বৃহস্পতিবার | নভেম্বর ১৪, ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

খবর

সিএনজি স্টেশনের জন্য আর জমি ইজারা দেবে না রেল

নিজস্ব প্রতিবেদক

সিএনজি ফিলিং স্টেশনের জন্য নতুন করে জমি লিজ (ইজারা) দেয়া হবে না। জমি উদ্ধারে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। রেলওয়ের জমিতে স্থাপিত সিএনজি ফিলিং স্টেশন রূপান্তর কারখানার লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণের পর করণীয় নিয়ে গঠিত এক কমিটির প্রতিবেদনে কথা বলা হয়েছে। গত বছরের জুলাই মাসে কমিটি গঠন করা হয়।

গতকাল রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে ওই প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। লিজ নিয়ে সিএনজি স্টেশন চালানোর লাইসেন্স নবায়ন নতুন আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ওই কমিটি গঠন করা হয়। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ওই কমিটি ইজারা মূল্য বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে জমি লিজ না দেয়ার সুপারিশ করে। মন্ত্রণালয়ের ওই কমিটি বিদ্যমান ১০টি সিএনজি স্টেশনের ইজারা মূল্য প্রতি বছর শতাংশ হারে বাড়ানোরও সুপারিশ করেছে।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রেলওয়ের জমিতে মোট ১০টি সিএনজি ফিলিং স্টেশন আছে। রেলওয়ের জমি বিঘাপ্রতি মাসিক ইজারা মূল্য ঢাকা মহানগরীর জন্য ১৫ হাজার টাকা, চট্টগ্রাম মহানগরী, নারায়ণগঞ্জ টঙ্গী পৌরসভার জন্য ১০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য মেট্রোপলিটন শহরের জন্য হাজার টাকা। কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ রেলওয়ে ক্রমবর্ধিষ্ণু। রেলওয়ের প্রধান কাজ রেল পরিচালনা করা, জমি লিজ দেয়া নয়। তবে বাড়তি আয়ের জন্য নন-কোর ব্যবসা হিসেবে জমি লিজ দেয়া হয়। জমি লিজ দিলে তা উদ্ধারের ক্ষেত্রে অনেক জটিলতার সৃষ্টি হয়। অবস্থায় নতুন করে জমি লিজ না দেয়াই সমীচীন।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, গত বছরই আমরা কমিটির সুপারিশ দিয়েছি। সে অনুযায়ী নীতিমালার খসড়া তৈরি করা হয়েছে। সংসদীয় কমিটি ওই খসড়া পর্যালোচনা করে সুপারিশ করবে।

বৈঠকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পে তিনটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মনে করছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। চ্যালেঞ্জগুলো হলো কক্সবাজার জেলার ভারুয়াখালী আশ্রয়ণ প্রকল্পের জমিতে বসবাসকারীদের ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ ওই জমি প্রকল্প কাজে ব্যবহার, চট্টগ্রাম জেলার ৪২ দশমিক শূন্য একর কক্সবাজার জেলার ১৬৫ দশমিক ১১ একর বনভূমির গাছ কাটার অনুমতি পাওয়া এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের আওতাভুক্ত ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতকরণ। সংসদীয় কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তথ্য জানানো হয়েছে।

বৈঠকে জানানো হয়, চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে মিয়ানমারের কাছে গুনদুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েলগেট ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্প দুটি পর্যায়ে সম্পন্ন হবে। দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার এবং রামু থেকে গুনদুম পর্যন্ত ২৮ দশমিক ৭২ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ হবে। বৈঠকে আরো জানানো হয়, ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইস্পিড ট্রেন চলাচলের জন্য গৃহীত সমীক্ষা প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৪৮ শতাংশ আর্থিক অগ্রগতি ৩৬ দশমিক ১৩ শতাংশ।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন