সোমবার | নভেম্বর ১৮, ২০১৯ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

দেশের খবর

ধানক্ষেতে ইঁদুরের আক্রমণ : রংপুর অঞ্চলে ফসল রক্ষায় বিপাকে কৃষক

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, রংপুর

 প্রতি বছরের সময় ধানক্ষেতে কম-বেশি ইঁদুরের আক্রমণ হলেও রংপুর অঞ্চলে এবার এর তীব্রতা বেড়েছে কয়েক গুণ কৃষকরা বলছেন, গত তিন বছরে ইঁদুরের আক্রমণ এবারের মতো মারাত্মক রূপ নেয়নি এবার ক্ষেতে পানি থাকলেও ইঁদুরগুলো বিস্তীর্ণ এলাকার ধানগাছ কেটে ফেলছে এদিকে কৃষি বিভাগ ইঁদুরের আক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এতে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা জানাতে পারেনি

নীলফামারী সদর উপজেলার চরাইখোলা ইউনিয়নের কৃষক আব্দুর রহিম বসূনিয়া বলেন, তার এলাকায় এবার প্রায় সব ধানের জমিতে ইঁদুরের উপদ্রব হয়েছে ইঁদুরের অসহনীয় আক্রমণে গত এক মাসে তার ৯০ শতক জমির মধ্যে প্রায় ৩০ শতকের ধানগাছ নষ্ট হয়েছে

তিনি আরো জানান, এবারের ইঁদুরগুলোর আকার অন্য বছরের থেকে বেশ বড় তাছাড়া সাধারণত পানিতে নামতে না চাইলেও এসব ইঁদুর ক্ষেতে পানির মধ্যেই ধানের গাছ কেটে ফেলছে ইঁদুরের আক্রমণ থেকে ফসল বাঁচাতে তিনি প্রতিদিন বাঁশের ফাঁদ পাতছেন এখন পর্যন্ত মেরেছেন শতাধিক ইঁদুর

রংপুর সদর উপজেলার চন্দন পাট ইউনিয়নের মাটিয়া পাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল হালীম বলেন, তার এলাকার কৃষকরাও ইঁদুরের উপদ্রবে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ইঁদুর নিধনে বিভিন্ন কোম্পানির ওষুধ টোপ হিসেবে ব্যবহার করেও ফল পাওয়া যাচ্ছে না তাই তারা স্থানীয়ভাবে বাঁশের ফাঁদ বসিয়ে ইঁদুর নিধন করছেন বছর তিনি ১০০ শতক জমিতে ধানের আবাদ করেছেন যার মধ্যে ইঁদুরের আক্রমণে বিক্ষিপ্তভাবে বহু ধানগাছের ক্ষতি হয়েছে এখনই ইঁদুর নিধন করতে না পারলে ধানের কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন মিলবে না বলে আশঙ্কা করছেন কৃষক

একইভাবে রংপুর কৃষি অঞ্চলের গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম লালমনিরহাটের কৃষকরাও তাদের জমিতে ইঁদুরের আক্রমণের কথা জানিয়েছেন ফলে পুরো কৃষি অঞ্চলটির কৃষকরাই এখন ইঁদুরের আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন

এদিকে রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইঁদুরের আক্রমণে এখন পর্যন্ত কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা জানা যায়নি তবে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জমি বাদ দিয়ে এবার অঞ্চলটিতে লাখ হাজার ৮৫২ হেক্টরে রোপা আমন হাজার ৭৫৪ হেক্টরে আউশের আবাদ হয়েছে

ইঁদুরের আক্রমণ বিষয়ে আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যান বিশেষজ্ঞ খোন্দকার মেসবাহুল ইসলাম বলেন, সাধারণত জমির আইলে ইঁদুর বাস করে কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ কৃষক জমির আইল কেটে সরু করে ফেলেছেন ফলে ইঁদুরগুলো আইল ছেড়ে মূল জমিতে ছড়িয়ে পড়ছে তাছাড়া সরীসৃপ জাতীয় প্রাণী পেঁচার মতো পাখি কমে যাওয়াতেও ইঁদুরের সংখ্যা বাড়ছে কারণ এসব প্রাণীর খাবারের মধ্যে ইঁদুর অন্যতম তিনি আরো বলেন, প্রতি বছরই নির্দিষ্ট একটি সময়ে ইঁদুর নিধনের জন্য কৃষি বিভাগ থেকে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ক্ষেতে ইঁদুরের আক্রমণ বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করা হয় তবে ইঁদুর নিধনে সুফল পেতে হলে কার্যক্রম সবসময়ই চালু রাখতে হবে না হলে সমস্যা থেকেই যাবে

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন জেলায় জমিতে ইঁদুরের উপদ্রবের খবর পেয়েছি সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে গিয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন তবে ইঁদুরের আক্রমণে এখন পর্যন্ত কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার পরিসংখ্যান তার কাছে নেই

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন