শনিবার | ডিসেম্বর ০৭, ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

টেলিকম ও প্রযুক্তি

জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে দ্বিমুখী আচরণ গুগলের

বণিক বার্তা ডেস্ক

জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে বরাবরই সোচ্চার টেক জায়ান্ট গুগল। কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনতে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে নানা উদ্যোগ নিয়েছে গুগল। তবে একই ইস্যুতে টেক প্রতিষ্ঠানটির দ্বিমুখী আচরণ সামনে এসেছে। বলা হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তন অস্বীকার করে বিষয়টিকে একটি মিথ হিসেবে বিবেচনা করে, এমন ডজনখানেক প্রতিষ্ঠান থিংক ট্যাংকের তহবিলে অর্থায়ন করেছে গুগল। এর মধ্য দিয়ে জলবায়ু ইস্যুতে গুগলের নীতিগত অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান বিজনেস ইনসাইডার।

গার্ডিয়ানের অনুসন্ধানে ওয়াশিংটনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কম্পিটিটিভ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের (সিইআই) নাম এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মেরন ইবেল জলবায়ু পরিবর্তনকে ধারণাগত ভ্রান্তি বলে উল্লেখ করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। ২০১৭ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাম প্রত্যাহারের পেছনে সিইআই এর পরিচালক প্রভাবক ছিলেন বলে মনে করা হয়। অবস্থা থেকে ইমেজ ফিরিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি গুগলের কাছ থেকে বড় ধরনের অর্থায়ন পেয়েছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক অন্য দুটি থিংক ট্যাংক হলো হেরিটেজ ফাউন্ডেশন আমেরিকান কনজারভেটিভ ইউনিয়ন। দুটি প্রতিষ্ঠানই জলবায়ু পরিবর্তনের ইস্যুটিকে মিথ হিসেবে বিবেচনা করে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠান দুটিতে অর্থায়ন করেছে গুগল। রকম ডজনখানেক প্রতিষ্ঠানের কথা অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এসব প্রতিষ্ঠান থিংক ট্যাংকে গুগলের পক্ষ থেকে কী পরিমাণ অর্থায়ন করা হয়েছে তা জানা যায়নি।

অথচ জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে গুগল বরাবরই সোচ্চার ছিল। গত ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন চলাকালে গুগলের বিভিন্ন অফিস থেকে শতাধিক কর্মী গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইকে অংশ নিতে পথে নেমে এসেছিলেন। বিভিন্ন ব্লগ পোস্টে তারা জলবায়ু পরিবর্তন রোধে দ্রুত উদ্যোগী হতে বিশ্বনেতাদের আহ্বান জানিয়েছেন।

আন্দোলনের পরপরই গুগল সিইও সুন্দর পিচাই জলবায়ু ইস্যুতে আরো কার্যকর নীতি উদ্যোগ নেয়ার বিষয়ে কর্মীদের আশ্বস্ত করেছেন। এর পর গুগল বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে ১৮টি নবায়নযোগ্য জ্বালানি চুক্তি করেছে। চুক্তির আওতায় সৌরশক্তি বাতাস ব্যবহার করে নিজস্ব অফিস কারখানার জন্য প্রাথমিকভাবে হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে গুগল। পরবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাপী সক্ষমতা হাজার ৫০০ মেগাওয়াটে উন্নীতের পরিকল্পনা রয়েছে। গুগলের ইতিহাসে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে এটাই সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।

এসব বিনিয়োগ চুক্তির পর পরই গুগলের বিরুদ্ধে জলবায়ু ইস্যুতে ভিন্ন অবস্থানে থাকা প্রতিষ্ঠান থিংক ট্যাংকে অর্থায়নের অভিযোগ উঠল। বিষয়ে গুগলের মুখপাত্র গার্ডিয়ানকে বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান শুধু জলবায়ু ইস্যুতে কাজ করে, এমন কোনো প্রতিষ্ঠানে তহবিল সরবরাহ করেনি গুগল।

বিজনেস ইনসাইডারকে প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র বলেছেন, প্রযুক্তি খাতে কার্যকর নীতি প্রণয়নকাজে গুগলের পক্ষ থেকে তৃতীয় পক্ষের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থিংক ট্যাংকে অর্থায়ন করা হয়েছে। এর মানে এই নয় যে, আমরা ওইসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নীতিতে হস্তক্ষেপ করব। এমনকি জলবায়ু ইস্যুতে গুগল ২০০৭ সালের পর থেকে অভিন্ন নীতিতে অটুট রয়েছে। নীতিগত অবস্থান পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা নেই। শতভাগ কার্বন নিউট্রাল কোম্পানি হিসেবে গুগল পরিচালিত হচ্ছে। এখন শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের পরিকল্পনা এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।

এক বিবৃতিতে গুগল জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় আমরা এককভাবে লড়ছি। তবে যদি আমরা বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নিই, তবে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ রচনা করতে পারব।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন