মঙ্গলবার | অক্টোবর ২২, ২০১৯ | ৭ কার্তিক ১৪২৬

দেশের খবর

ভিসিকে আবরারের বাড়িতে ঢুকতে দেয়নি এলাকাবাসী

আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তাকে দাফনের একদিন পর তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ায় পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গেলেও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলামকে বাড়ি পর্যন্ত দেয়নি বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

বুধবার সকাল ১০টার দিকে তিনি কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা করে বিকেলে আবরারের গ্রামে গিয়ে পৌঁছান। খবর পেয়ে এলাকাবাসী আগে থেকেই যাওয়ার পথে অবস্থান নেন। এসময় ভিসির নিরাপত্তার জন্য তার গাড়ির সঙ্গে বেশ কয়েকজন পুলিশ দেখা যায়।  এসময় তারা ‘ভুয়া ভুয়া’ বলেও স্লোগান দিতে থাকেন। এসময় পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে তাদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে। তোপের মুখে পড়ে ভিসি গাড়ি ঘুরিয়ে ফিরে আসতে বাধ্য হন। 

এসময় বিক্ষুব্ধ একজন বলেন, ‘আমরা বুয়েটে আবরারের মৃতদেহ নিয়ে আট থেকে ১০ ঘণ্টা অবস্থান করেছি। তিনি আমাদের সঙ্গে দেখা করতে পর্যন্ত আসেননি। এখন কেন এখানে এসেছেন?’

পরে অভিযোগ করা হয়, ধাক্কাধাক্কির সময় ফাহাদের ছোট ভাই ফাইয়াজকে কোন এক পুলিশ সদস্য লাঞ্ছিত করেছেন। বিষয়টা জানাজানি হলে বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা মিছিল বের করে বিক্ষোভ করতে থাকেন।  

প্রসঙ্গত, গত রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে বুয়েটের শের-ই-বাংলা হল থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭ তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী আবরারের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে ওই রাতেই হলটির ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারকে বেদম প্রহার করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে সোমবার সন্ধ্যার পর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন নিহত আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ্। কুষ্টিয়ার ছেলে আবরারের বাবা বরকতুল্লাহ বর্তমানে একটি এনজিও সংস্থায় কর্মরত। মা রোকেয়া খাতুন একটি কিন্ডার গার্টেন স্কুলের শিক্ষকতা করেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে আবরার ফাহাদ বড়।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন