মঙ্গলবার | অক্টোবর ২২, ২০১৯ | ৭ কার্তিক ১৪২৬

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

উইঘুর নিপীড়ন সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ

২৮ চীনা প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের

বণিক বার্তা ডেস্ক

চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর নির্যাতনে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৮টি চীনা প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পদক্ষেপের কারণে চীনের প্রতিষ্ঠানগুলো এখন থেকে ওয়াশিংটনের অনুমোদন ছাড়া কোনো মার্কিন কোম্পানির পণ্য কিনতে পারবে না। খবর রয়টার্স বিবিসি।

মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ দাবি করেছে, চীনের ওই অঞ্চলে প্রতিষ্ঠান সংস্থাগুলো মানবাধিকার লঙ্ঘন নিপীড়নে জড়িত আর এজন্য ২৮টি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। বিভাগটি বলছে, ২৮টি প্রতিষ্ঠান চীনের দমন-পীড়ন নীতি, নির্বিচারে আটক এবং উইঘুর, কাজাখসহ দেশটির অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের ওপর অত্যাধুনিক প্রযুক্তির নজরদারিতে চীন সরকারকে সাহায্য করে।

তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জিনজিয়াং প্রদেশের জননিরাপত্তা ব্যুরোসহ মোট ২০টি সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। হিকভিশন, দাহুয়া টেকনোলজি, সেন্স টাইম, মেগভিল টেকনোলজিসহ বাকি আটটি প্রতিষ্ঠানের সবগুলোই ফেসিয়াল-রিকগনিশন প্রযুক্তিতে বিশ্বসেরা। এর মধ্যে হিকভিশন বিশ্বের অন্যতম বড় নজরদারি সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।

মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী উইলবার রস কালো তালিকাভুক্তের ঘোষণা দিয়ে বলেন, চীনের মধ্যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের ওপর যে নৃশংস অত্যাচার চলছে, তা যুক্তরাষ্ট্র মেনে নিতে পারে না বা কখনো মানবে না। বিষয়ে আজ বিস্তারিত তথ্য জানানোর কথা রয়েছে।

জিনজিয়াংয়ের বিভিন্ন আটক কেন্দ্রে বেইজিং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ উইঘুরদের ওপর তীব্র নিপীড়ন চালাচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে। বিভিন্ন আটক কেন্দ্রে প্রায় ১০ লাখ মুসলমানের ওপর বেইজিংয়ের নিপীড়ন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থাও। গত জুলাইয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে ২০টিরও বেশি দেশ উইঘুর অন্যান্য মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর চীনের নিপীড়নের সমালোচনা করে লেখা একটি যৌথ চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিল।

গত সপ্তাহে ভ্যাটিকানে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছিলেন, চীন চায় তার নাগরিকরা যেন ঈশ্বরের নয়, সরকারের আরাধনা করে।

তবে চীন শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তারা বলছে, এগুলো আটক কেন্দ্র নয়, এগুলো স্বেচ্ছা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র যেগুলো করা হয়েছে উগ্রবাদ মোকাবেলায়। চীন বলছে, উগ্রবাদ রুখতে এবং জনগোষ্ঠীকে চীনা ভাষা সংস্কৃতিতে শিক্ষিত করে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যেই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো চালানো হয়।

তিব্বতের মতো জিনজিয়াংও স্বায়ত্তশাসিত প্রদেশ। এখানকার অধিবাসীদের ৪৫ শতাংশই উইঘুর সম্প্রদায়ের, নৃতাত্ত্বিকভাবে যারা তার্কিশ মুসলিম। প্রদেশটির ৪০ শতাংশ অধিবাসী হান।

বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনীতি এক বছরের বেশি সময় ধরে বাণিজ্যযুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে, একে অপরের পণ্যের ওপর পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ করেছে। ২৮ সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত করায় দুই দেশের মধ্যে বিবাদ নতুন মাত্রা নিতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য, এর আগে চলতি বছরের মে মাসে চীনা টেলিকম জায়ান্ট হুয়াওয়েকেও কালো তালিকাভুক্ত করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ পদক্ষেপ যে চীনের প্রযুক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে স্বল্পমেয়াদে হলেও যে ক্ষতিগ্রস্ত করবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

সোমবার হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা বাণিজ্যযুদ্ধের ইতি টানতে অক্টোবর ১০ ১১ তারিখ ওয়াশিংটনে বৈঠকে বসবেন যুক্তরাষ্ট্র চীনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। চীনা প্রতিনিধি দলকে নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রিমিয়ার লিউ হি এবং মার্কিন প্রতিনিধি দলকে ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেনটেটিভ রবার্ট লাইটহাইজার অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মানিউচিন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বাণিজ্য বিবাদ নিরসন নিয়ে বৈঠকে বসার ঠিক আগমুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে প্রভাব ফেলবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন