শনিবার | নভেম্বর ২৩, ২০১৯ | ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

শেষ পাতা

মহিলা শ্রমিক লীগের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

জনগণ ভোট না দিলে বিরোধী দল টেনে নামাত

নিজস্ব প্রতিবেদক

জনগণ ভোট না দিলে বিরোধী দল বর্তমান সরকারকে ক্ষমতা থেকে টেনে নামাত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া ভোটারবিহীন নির্বাচন করেছিলেন। কিন্তু জনগণের দাবির মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। একইভাবে বিরোধী দল সরকারকেও টেনে নামাত, যদি জনগণ আমাদের ভোট না দিত। জনগণ ভোট দিয়েছে বলেই পর্যন্ত তারা কিছুই করতে পারেনি।

গতকাল রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহিলা শ্রমিক লীগের সম্মেলন উদ্বোধনকালে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, তারা তো নির্বাচনটাকে নিয়েছিল একটা বাণিজ্য হিসেবে। এক সিট বিক্রি করেছে তিনজনের কাছে। তিনজন টাকা খেয়েছে। কেউ লন্ডনে টাকা নিয়েছে, কেউ নিয়েছে গুলশান অফিস থেকে। কেউ নিয়েছে পল্টন অফিস থেকে। দেখলাম, তাদের এক নেতা খুব বক্তৃতা দিচ্ছেন সরকার ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসেনি। আমি তাকে জিজ্ঞেস করতে চাইউনি কবে কখন কোন নির্বাচিত সরকারের মন্ত্রী ছিলেন? যখনই অবৈধভাবে যে ক্ষমতায় আসছে, সে তার সঙ্গে চলে গেছেন মন্ত্রী হতে।

ফেনী নদীর পানি বণ্টন সমঝোতা স্মারকের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত এলাকার নদী মানে নদীতে সমান অংশীদারিত্ব আছে ভারত বাংলাদেশের। সেখান থেকে তারা একটু খাবার পানি নেবে। সেটা দিয়েই নাকি নদী বেচে দিলাম। খুব আন্দোলন, স্লোগান, বক্তৃতা। একটা মানুষ যদি পান করার জন্য পানি চায়, দুশমন হলেও তো মানুষ তাকে পানি দেয়। সেটার জন্য এত কান্নাকাটি করার কী আছে? যারা এত কাঁদছেন তাদের জিজ্ঞাসা করি, গঙ্গার পানি কোথায় আনার কথা, খালেদা জিয়া দিল্লি গিয়ে ভুলে গেলেন। কেউ তো আনলেন না। তিস্তায় ব্যারেজ দিল, ইন্ডিয়াকে শিক্ষা দেবে বলেছিলেন এরশাদ। এখন শিক্ষা দেয়ার পরিবর্তে পানি ভিক্ষা চাইতে হচ্ছে। জিয়াউর রহমান গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসে থাকলেন, তার ক্ষমতাটা নিরঙ্কুশ করতে। কোনো কথা বলতে পারলেন না, যা বললেন হুবহু তাই শুনে এলেন। যদি ন্যায্য অধিকার আদায় করে থাকি, আমি শেখ হাসিনাই করেছি।

তিনি বলেন, আমরা গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা এনেছি। আমরা পানি চুক্তি করতে সক্ষম হয়েছি। স্থল সীমানা চুক্তি আমরা করেছি। সমুদ্রসীমায় আমাদের অধিকার আমরা রক্ষা করতে পেরেছি। লাভ-লোকসান হিসাব করলে বাংলাদেশেরই লাভ বেশি। মানুষের মাঝে একটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার জন্য জ্ঞানপাপীরা জেনেশুনেই এসব কথা বলে যাচ্ছেন।

নারী-পুরুষের সমতা তুলে ধরে তিনি বলেন, একটা সমাজে যদি নারী-পুরুষ সমানভাবে কাজ করতে না পারে, সুযোগ না পায়, তাহলে সে সমাজ দাঁড়াতে পারে না। আমরা দুই পা দিয়ে হাঁটি, এক পা খোঁড়া হলে আমাদের খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়েই চলতে হবে। আর দুই পা ঠিক থাকলে আমরা সুস্থভাবে হাঁটতে পারি।

মহিলা শ্রমিক লীগ নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমাদের কিন্তু শুধু শ্রমিক লীগই ছিল, মহিলা শ্রমিক লীগ ছিল না। আমাদের নিজেদের কিন্তু রকম সংগঠন ছিল না। সংগঠন তৈরি করতে গিয়ে নানা ধরনের বাধার সম্মুখীন হই। সবচেয়ে বড় বাধা আমাদের শ্রমিক লীগের পক্ষ থেকে আসে। আবার আওয়ামী লীগের নেতারাও জেলায় জেলায় বাধা দিতেন।

বিদেশে কাজ করতে যাওয়া প্রবাসীদের নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এত সুযোগ-সুবিধা করে দেয়ার পরও আমাদের দেশের মানুষের একটা প্রবণতা আছে। মেয়েরা অনেক সময় লোভে পড়ে, কিছু দালালের খপ্পরে পড়ে বিদেশ পাড়ি জমায়। তারপর সেখানে বিপদে পড়ে, লাঞ্ছিত হয়। ক্ষেত্রে আমি মনে করি আমাদের মহিলা শ্রমিক লীগের একটা দায়িত্ব আছে। সারা দেশে মানুষের মাঝে একটা সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে, যেন কেউ রকম দালালের খপ্পরে পড়ে বিদেশে পাড়ি না জমায়।

শেখ হাসিনা বলেন, দুর্ভাগ্য হলেও সত্য, এর বাইরেও ঘটনা আছে। এমন অনেক মহিলাকে আমরা উদ্ধার করেছি, যাদের বিয়ে হয়ে গেছে, বাচ্চাও আছে, কিন্তু স্বামী, শাশুড়ি কিংবা শ্বশুরবাড়ির লোক মিলে বাড়ির বউকে বিক্রি করে দিয়েছে। তাকে নিয়ে গেছে একটা পরদেশে। সেখানে তার আশ্রয় হয়েছে পতিতালয়ে। রকম খবর পেয়ে সেখান থেকে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়েছে। রকম অন্যায় যারা করবে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি নেব। কেন এভাবে অন্যায়ভাবে তারা মেয়েদের বিক্রি করবে? আমাদের সমাজের এসব অন্ধকার দিক দূর করতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় জিয়াউর রহমান থেকে শুরু করে এরশাদ খালেদা জিয়ার আমলে অস্ত্রের ঝনঝনানি ছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেধাবী ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়া হয়েছিল। আমি শুধু জিজ্ঞেস করতে চাই, এত ছাত্রহত্যা হয়েছে, কয়টার বিচার কে করেছে? সেই ৭৪ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে বিচার করেছে। আর পরে যখনই আমরা ক্ষমতায় এসেছি, তখনই আমরা সঙ্গে সঙ্গে বিচার করেছি। এর বাইরে কেউ আজ পর্যন্ত বলতে পারবে কোনো বিচার হয়েছে?

বুয়েট ছাত্রী সাবিকুন নাহার সনি হত্যার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তখন কে প্রতিবাদ করল? তখন বুয়েটের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনকে তো নামতে দেখিনি। প্রতিবাদ করতে দেখিনি তাদের, তখন তারা কথা বলেনি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে সবার কথা বলার অধিকার আছে। বলতে পারে, অন্তত সুযোগটা আছে। আমাদের কথা একেবারে স্পষ্ট, কোনো অন্যায়-অবিচার আমরা সহ্য করব না। করি নাই, ভবিষ্যতেও করব না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ রাখতে হবে।

মহিলা শ্রমিক লীগের নতুন সভাপতি সুরাইয়া, সম্পাদক সাথী: গতকাল দুপুরে সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে নতুন কমিটির নাম ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া জানান, সদ্য বিদায়ী কমিটির কার্যকরী সভাপতি সুরাইয়া আক্তারকে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক শামসুন্নাহার ভূঁইয়াকে কার্যকরী সভাপতি এবং সাংগঠনিক সম্পাদক রহিমা আক্তার সাথীকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে। এছাড়া তাদের আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ৪৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন