সোমবার | নভেম্বর ১৮, ২০১৯ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

শেষ পাতা

সুনামগঞ্জে ৫ বছরের শিশুকে বীভৎসভাবে হত্যা

বণিক বার্তা প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের কাজাউড়া গ্রামে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে তুহিন নামে পাঁচ বছরের এক শিশু। গত রোববার রাতের কোনো একসময় কান লিঙ্গ কেটে, পেটে দুটি ছুরি ঢুকিয়ে হত্যা করা হয় তাকে। এরপর গলায় ফাঁস দিয়ে দেহ ঝুলিয়ে দেয়া হয় গাছে। তুহিন কাজাউড়া গ্রামের আব্দুল বাছিরের ছেলে।

নিহতের স্বজন ইমরান হোসাইন বলেন, রোববার রাতে খাবার খেয়ে তুহিনের পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়ে। রাত ৩টার দিকে তুহিনের চাচাতো বোন প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাইরে বের হন। সময় তিনি তুহিনদের ঘরের দরজা খোলা দেখে ডাকাডাকি শুরু করেন। তখন তুহিনকে ঘরে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। একপর্যায়ে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে মসজিদের পাশে একটি গাছে গলায় দড়ি দেয়া অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়। সময় শিশুটির পেটে দুটি বড় ছুরি ঢোকানো ছিল। কাটা ছিল লিঙ্গ কান।

তুহিনের বাবা আব্দুল বাছির বলেন, আমার সঙ্গে কারো মতবিরোধ বা ঝগড়া ছিল না। আমার ওপর প্রতিশোধ নিতে কেউ ওকে খুন করবে, তা ভাবতেও পারছি না। এতটুকু শিশুকে এমন নৃশংসভাবে মরতে হলো। আমি এর বিচার চাই।

এদিকে খবর পেয়ে গতকাল সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দিরাই থানা পুলিশ। পরে তুহিনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যায় দিরাই থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, আমরা তুহিনের পরিবারের সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে এসেছিলাম। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে দু-তিনজনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। যে দু-তিনজন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তারা পুলিশের কাছে বিষয়টি স্বীকার করেছে। প্রতিহিংসাবশত হতে পারে, পূর্বশত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে হতে পারে, আবার মামলাসংক্রান্ত বিষয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।  তদন্তের স্বার্থে সবকিছু বলা যাচ্ছে না।

মিজানুর রহমান বলেন, নিহতের বাবাসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য বিভিন্ন মামলার আসামি। এলাকায় তাদের একাধিক প্রতিপক্ষ রয়েছে। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে ঘায়েল করতে চায়। তবে কারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত তা এড়িয়ে যান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, এখনো জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, সবাইকে আটক দেখানো হচ্ছে না। পুরোপুরি জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হলে হত্যা মামলা দায়ের করা হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন