মঙ্গলবার | অক্টোবর ২২, ২০১৯ | ৭ কার্তিক ১৪২৬

শেষ পাতা

১৫ মাসে প্রায় ২৯ লাখ বাংলাদেশীর ভারত ভ্রমণ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

ভারত ভ্রমণে অন্য যেকোনো দেশকে পেছনে ফেলেছে প্রতিবেশী বাংলাদেশ। ২০১৮ সালের শুরু থেকে পরবর্তী ১৫ মাসে ২৮ লাখ ৭৬ হাজার বাংলাদেশী ভারতে ভ্রমণ করেছে। একই সময়ে দেশটিতে ভ্রমণ করেছে প্রায় ১০ লাখ মার্কিন নাগরিক। ফলে এদিক থেকে বাংলাদেশের পরই রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে তথ্য জানা গেছে।

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত মোট কোটি ৩৭ লাখ ৩০ হাজার ২৮২ জন বিদেশী ভারত ভ্রমণ করেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশীর সংখ্যা ২৮ লাখ ৭৬ হাজার। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ লাখ ৬৩ হাজার ২৭৮, যুক্তরাজ্যের ১৩ লাখ ৬৯ হাজার ৫৪৮, কানাডার লাখ ৭৮ হাজার ২২৮, শ্রীলংকার লাখ ৫১ হাজার ৭৩৬, অস্ট্রেলিয়ার লাখ ৪৪ হাজার ৩৩, মালয়েশিয়ার লাখ ১১ হাজার ৫০, রাশিয়ার লাখ ৭৭ হাজার ৮৩, চীনের লাখ ৭৫ হাজার ৪৪৯ এবং জার্মানির লাখ ৬০ হাজার ৮৪৩ জন নাগরিক ভারত ভ্রমণ করে। ভারতে মোট বিদেশী পর্যটকের ৬৫ দশমিক ৬১ শতাংশ এসেছে ১০টি দেশ থেকে।

প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ভারত মোট হাজার ৯৮২ জন বিদেশী নাগরিককে ডিপোর্ট বা বিতাড়িত করেছে। তালিকায় বাংলাদেশীরাই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ, ৪৯১ জন। সবচেয়ে বেশি নাইজেরিয়ার ৮৪৭ জন নাগরিককে বিতাড়িত করেছে ভারত। এছাড়া সোমালিয়ার ১২৪ জন নাগরিককেও বিতাড়িত করা হয়েছে

ভারত ভ্রমণকারী বিদেশী নাগরিকের সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ শীর্ষ তালিকায় আসে ২০১৫ সালে। ওই বছর যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্য যথাক্রমে দ্বিতীয় তৃতীয় অবস্থানে ছিল। এর আগে ২০১৪ সালে ভারত ভ্রমণে বাংলাদেশীরা দ্বিতীয় এবং ২০১৩ ২০১২ সালে তৃতীয় অবস্থানে ছিল।

ভারত সম্প্রতি ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করায় আগের তুলনায় অনেক বেশি বাংলাদেশী দেশটি ভ্রমণ করছে। মূলত চিকিৎসাসেবা ব্যবসা-বাণিজ্যের কাজেই দেশটিতে বাংলাদেশীরা বেশি ভ্রমণ করছে। এছাড়া পড়াশোনা, বন্ধু বা আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করাসহ ভ্রমণের সব ক্যাটাগরিতেই ভারতে বাংলাদেশীদের যাতায়াত বাড়ছে। এর মধ্যে সব থেকে বেশি যাচ্ছে ভিজিটিং ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলি ক্যাটাগরির বাংলাদেশীরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত চারটি কারণে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ভ্রমণকারীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। প্রথমটি হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, দ্বিতীয়টি পর্যটন, তৃতীয়ত চিকিৎসা এবং চতুর্থ কারণটি হচ্ছে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা।

ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগের প্রায় সব মাধ্যমই ব্যবহার করতে পারেন ব্যবসায়ীরা। এতে পণ্য আমদানি-রফতানির খরচ সময় দুটোই কমে আসে। ফলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে দেশটিতে ব্যবসায়িক সফরও।

উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য চেন্নাই মেডিকেল ট্যুরিজমের কেন্দ্র হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে এখন। ফলে প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ দেশটিতে চিকিৎসাসেবা নিতে যাচ্ছে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অনেকেরই বন্ধু আত্মীয়-স্বজন রয়েছে। তাদের সঙ্গে দেখা করতে ভিজিটিং ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলি ক্যাটাগরিতে অনেক বাংলাদেশী ভারত সফর করে থাকে।

ভারতে বাংলাদেশীদের ভ্রমণ বাড়ার বিষয়ে ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) পরিচালক (ট্রেড অ্যান্ড ফেয়ার) তসলিম আমিন শোভন বণিক বার্তাকে বলেন, ভারত বাংলাদেশে এত বড় এবং এত বেশি ভিসা সেন্টার করেছে, যা বিশ্বের অন্য কোনো দেশে নেই। সেই সঙ্গে ভিসা আগের থেকে বেশ শিথিল হয়েছে। দুই দেশের রেল, বাস ফ্লাইটের সংখ্যা বেড়েছে। সেই সঙ্গে ভাড়া প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে। ফলে বাংলাদেশীরা এখন যেকোনো উৎসবের কেনা-কাটা করতে ভারত যাচ্ছে। এছাড়া চিকিৎসা খরচ পার্শ্ববর্তী অন্যান্য দেশের তুলনায় কম হওয়ায় ভারতে বাংলাদেশের পর্যটক বাড়ছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন