বৃহস্পতিবার | নভেম্বর ২১, ২০১৯ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ফিচার

এসেনশিয়াল অয়েলের উপকারিতা তেমন নেই!

বণিক বার্তা অনলাইন

এসেনশিয়াল অয়েল বহুকাল আগে থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সেসময় তা ব্যথানাশক মলম ও সুগন্ধির বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ইদানিংকালেও এসেনশিয়াল অয়েলের ব্যাপক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই বলেন, এসেনশিয়াল অয়েল বা উদ্ভিদ ভিত্তিক ল্যাভেন্ডার, মিন্ট, ইউক্যালিপ্টাস ইত্যাদি তেলগুলো শরীরের বিভিন্ন নিরাময় সাধনে সহায়তা করে। তবে এসেনশিয়াল অয়েল সম্পর্কে ব্যাপক ইতিবাচক কথা প্রচলিত থাকলেও এসব তেল আসলেই কতটা উপকারী ও নিরাপদ সে সম্পর্কে বিজ্ঞান খুব একটা নিশ্চিত না। অনেক বিশেষজ্ঞের ধারণা, এই তেল বিষয়ে স্বাস্থ্যবিষয়ক যতগুলো গুণাগুণের কথা প্রচলিত, তার সবগুলোর উপস্থিতি এতে নেই।

 

উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশ যেমন- কাণ্ড, পাতা অথবা বীজ থেকে নির্যাস নিয়ে তৈরি করা হয় এসেনশিয়াল অয়েল। যা কিনা শারীরিক ও মানসিক আরোগ্যলাভের জন্য অ্যারোমাথেরাপিতে ব্যবহার করা হয়। ভিন্ন উদ্ভিদ থেকে নেয়া আলাদা ধরনের তেলগুলোর ভিন্ন ভিন্ন উপকারিতা রয়েছে। যেমন- পিপারমিন্ট শক্তিবর্ধন করে, ল্যাভেন্ডার মনকে শান্ত রাখে, জেসমিন মুড ভালো রাখে ইত্যাদি। কিছু তেল আবার ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, ইনফেকশন, হৃদরোগ ইত্যাদির উপসর্গ কমাতে ব্যবহার করা হয়।

 

ক্যালিফোর্নিয়ার ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিন গ্রুপ অব আরভাইনের প্রতিষ্ঠাতা, ফিলিস গের্শের মতে, সিন্থেটিক ফার্মাসিউটিক্যাল ওষুধগুলো তাদের আবেদন হারিয়েছে, যার ফলে মানুষ এসেনশিয়াল অয়েলের মতো আরও প্রাকৃতিক বিকল্পের সন্ধান করছে।

 


যুক্তরাষ্ট্রের কানেক্টিকাটের নিউ হ্যাভেনের ইয়েল ক্যান্সার সেন্টারের ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিন প্রোগ্রামের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক গ্যারি সোফার বলেন, এসেনশিয়াল অয়েল নিয়ে আমাদের গবেষণা খুবই ছোট পর্যায়ে হয়েছে। এ নিয়ে ক্লিনিক্যাল গবেষণা ইঁদুরের ওপর করা হয়েছে, মানুষের ওপর নয়। ফলে এসেনশিয়াল অয়েলের যে স্বাস্থ্যপোকারিতার কথা বলা হয় তার নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ নেই।

 

কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে, এসেনশিয়াল অয়েল অ্যাংজাইটি প্রতিরোধে ও ভালো ঘুম হওয়ায় ভূমিকা রাখে। তবে কীভাবে এসেনশিয়াল অয়েল শরীরের সঙ্গে সমন্বয় করে ও স্বাস্থ্যের অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে তা জানার জন্য আরও গবেষণা হওয়া দরকার।

 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা চিন্তিত এই বিষয়ে যে, স্বাস্থ্যপোকারিতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে কোনো জ্ঞান না রেখেই অনেকে প্রতিদিন এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার করেন ।

 

এ প্রসঙ্গে সোফার বলেন, স্বাস্থ্যপোকারিতার যথেষ্ট প্রমাণ ছাড়া এসেনশিয়াল অয়েলের অতিরিক্ত ব্যবহার অবশ্যই উদ্বিগ্নতার কারণ।  

অনেকে মনে করেন, এসেনশিয়াল অয়েলে ব্যথানাশকের প্রভাব থাকে। এ প্রসঙ্গে ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড হেলথ কেয়ারের মনোচিকিৎসক কিথ হামফ্রিস বলেছেন- উদ্বেগ, হতাশা ও বেদনাসহ বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে যখন কেউ কোনও কিছুকে মানসিকভাবে সহায়ক মনে করে তখন তা থেকে কখনও কখনও উপকার পাওয়া যাচ্ছে বলে অনুভূত হয়। তবে এসেনশিয়াল অয়েলে প্লেসবোর মতো উপকারিতা রয়েছে এ ধারণা সন্দেহজনক।

 

যদিও অ্যারোমাথেরাপির কোনো ক্ষতিকারক ভূমিকা নেই। তবে কেউ যদি প্রয়োজনের তুলনায় বেশি এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার করেন তাহলে স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে। এর অতিরিক্ত ব্যবহারে বেড়ে উঠতে পারে টিউমার, ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে ত্বক, লিভার, কিডনি ও অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। অতিরিক্ত ল্যাভেন্ডার এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহারে হরমোনের ভারসাম্যহীনতাও দেখা দিতে পারে।

 

হাফপোস্ট অবলম্বনে এস. সামরিন

 

 

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন