মঙ্গলবার | অক্টোবর ২২, ২০১৯ | ৭ কার্তিক ১৪২৬

খবর

বুয়েটে ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি নিষিদ্ধের ‘সিদ্ধান্ত’ শিক্ষক সমিতির

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) শিক্ষক ও ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বুয়েট শিক্ষক সমিতি। বুধবার শিক্ষক সমিতির এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সমিতির বৈঠক শেষে বিকেলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সামনে এসে সভাপতি অধ্যাপক কে এম মাসুদ রাজনীতি নিষিদ্ধসহ বিভিন্ন বিষয়ে গৃহীত সিদ্ধান্তসমুহ জানান।

তিনি জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া বৈঠকে শিক্ষক সমিতির প্রায় ৩০০ শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে আবরার হত্যায় শোকপ্রস্তাব করা হয়। নিহত আবরারের রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। একজন ডিন দোয়া পড়ান।

তিনি আরো বলেন, আবরার নিহতের ঘটনায় আমরা নিজেদের দায় এড়াতে পারি না। আমরা এই ব্যর্থতা মেনে নিয়ে আবরারের পরিবারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছি। 

বৈঠকে ক্যাম্পাসে ছাত্র ও শিক্ষক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি এসময় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিও বুয়েটে সবধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা না করার জন্য অনুরোধ জানান। সেই সঙ্গে শিক্ষকদের নিজনিজ দলীয় মতাদর্শ থাকলেও ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে কোন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ না নেয়ার অনুরোধ করেন তিনি।

বৈঠকে হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে বুয়েট ভিসির পদত্যাগসহ ১০ দফা দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বুয়েট শিক্ষক সমিতি। তারা আবরার হত্যায় প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় নিয়ে ভিসি সাইফুল ইসলামকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানান। ভিসি নিজে থেকে পদত্যাগ না করলে তাকে অপসারণের জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান অধ্যাপক মাসুদ।

গত রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে বুয়েটের শের-ই-বাংলা হল থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭ তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী আবরারের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে ওই রাতেই হলটির ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারকে বেদম প্রহার করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে সোমবার সন্ধ্যার পর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন নিহত আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ্। কুষ্টিয়ার ছেলে আবরারের বাবা বরকতুল্লাহ বর্তমানে একটি এনজিও সংস্থায় কর্মরত। মা রোকেয়া খাতুন একটি কিন্ডার গার্টেন স্কুলের শিক্ষকতা করেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে আবরার ফাহাদ বড়।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন