মঙ্গলবার | অক্টোবর ২২, ২০১৯ | ৭ কার্তিক ১৪২৬

শেষ পাতা

প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা গড়তে পারেনি চট্টগ্রাম বন্দর

নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম ব্যুরো

দেশে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দর। যদিও প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা এখনো গড়ে ওঠেনি দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরটির। প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনায় বন্দরের নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনভিজ্ঞতার কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবাও পাচ্ছেন না বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বন্দরের কম্পিউটার সেন্টার নিয়ন্ত্রিত সফটওয়্যার সিস্টেমে প্রায় সময়ই সমস্যা দেখা দেয়। সম্প্রতি অর্থ হিসাব বিভাগের বিভিন্ন শাখায় বিল পাস, ব্যয় বুকিং, বিল আয় শাখায় ভেসেল বিলিং সফটওয়্যারে বিল প্রস্তুতকরণের কাজে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয় এবং তা প্রায় দুই সপ্তাহ চলে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সফটওয়্যার সিস্টেমের সমস্যা সমাধানে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরের সিস্টেমস অ্যানালিস্টকে চিঠি দিয়েছে বন্দরের অর্থ হিসাবরক্ষণ বিভাগ।

অভিযোগ উঠেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালন কার্যক্রম বৃদ্ধি পেতে থাকলেও প্রয়োজনীয় নিজস্ব দক্ষ অভিজ্ঞ লোকবল প্রস্তুত করতে পারেনি প্রযুক্তি বিভাগ। ফলে বন্দরের ছোটখাটো প্রযুক্তিনির্ভর কাজেও বেসরকারি আইটি ফার্মের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষকে।

২০১১ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে কম্পিউটারাইজড টার্মিনাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিটিএমএস) প্রকল্প চালু হয়। সিটিএমএস ব্যবহারে বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা পরিচালনায় আট বছরেও নিজস্ব দক্ষ অভিজ্ঞ লোকবল প্রস্তুত করতে পারেনি বন্দর।

সিটিএমএস বিষয়ে বন্দরের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনেই বলা হয়েছে, চিটাগং পোর্ট ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত সিটিএমএস প্রকল্পটি মূলত একটি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প। কারিগরি সহায়তা প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রধান উদ্দেশ্যই হলো কারিগরি জ্ঞান হস্তান্তর। প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত সিটিএমএসের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ বিদেশী কোম্পানি দ্বারা পরিচালনা করা হচ্ছে। অথচ প্রকল্পের উদ্দেশ্য অনুসারে চট্টগ্রাম বন্দরের আইটি সেকশন দ্বারা সিটিএমএসের সব কাজ সম্পাদিত হওয়ার কথা।

আবার সিটিএমএস বিষয়ে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত কমিটির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিটিএমএস প্রকল্প বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন পরিচালন কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতা রয়েছে। সিটিএমএস কার্যক্রমের আওতায় প্রধান কাজ জাহাজ থেকে খালাস, বোঝাই তার স্টোরেজ প্ল্যান, জাহাজ থেকে কনটেইনার ইয়ার্ডে হস্তান্তর, কনটেইনার ইয়ার্ড থেকে জাহাজে স্থানান্তর, বিলিং, কনটেইনার ট্র্যাকিং প্রভৃতি সম্পৃক্ত। এসব কাজে মন্ত্রণালয়, ট্রাফিক, নিরাপত্তা, মেরিন, হিসাব কম্পিউটার বিভাগের সম্পৃক্ততা থাকলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে। আইটিসংক্রান্ত কাজে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে অনভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেয়া চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা মনিটরিংয়ে ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) সচিব মো. ওমর ফারুক বণিক বার্তাকে বলেন, নিজস্ব প্রযুক্তি সক্ষমতা বৃদ্ধির ব্যাপারে বন্দর কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। বন্দরের স্বার্থেই এটা গুরুত্বপূর্ণ।

বন্দরকে সীমাবদ্ধতা ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া জরুরি বলে মনে করছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। তারা বলছেন, সরকার অনুমোদিত প্রকল্প দলিলে সিটিএমএস প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব জনবলকে প্রশিক্ষিত করে সিস্টেমটি পরিচালনা রক্ষণাবেক্ষণ করার কথা উল্লেখ আছে। সে অনুযায়ী প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে। এটা করা না গেলে প্রকল্পটির ব্যর্থতা বন্দরের ওপরই বর্তাবে।

বন্দর ব্যবহারকারী ফোরাম চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম বণিক বার্তাকে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার একটি নিজস্ব শক্তিশালী আইটি বিভাগ থাকবে। এটাই প্রত্যাশিত। সিটিএমএসসহ অন্যান্য প্রযুক্তি বিভাগে নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তোলার ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেয়া আছে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের নভেম্বরে সিটিএমএসের বহু প্রতীক্ষিত কার্যক্রম শুরু হয় প্রাথমিক পরিসরে। চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে ২০০৬ সালে সিটিএমএস প্রকল্প এডিবির অর্থায়নে নেয়া হয়। প্রকল্পটিতে ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ পায় সিঙ্গাপুরভিত্তিক মেসার্স এসটি ইলেকট্রনিকস। এতে দেশীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হলো ডাটাসফট। আর পরামর্শক হিসেবে কাজ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান নাথান অ্যাসোসিয়েটস।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন