মঙ্গলবার | অক্টোবর ২২, ২০১৯ | ৭ কার্তিক ১৪২৬

পণ্যবাজার

চাল মজুদের স্থান সংকটে ভারত

বণিক বার্তা ডেস্ক

চলতি মাসে চাল সংগ্রহ শুরু করবে ভারত। কিন্তু দেশটির সরকারি শস্যাগারগুলো এরই মধ্যে পরিপূর্ণ। এ অবস্থায় নতুন মৌসুমে সংগ্রহ করা চাল মজুদের জায়গা নিয়ে বিপাকে পড়েছে সরকার। খবর ইকোনমিক টাইমস।

এদিকে জায়গা না থাকলেও চাল সংগ্রহ কমানোর কোনো পরিকল্পনা নেই সরকারের। দেশটির খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জায়গা সংকট তাদের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা। এবার পাঞ্জাব ও হরিয়ানা রাজ্য থেকে সবচেয়ে বেশি চাল সংগ্রহ করা হবে। কিন্তু রাজ্য দুটির গুদাম এরই মধ্যে খাদ্যশস্যে ভরাট রয়েছে।

এ কর্মকর্তা আরো জানান, অস্থায়ী ভিত্তিতে তৈরি জায়গায় গম মজুদ করা গেলেও চালের জন্য পুরোপুরি আবদ্ধ জায়গার প্রয়োজন হয়। সে কারণে পুরনো গুদামগুলো খালি করে চালের জন্য ব্যবহার করা হতে পারে।

জনস্বার্থে সরবরাহ ও অন্যান্য উন্নয়নমুখী কাজে বিতরণের জন্য কেন্দ্রীয় পুলের জন্য শস্য সংগ্রহ করেন ফুড করপোরেশন অব ইন্ডিয়া (এফসিআই) প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বর্তমানে চাল ও গমের যৌথ মজুদ রয়েছে ৭ কোটি ১০ লাখ টন। এর বাইরে ৮০ লাখ টন ধান সংগ্রহ করা রয়েছে। এর পরও এটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প পরিচালনা করার জন্য প্রয়োজনীয় চাল ও গমের তুলনায় তিন গুণ কম। এ কারণে যেকোনো মূল্যে চালের মজুদ বাড়াতে চায় সরকার।

এফসিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে মোট ৮ কোটি ৮০ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুদের জায়গা রয়েছে। এর মধ্যে ৭ কোটি ৫০ লাখ টন আবদ্ধ গুদাম। বাকি ১ কোটি ৩০ লাখ টন পলিথিনের তৈরি অস্থায়ী জায়গায় (সিএপি) মজুদ রাখা হয়। এর মধ্যে পাঞ্জাব থেকে সংগ্রহ করা প্রায় ৭৫ শতাংশই গম সিএপিতে মজুদ রাখা হয়, যা বৃষ্টি বা বিরূপ হাওয়ায় কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর এ মৌসুমে সংগ্রহ বেশি হবে বিধায় আরো গম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ অবস্থায় খাদ্যশস্য জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে ব্যয় করে দেশটির পুরনো গুদামগুলো খালি করাকে প্রাধান্য দিচ্ছে খাতসংশ্লিষ্টরা। কারণ মজুদের জন্য এফসিআইয়ের খরচ বাড়ছে।

এফসিআইয়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ী২০১৭-১৮ অর্থবছরে খাদ্যশস্য মজুদে প্রতিষ্ঠানটির ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৬১০ কোটি ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ৩৫৮ কোটি রুপি। চলতি অর্থবছরে ব্যয় আরো বেড়ে ৫ হাজার ২০১ কোটি রুপিতে দাঁড়াতে পারে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে।

এর বিপরীতে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত গত পাঁচ বছরে এফসিআইয়ের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি রুপি। যেখানে ২০১৪ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির ঋণের পরিমাণ ছিল ৯১ হাজার ৪০৯ কোটি রুপি। সেই হিসাবে গত পাঁচ বছরে প্রতিষ্ঠানটির ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ১৯০ শতাংশের বেশি।

এ পরিস্থিতিতে গত এপ্রিলে গুদামকৃত চাল ও গম বিক্রির জন্য নিলাম ডাকে এফসিআই। মিলার ও বিস্কুট উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ১ কোটি টন গম ও ৫০ লাখ টন চাল বিক্রির এ নিলাম ডাকা হয়।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন