মঙ্গলবার | অক্টোবর ২২, ২০১৯ | ৭ কার্তিক ১৪২৬

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

জাপানের সঙ্গে ‘চূড়ান্ত’ বাণিজ্য চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের

বণিক বার্তা ডেস্ক

জাপানের সঙ্গে সোমবার চূড়ান্ত বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০১৭ সালে বহুপক্ষীয় এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বাণিজ্য চুক্তি থেকে সরে আসায় ওই অঞ্চলের বিশাল বাজারে প্রবেশাধিকার হারিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকরা। চীনের সঙ্গে চলা দীর্ঘ বাণিজ্যযুদ্ধ এবং নতুন ফ্রন্টে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধের প্রভাব ঠেকাতে চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। খবর বিজনেস ইনসাইডার।

চুক্তি স্বাক্ষর শেষে রুজভেল্ট রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, আমি মনে করি জাপানের সঙ্গে আমাদের বর্তমান সম্পর্ক অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো। চুক্তিটি মার্কিন কৃষক খামারিদের জন্য অনেক উপকারী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করেন, চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৭০০ কোটি ডলারের কৃষিপণ্যে শুল্ক হ্রাস হবে। যেসব কৃষিপণ্য এতে সুবিধা পাবে সেগুলো হচ্ছে চিজ (পনির), ওয়াইন, গরুর মাংস, শূকরের মাংস, গম বাদাম। চুক্তির অংশ হিসেবে জাপানের শিল্পপণ্যে শুল্ক হ্রাস করবে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে সমালোচকরা বলছেন, এর আগে ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র যে সুবিধা পেত তার মাত্র আংশিক সুবিধাই ফেরত পেয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ২০১৭ সালে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম সপ্তাহেই টিপিপি থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণা দেন ট্রাম্প।

ডেলাওয়ারের ডেমোক্র্যাট সিনেটর টম কার্পার বলেন, রকম অল্প কিছু পাওয়ার জন্য কেন আমরা এত বড় চুক্তি থেকে সরে এলাম, তা আমার বোধগম্য নয়। ব্লুমবার্গ টিভিতে তিনি আরো প্রশ্ন তোলেন, এটা নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো রকম বিষয়? কিন্তু এর মাধ্যমে তো আমরা টিপিপির ধারেকাছেও যেতে পারিনি।

বর্তমান চুক্তিতে জাপানের গাড়ি শিল্পে বহাল শুল্কের প্রসঙ্গ আসেনি। গত বছর জাপানের গাড়ি পণ্যে শুল্কের হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বলেন, তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে ওই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে বিরত থাকা হবে কিন্তু চুক্তিতে সে বিষয়গুলো স্পষ্ট করা হয়নি।

চুক্তি সম্পন্নের পর এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি রবার্ট লাইটহাইজার বলেন, অবশ্যই গাড়িতে শুল্ক প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনার উচ্চাশা নিয়েই এসেছিল জাপান। কিন্তু মুহূর্তে এটা আমাদের চুক্তির অংশ নয়।

চীন অন্য বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে শুল্ক বিতর্কের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষোভ প্রশমনে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিল ট্রাম্প প্রশাসন। গত সপ্তাহে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) পৃথক এক সিদ্ধান্তে ইইউর কৃষিপণ্যসহ কয়েকশ আমদানি পণ্যে শুল্ক আরোপের সুযোগ পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

চীনের বাণিজ্যচর্চাকে অন্যায্য বলাতে ট্রাম্প অনেক সমর্থন পেয়েছেন। তবে সমালোচকরা সতর্ক করে বলেন, চীনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমেরিকার মিত্রদের সম্পৃক্ত করা উচিত। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেকে সেখান থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছেন। তিনি টিপিপির মতো চুক্তি থেকে বেরিয়ে এসেছেন এবং ইইউ অন্যান্য মিত্রদেশের ধাতব পণ্যে শুল্ক বাড়িয়েছেন। চীন ইইউর মতো বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্য উত্তেজনার ক্ষতি প্রশমনে ঘনিষ্ঠ মিত্র জাপানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিরোধ কিছুটা কমানোর প্রয়াসে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে বলে মনে করেন সমালোচকরা।

প্রাথমিক ভিত্তিতে গত আগস্টে উভয় পক্ষের মধ্যে চুক্তির ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। গত মাসে নিউইয়র্কে আয়োজিত জাতিসংঘ সাধারণ সভায় নীতিগতভাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করে যুক্তরাষ্ট্র জাপান। সোমবার উভয় পক্ষ চূড়ান্তভাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন