মঙ্গলবার | অক্টোবর ২২, ২০১৯ | ৭ কার্তিক ১৪২৬

টকিজ

মূকাভিনয় নিয়েই যাত্রা...

ফিচার প্রতিবেদক

থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় রেবেল লাইভ অ্যাকশন ইকো আর্ট ফেস্টিভ্যালে বাংলাদেশ থেকে আমন্ত্রিত একমাত্র নাট্য সংগঠন ব্ল্যাকফ্লেইম থিয়েটারের প্রতিনিধি হিসেবে এতে অংশগ্রহণ করবেন মূকাভিনয়শিল্পী নির্দেশক তানভীর শেখ। ১৪-১৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে উৎসব। উৎসবে অংশগ্রহণ ছাড়াও মূকাভিনয় নিয়ে কথা হয়েছে তানভীরের সঙ্গে। তার সঙ্গে কথোপকথনের খানিকটা তুলে ধরা হলো পাঠকের জন্য

থা ইল্যান্ডে মূকাভিনয় উৎসবে যোগ দিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে সম্পর্কে বলুন।

থাইল্যান্ডের ভিন্নধারার একটি থিয়েটার দলরেবেল আর্ট স্পেসআয়োজন করেছে রেবেল লাইভ অ্যাকশন ইকো আর্ট ফেস্টিভ্যালের। এটা মূলত পারফরম্যান্স আর্ট ফেস্টিভ্যাল। এখানে বিশ্বের ১০টি দেশ থেকে শিল্পীরা অংশগ্রহণ করতে আসবেন। নাট্যোৎসবে আমার একটি মূকাভিনয় প্রযোজনা থাকবে।দ্য ব্লাইন্ড পারর্স্পেক্টিভনামে প্রযোজনাটি ছাড়াও উৎসবের নির্ধারিত সেমিনারআর্টিস্ট টক’- ১৬ অক্টোবরবাংলাদেশের সমকালীন নাট্যচর্চা মূকাভিনয়-এর সম্ভাবনাশীর্ষক ভিজ্যুয়াল প্রতিবেদন উপস্থাপন করব। এছাড়া একটি বিশেষ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করব ছয় দিনব্যাপী উৎসবে।

মূকাভিনয় নিয়ে জানতে চাই আপনার কাছে

প্রাচীনকালে যখন শব্দ বা ভাষার প্রচলন হয়ে ওঠেনি, তখন কিন্তু মানুষ একে অন্যের সঙ্গে ভাব আদান-প্রদান করত বিভিন্ন ইশারা-ইঙ্গিতের মাধ্যমে। সে হিসেবে বলা যায় মূকাভিনয় প্রাচীন শিল্পমাধ্যম। যেহেতু এর প্রচলন অনেক কাল আগে থেকেই। অন্যদিকে মূকাভিনয় বা মাইম হচ্ছে শক্তিশালী শিল্পমাধ্যম। অনেক না বলা কথা শিল্পমাধ্যমের দ্বারা প্রকাশ করা সম্ভব, প্রতিবাদ করা সম্ভব। মূকাভিনয়কে বলা হয় নীরব প্রতিবাদের ভাষা।


মূলধারার অভিনয় থেকে ভিন্ন মূকাভিনয়, আপনার চোখে এর বিশেষত্ব কী?

মূকাভিনয়ের মূল বিষয়টিই হচ্ছে এখানে কোনো প্রপস থাকে না, পুরোটাই অভিনয়দক্ষতা দিয়ে বাস্তব উপস্থাপন করতে হয়। ফলে এখানে ভিন্ন রকম চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অন্যদিকে ইলিউশনের কারণেও একটা ভিন্ন মাত্রা পায় মাইম আর্ট।

মূকাভিনয়ের সঙ্গে আপনার সম্পৃক্ততা কবে থেকে?

আমি বড় হয়েছি পাবনায়। ছোটবেলা থেকেই শিল্প-সংস্কৃতির সঙ্গে সখ্য ছিল আমার। সাংস্কৃতিক বিভিন্ন কাজ আমাকে বেশ টানত। এই টান থেকে কখন যে তা ভালোবাসায় রূপ নিয়েছে, নিজেও বুঝে উঠতে পারিনি। একটা সময় ঢাকার একটি থিয়েটার দল স্বপ্নদলে যুক্ত হয়ে পড়ি। সেখানে মঞ্চে অভিনয়ের পাশাপাশি সুযোগ ছিল মূকাভিনয় করারও। বলা যায়, সে দলের অন্যতম একটি অংশ হচ্ছে মূকাভিনয়। এমনকি দলের প্রতিষ্ঠাতা জাহিদ রিপন মূকাভিনয় ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবেও কাজ করছিলেন। যা- হোক, স্বপ্নদলে কাজের সুবাদে একটা সময় টের পেলাম মঞ্চনাটকের পাশাপাশি মূকাভিনয়ে আমার আগ্রহ রয়েছে। এভাবেই জড়িয়ে পড়ি মূকাভিনয়ে। খুব ঠিকঠাক করে বলা হলে বলা যায় ২০১২ সাল থেকে মূকাভিনয় করছি।

ব্ল্যাকফ্লেইম থিয়েটারের শুরুর গল্প জানতে চাই।

স্বপ্নদলের বেশকিছু প্রযোজনার সঙ্গে আমি কাজ করেছি। দেশ দেশের বাইরে বিভিন্ন স্থানে শো করেছি। প্রাচ্যনাট স্কুল অব অ্যাক্টিং অ্যান্ড ডিজাইন থেকে অভিনয়ের ওপর কোর্স সম্পন্ন করেছি। এসব একটা একটা করে শেষ করছি আর ভাবতাম, যা করছি সেটার নিজস্বতা থাকা প্রয়োজন। বলা যায়, বোধ থেকেই ২০১৭ সালে শুরু করি ব্ল্যাকফ্লেইম থিয়েটার। ব্ল্যাকফ্লেইম থিয়েটার থেকে বেশকিছু জাতীয় আন্তর্জাতিক শোতে অংশগ্রহণ করেছি এর মধ্যেই। যেমনটা বলা যায়, গত বছরই ব্যাংকক থিয়েটার ফেস্টিভ্যালে অংশগ্রহণ করেছি। বাংলাদেশ থেকে একটি দলই অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইম অ্যাকশনের আয়োজনে পরপর দুবার ডোমা ইন্টারন্যাশনাল মাইম ফেস্টে অংশগ্রহণ করেছি। এমন বেশকিছু উৎসবে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা রয়েছে ব্ল্যাকফ্লেইম থিয়েটারের। বর্তমানে নিয়মিত-অনিয়মিত মিলে সদস্য সংখ্যা চল্লিশেরও বেশি।


মূকাভিনয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কঠিন বিষয় কোনটি এবং সবচেয়ে সহজ মনে হয় কী?

আসলে মাইমের পুরো বিষয়টিই কঠিন, আবার খুবই সহজ। একটু খুলে বলি, মূকাভিনয় কঠিন এজন্য যে শিল্পীর সামনে কিছুই নেই, কিন্তু তাকে এমনভাবে উপস্থাপন করতে হবে যেন সবকিছুই রয়েছে তার সামনেই। অন্যদিকে ঠিক বিষয়টির জন্যই কখনোবা সহজ মনে হয় শিল্প।

যেকোনো শিল্প দিয়েই আন্দোলন গড়ে তোলা যায়, বদলানো যায় সমাজ। মূকাভিনয় দিয়ে সমাজ বদলানো সম্ভব বলে মনে করেন?

একটা অভিজ্ঞতা দিয়ে বলি, ২০১৩ বা ২০১৪ সালের ঘটনা, সংসদ ভবনের সামনে প্রাচীর দেয়ার কথা বলা হচ্ছিল সে সময়। তখন আমরা মাইম শিল্পীরা একটা আন্দোলন করেছিলাম যে লুই আই কানের নকশায় সংসদ ভবনের সামনে কোনো প্রাচীর ছিল না। আমরা এটা করতে দিতে পারি না। তখন প্রাচ্যনাট স্কুলের হয়ে আমরা মূকাভিনয় অন্যান্য শিল্পমাধ্যমের দ্বারা আন্দোলন করে যাই। পরবর্তী সময়ে সেখানে আর সেভাবে প্রাচীর দেয়া হয়নি। এই যে শিল্পের শক্তি, এটাকেই কাজে লাগিয়েছি আমরা। এমন অনেক ঘটনা রয়েছে, যার দ্বারা ছোট ছোট অনেক কিছুই বদলানো সম্ভব হয়েছে। শিল্পের শক্তি দিয়ে চারপাশ বদলানো যায় বলেই বিশ্বাস করি। তবে সেই সঙ্গে এটাও বলতে চাই, শিল্প পরিচিতি পাক আরো ভালোভাবে। এর গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হওয়া প্রয়োজন।

 

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন