শুক্রবার | ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

দেশের খবর

মেহেরপুরে অসময়ে বৃষ্টি

ক্ষেতে পচে নষ্ট হচ্ছে সবজি

বণিক বার্তা প্রতিনিধি মেহেরপুর

 এবার বর্ষায় কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে বৃষ্টি হয়নি কিন্তু বৃষ্টি ঝরছে শরতের শেষে এসে এতে বিপাকে পড়েছেন মেহেরপুরের সবজিচাষীরা অসময়ে বৃষ্টিপাতে পচা রোগ দেখা দিয়েছে ফুলকপি-বাঁধাকপিসহ বিভিন্ন সবজির ক্ষেতে কারণে চলতি মৌসুমে জেলায় শীতকালীন সবজি উৎপাদন কমতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মেহেরপুরের তিন উপজেলায় এবার প্রায় পাঁচ হাজার বিঘা জমিতে শীতকালীন সবজি বাঁধাকপি ফুলকপির আবাদ হয়েছে এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে গাংনী উপজেলায় কয়েক বছর ধরে ভালো দাম পাওয়ায় জেলার কৃষকরা এবারো শীতকালীন সবজি নিয়ে আশাবাদী ছিলেন অনেকে জমি বর্গা নিয়ে সবজি আবাদ করেছেন আগাম জাতের সবজি এরই মধ্যে বাজারে আসতে শুরু করেছে তবে কয়েক দিন ধরে বৃষ্টিপাত এখন কৃষকদের আশাভঙ্গের কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে

কৃষকরা জানান, এক বিঘা জমিতে বাঁধাকপি আবাদে ১৭ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয় আবহাওয়া অনুকূল থাকলে দুই মাস পর এসব জমি থেকে ৪৫-৭০ হাজার টাকার বাঁধাকপি বিক্রি করা যেত কিন্তু এবার অসময়ের বৃষ্টিপাতের কারণে ক্ষেতে পচা রোগ দেখা দিয়েছে এতে ৬০ হাজার টাকার কপি ২০ হাজারেও বিক্রি করা যাবে না অনেক ব্যবসায়ী বায়না করেও এখন কপি নিতে চাইছেন না এতে উল্টো লোকসান গুনতে হতে পারে একই অবস্থা ফুলকপিতেও

গাংনী উপজেলার সারহারবাটি গ্রামের সবজিচাষী মোশারেফ হোসেন জানান, ব্যবসায়ীরা কপি কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না আবার দামও দিচ্ছেন কম এদিকে বৃষ্টির কারণে পাতা গোড়াসহ সবজি পচে যাচ্ছে আমরা যেন উভয় সংকটে পড়েছি!

একই এলাকার আরেক সবজিচাষী খোকন বলেন, কিছুদিন আগে এক ব্যবসায়ী আমার জমির ফুলকপি ৭০ হাজার টাকায় কেনার চুক্তি করেন ওই সময় তিনি ২০ হাজার টাকা অগ্রিমও দেন কিন্তু বৃষ্টির পর ফুলকপি পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কারণে ওই ব্যবসায়ী আর কপি নিতে চাইছেন না

ব্যাপারে মেহেরপুরের সবজি ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম বলেন, বছরে আমি ১৩০ বিঘা জমির বাঁধাকপি ফুলকপি কিনেছি এর মধ্যে ১০০ বিঘার কপি এরই মধ্যে বিক্রিও করে ফেলেছি চাহিদা থাকায় দামও ভালো পেয়েছি কিন্তু বৃষ্টিপাতের ফলে এখন চাহিদা কমে গেছে জমিতে থাকা কপি নষ্ট হলেও আমাদের কিছু করার নেই কারণ আগের দামে আমরা নিজেরাই কপি বিক্রি করতে পারছি না

অসময়ে বৃষ্টিতে পচা রোগ দেখা দেয়ার কথা স্বীকার করে গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম সাহাব উদ্দীন বলেন, গাংনীতে চলতি মৌসুমে ২৬০ হেক্টর জমিতে শুধু বাঁধাকপিই চাষ হয়েছে বৃষ্টিতে সব ধরনের সবজিই পচে যাচ্ছে এতে এবার উৎপাদন কিছুটা কমতে পারে

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক . আক্তারুজামান বলেন, মেহেরপুরে সব ধরনের সবজির চাষ ভালো হয় কয়েক বছর ধরে শীতকালীন সবজির চাষ করে অনেকে লাভবান হয়েছেন কারণে এবার তিন উপজেলায় পাঁচ হাজার বিঘা জমিতে কপির আবাদ হয়েছে তবে বৃষ্টিপাতের কারণে এবার কিছুটা সমস্যা হচ্ছে এতে ফলন কমতে পারে আমরা ক্ষতি কমাতে যথাসাধ্য চেষ্টা করছি পচা রোগ দমনে কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের প্রতিষেধক ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন