মঙ্গলবার | অক্টোবর ২২, ২০১৯ | ৭ কার্তিক ১৪২৬

পণ্যবাজার

বিরূপ আবহাওয়ায় কমতে পারে চালের বৈশ্বিক উৎপাদন

বণিক বার্তা ডেস্ক

চাল উৎপাদনকারী অনেক দেশে এখন বিরূপ আবহাওয়া বিরাজ করছে, যার প্রভাব পড়বে পণ্যটির উৎপাদনের ওপর। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বলছে, আবহাওয়ার কারণে চলতি উৎপাদন মৌসুমে বিশ্বব্যাপী চালের উৎপাদন ৩৮ লাখ টন কমে যেতে পারে। খবর নিউ টেলিগ্রাফ।

এফএও তাদের প্রাক্কলন প্রতিবেদনে বলছে, বিভিন্ন দেশের সরকার অভ্যন্তরীণ চাল উৎপাদন বাড়াতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু নাইজেরিয়া, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, ব্রাজিল, চীন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রসহ চাল উৎপাদনকারী এলাকাগুলোয় অতিরিক্ত বর্ষায় এ মৌসুমে উৎপাদন কমে দাঁড়াতে পারে ৫১ কোটি ৩৫ লাখ টনে। যেখানে আগের প্রাক্কলনে উৎপাদন ধরা হয়েছিল ৫১ কোটি ৭৩ লাখ টন। এর আগে গত মৌসুমে বিশ্বব্যাপী চালের উৎপাদন ছিল ৫১ কোটি ৭৮ লাখ টন, যা এ-যাবত্কালের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এফএও তাদের মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে বলছে, রাইস ফারমার অ্যাসোসিয়েশন অব নাইজেরিয়ার (আরআইএফএএন) অধীনস্থ উৎপাদকদের এ মৌসুমে চাল উৎপাদন কমে এক কোটি টনের নিচে আসতে পারে। এর মধ্যে অতিবৃষ্টিতে ৮৫ লাখ টন চাল উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যেখানে দেশটির বার্ষিক অভ্যন্তরীণ ব্যবহার ৭৫ লাখ টন।

জাতিসংঘের সংস্থাটি বলছে, চলতি বছরে ফিলিপাইন ও চীনে আবাদ কমেছে। ফলে চাল উৎপাদন কমে যাবে। জাতিসংঘের অ্যাডমিনিস্ট্রেটেড এগ্রিকালচার মার্কেট ইনফরমেশন সিস্টেম (এএমআইএস) বলছে, গ্রীষ্মকালীন ঝড়ের কারণে ফিলিপাইনে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে উৎপাদন নিয়ে এবার শঙ্কা রয়েছে।

তবে চালের উৎপাদন কমে গেলেও দামের ওপর তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না বলে অন্য একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে এফএও। সংস্থাটির মাসভিত্তিক মূল্যসূচক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও চালের দাম কম ছিল।

চালের দাম কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে সংস্থাটি বলছে, আমদানি চাহিদা কমে যাওয়ায় এবং ফিলিপাইন ও নাইজেরিয়া সরকারের পলিসিকে কেন্দ্র করে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়ায় এ সময় চালের দাম কম ছিল। এ সময় প্রতি টন চালের দাম ছিল ৪১৯ ডলার। এর বিপরীতে আরআইএফএএন প্রতি ব্যাগ (৫০ কেজি) চালের দাম নির্ধারণ করে ১৫ হাজার নায়রা (স্থানীয় মুদ্রা) সীমান্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটিতে এ সময় চালের দাম বাড়ে।

আরআইএফএএনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলহাজ মোহাম্মেদ মাইফাতা বলেন, নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে চাল বিক্রি করলে অ্যাসোসিয়েশন সেই মিলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে বাধ্য হবে।

নাইজেরিয়ায় খাদ্যপণ্যের তালিকায় চাল অন্যতম। অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে একটি বড় অংশ চাল আসত দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী দেশ বেনিন থেকে। অনিয়ন্ত্রিত পরিবেশে চোরাচালানের মাধ্যমে বেনিন নাইজেরিয়ায় চাল সরবরাহ করত। কিন্তু আগস্ট থেকে সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করে নাইজেরিয়া সরকার। এতে সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশটিতে এখন চালের বাজার চাঙ্গা রয়েছে।

থাইল্যান্ড থেকে চাল আমদানি করে সীমান্ত দিয়ে নাইজেরিয়ার ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করত বেনিন। কিন্তু সীমান্ত বন্ধ করে দেয়ায় সরবরাহ সংকটে চালের দাম বাড়তে থাকে।

নাইজেরিয়ার দুজন ব্যবসায়ী জানান, সীমান্ত বন্ধ করে দেয়ায় বেনিন থেকে এখন কেউ চাল আনতে পারছে না। এর বিপরীতে দেশেই চালের সংকট রয়েছে। ফলে চাইলেও কেউ সহজেই চাল কিনতে পারছে না। অন্য একজন জানিয়েছেন, সীমান্ত বন্ধ করে দেয়ার আগে যারা চাল আমদানি করেছিল, তারাও এখন বিক্রি বন্ধ করে মজুদ বাড়াচ্ছে। কারণ দেশটির স্থানীয় বাজারে চালের সংকট শুরু হয়েছে।

সীমান্ত বন্ধ করার আগে যেখানে এক ব্যাগ চাল ১৩ হাজার নায়রায় বিক্রি হয়েছে। সেখানে বর্তমানে প্রতি ব্যাগ চাল কিনতে হচ্ছে ১৭-২০ হাজার নায়রায়ে। ফলে এফএওর প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে নাইজেরিয়ার অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যাহত হলে নাইজেরিয়ায় চালের দাম আরো বাড়তে পারে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন