বৃহস্পতিবার | নভেম্বর ১৪, ২০১৯ | ৩০ কার্তিক ১৪২৬

দেশের খবর

৮টি জেনারেটরের ৫টিই বিকল

হাতিয়ায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে গ্রাহকদের ভোগান্তি

বণিক বার্তা প্রতিনিধি নোয়াখালী

 নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের আটটি জেনারেটরের মধ্যে পাঁচটিই বিকল চাহিদার অর্ধেকও বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ ফলে দৈনিক গড়ে ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন উপজেলার তিন হাজার গ্রাহক প্রায় পাঁচ মাস ধরে পরিস্থিতি চলছে

হাতিয়ার ওছখালী এলাকার কয়েকজন গ্রাহক জানান, উপজেলা সদর আশপাশের অল্প কিছু এলাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ বিদ্যুৎ সরবরাহ সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা এবং বিকাল ৩টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করার কথা কিন্তু এখন তো - ঘণ্টার বেশি পাওয়াই যাচ্ছে না

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের হাতিয়া আবাসিক প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হাতিয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য রয়েছে আটটি ডিজেলচালিত জেনারেটর এর মধ্যে একটি এক হাজার কিলোওয়াট আর বাকিগুলো ৪০০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দিনে ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সুবিধা দেয়ার কথা এর মধ্যে আবার লোডশেডিং থাকে দেড় থেকে ঘণ্টা এখানে বর্তমানে গ্রাহক তিন হাজার

সূত্র জানায়, বর্তমানে এক হাজার কিলোওয়াটের একটি এবং ৪০০ কিলোওয়াটের দুটি জেনারেটর সচল রয়েছে বাকিগুলো চার-পাঁচ মাস ধরে অকেজো হয়ে রয়েছে অবস্থায় বিদ্যুতের উৎপাদন হাজার ২০০ কিলোওয়াটে নেমে এসেছে যেখানে উপজেলায় মোট চাহিদা প্রায় তিন হাজার কিলোওয়াট

ওছখালী বাজারের ব্যবসায়ী ফিরোজ উদ্দিন বলেন, হাতিয়া এখনো অন্ধকারে রয়ে গেছে বিদ্যুৎ এখানকার বাসিন্দাদের কাছে সোনার হরিণের মতো বিদ্যুতের অভাবে এখানকার ব্যবসা-বাণিজ্যেও স্থবিরতা বিরাজ করছে

এদিকে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে হাতিয়ায় আসা পর্যটকরাও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সম্প্রতি হাতিয়া বেড়াতে যাওয়া নোয়াখালী বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইফতেখার হোসেন বলেন, কিছুদিন আগে কয়েকজন বন্ধুসহ ঘুরতে গিয়েছিলেন সেখানে বেশির ভাগ সময়ই বিদ্যুৎ ছিল না সারা দিন ঘোরাফেরার পর রাতে হোটেলে ফেরার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিদ্যুৎ চলে যেত তীব্র গরমে ঘোরার আনন্দই মাটি হয়ে গেছে

বিদ্যুতের সংকটের কথা স্বীকার করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, হাতিয়া কার্যালয়ের আবাসিক প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, আটটি জেনারেটরের মধ্যে পাঁচটি অকেজো চার-পাঁচ মাস ধরে উৎপাদন নেমে এসেছে প্রায় হাজার ২০০ কিলোওয়াটে বর্তমানে ঘাটতি হাজার ৮০০ কিলোওয়াট

তিনি জানান, বিকল জেনারেটর মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি লেখা হয়েছে এরই মধ্যে প্রাথমিক প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে শিগগিরই মেরামতের কাজ শুরু হবে

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, পাঁচ মাস ধরে পাঁচটি জেনারেটর বিকল এমন নয়, আটটি জেনারেটরের সবগুলো একসঙ্গে কখনই উৎপাদনে ছিল না বেশির ভাগ সময় চার-পাঁচটি জেনারেটর বিকল থাকে তাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভাগের গাফিলতির কারণেই সাধারণ মানুষের এভাবে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে

উপজেলা সদরের আশপাশে বেশ কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজ রয়েছে গ্রীষ্মকালে লোডশেডিংয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠে মনোযোগে সমস্যা হয় ওছখালী শহরে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা সময়মতো করা যাচ্ছে না ফলে রোগ পরীক্ষার জন্য নমুনা নিয়ে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে এছাড়া ফটোকপি, কম্পিউটার ঠিকমতো চালাতে না পারার কারণে দাপ্তরিক কাজেও ব্যাঘাত ঘটছে

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন