাপনাযোগ্য প্রশ্নে রূপান্তর এবং মাঠ পর্যায়ে কাজের মাধ্যমে এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের স্বীকৃতি হিসেবে সম্মাননা জানানো হয়েছে।

তিন অর্থনীতিবিদের যৌথ কাজের ফল হিসেবে ভারতে ৫০ লাখের বেশি শিশু সরাসরি শিক্ষা সুবিধার আওতায় এসেছে। ভারত ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের জন্য টেকসই স্বাস্থ্যসেবার প্রকল্প হাতে নেয়া সম্ভব হয়েছে। মূলত শিক্ষা স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের মধ্য দিয়ে গরিব মানুষের ভাগ্যবদলের জন্য মাঠ পর্যায়ে কার্যকরী কৌশল প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত তিন অর্থনীতিবিদ।

অভিজিৎ ব্যানার্জি, এস্তার দুফলো মাইকেল ক্রেমার পুরস্কার হিসেবে পাওয়া ৯০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার (স্থানীয় মুদ্রা) ভাগ করে নেবেন। এছাড়া প্রত্যেকেই পাবেন সম্মানজনক একটি পদক। আগামী ১০ ডিসেম্বর স্টকহোমে তাদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নোবেল পুরস্কার তুলে দেয়া হবে।

অভিজিৎ বিনায়ক ব্যানার্জির জন্ম ১৯৬১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি, কলকাতায়। বাবা অধ্যাপক দীপক ব্যানার্জি ছিলেন প্রেসিডেন্সি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান। মা নির্মলা ব্যানার্জি কলকাতার সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সের অর্থনীতির অধ্যাপক। অভিজিৎ ব্যানার্জির শৈশব কেটেছে পশ্চিমবঙ্গে। পড়েছেন সাউথ পয়েন্ট স্কুল প্রেসিডেন্সি কলেজে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮১ সালে অর্থনীতিতে স্নাতক করেছেন। পরবর্তী সময়ে একই বিষয়ে মাস্টার্স করেন দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে। সময়টা ১৯৮৩ সাল।

১৯৮৮ সালে বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন অভিজিৎ ব্যানার্জি। পিএইচডি শেষে হার্ভার্ড প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতির শিক্ষকতা করেছেন। বর্তমানে তিনি ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এমআইটি) অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। অভিজিৎ ব্যানার্জি বরাবরই উন্নয়ন অর্থনীতি নিয়ে কাজ করে আসছেন। বিশেষত দারিদ্র্য দূরীকরণে শিক্ষা স্বাস্থ্য খাতের ভূমিকা এবং অর্থনীতির সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক নিরূপণে তার উল্লেখযোগ্য সাফল্য রয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অমর্ত্য সেন . মুহাম্মদ ইউনূসের পর ৫৮ বছর বয়সী অভিজিৎ ব্যানার্জি নোবেল বিজয়ী চতুর্থ বাঙালি। একই সঙ্গে অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী দ্বিতীয় বাঙালি তিনি। ১৯৯৮ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছিলেন অমর্ত্য সেন। পেশায় অর্থনীতিবিদ হলেও ২০০৬ সালে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে শান্তিতে নোবেল পান . মুহাম্মদ ইউনূস। আর ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

এবার অর্থনীতিতে আরেক নোবেল বিজয়ী এস্তার দুফলো ব্যক্তিগত জীবনে অভিজিৎ ব্যানার্জির স্ত্রী। ফরাসি-আমেরিকান অর্থনীতিবিদও এমআইটিতে অধ্যাপনা করছেন। অভিজিৎ-দুফলো যৌথভাবে পুওর ইকোনমিকস নামে একটি বই লিখেছেন। ৪৬ বছরের দুফলো অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ীদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সে সম্মান অর্জন করলেন। একই সঙ্গে তিনি ইতিহাসে দ্বিতীয় নারী হিসেবে অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছেন।

নোবেল কমিটির কাছে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় অনুভূতি জানাতে গিয়ে দুফলো বলেন, এটা অবিশ্বাস্য একটি সম্মান। আমি কখনই ভাবিনি এত কম বয়সে নোবেল পুরস্কার পাব।  

৫৪ বছর বয়সী মাইকেল রবার্ট ক্রেমারের শিক্ষাজীবনের পুরোটাই কেটেছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। উন্নয়ন অর্থনীতিতে পিএইচডি করেছেন তিনি। কাজ করতে ভালোবাসেন হেলথ ইকোনমিকসের নানা ইস্যুতেও। বর্তমানে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে যুক্ত আছেন।

উল্লেখ্য, সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের নামে তার রেখে যাওয়া অর্থ থেকে ১৯০১ সালে প্রথম নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়। শুরুতে রসায়ন, পদার্থ, চিকিৎসাবিদ্যা, সাহিত্য শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেয়া হতো। ১৯৬৮ সালে তালিকায় যুক্ত হয় অর্থনীতি। সুইডিশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেভারিগস রিক্সব্যাংক পুরস্কার প্রবর্তন করে। প্রত্যেকটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার সুইডেন থেকে দেয়া হলেও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেয় নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি। গত বছর অর্থনীতিতে যৌথভাবে নোবেল পেয়েছিলেন আমেরিকান অধ্যাপক পল এম রোমার উইলিয়াম ডি নর্ডহাউস।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন