মঙ্গলবার | অক্টোবর ২২, ২০১৯ | ৭ কার্তিক ১৪২৬

দেশের খবর

ফেনীর পাঁচ সরকারি হাসপাতাল

জনবলের অভাবে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত এক্স-রে মেশিন

নুর উল্লাহ কায়সার ফেনী

 জনবল সংকটে ফেনীর তিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ পাঁচ সরকারি হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে রয়েছে দীর্ঘদিন এতে অযত্নে-অবহেলায় সরকারি সম্পদ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সেবাবঞ্চিত থেকে যাচ্ছে স্থানীয় দরিদ্র মানুষরা ফলে বেসরকারি রোগ নির্ণয় কেন্দ্র হাসপাতাল থেকে বাড়তি অর্থ ব্যয় করে চিকিৎসাসেবা নিতে বাধ্য হচ্ছে তারা একই সঙ্গে ব্যাপক দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে হাসপাতালগুলোয় চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের

সোনাগাজী দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে বিভাগ বন্ধ রয়েছে কয়েক বছর ধরে ফুলগাজীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও সেবা বন্ধ রয়েছে জনবলের অভাবে প্রকৃতপক্ষে জনবলের অভাবই এসব হাসপাতালে যথাযথ এক্স-রে সেবা দেয়ার পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায় গত বছরের শেষ দিকে এসব হাসপাতালে ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন দেয়া হলেও পরিচালনার লোক না থাকায় কার্যত সেগুলো অব্যবহূত পড়ে রয়েছে

ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. নিয়াতুজ্জামান জানান, ফেনীর পাঁচটি ক্লিনিকে নতুন করে এক্স-রে যন্ত্র দেয়া হয়েছে কিন্তু জনবল না থাকায় এগুলো স্থাপন সচল রাখা যাচ্ছে না ফলে রোগী স্বজনরা জেলা উপজেলা শহরের বিভিন্ন ক্লিনিক থেকে বাড়তি মূল্যে সেবা নিতে বাধ্য হচ্ছে

জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয়দের চিকিৎসা দিতে এখানে ফেনী জেনারেল হাসপাতাল ছাড়াও পাঁচ উপজেলায় স্থাপন করা হয়েছে পাঁচটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পাঁচটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মধ্যে এক্স-রে মেশিন সচল রয়েছে শুধু ছাগলনাইয়া পরশুরামে তাও হাসপাতাল দুটোয় টেকনিশিয়ান রয়েছেন মোটে দুজন বাকি তিন উপজেলায় তা চালু করা যায়নি যদিও গত বছরই এসব উপজেলায় নতুন ডিজিটাল এক্স-রে যন্ত্র দেয়া হয়েছে কিন্তু দেয়া হয়নি এগুলো পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান জনবল এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৈদ্যুতিক সমস্যা প্রয়োজনীয় কক্ষের অভাবও ফলে ছাগলনাইয়া ছাড়া অন্য সব উপজেলায় বাক্সবন্দি অবস্থাতেই রয়ে গেছে মূল্যবান এসব এক্স-রে যন্ত্র একই অবস্থা স্থানীয় বক্ষব্যাধি ক্লিনিক ট্রমা সেন্টারেরও

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রধান অফিস সহকারী আবদুল মান্নান জানান, গত ডিসেম্বরে ফেনীর ছয়টি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ছয়টি নতুন ডিজিটাল এক্স-রে যন্ত্র দেয়া হয়েছে এগুলোর মধ্যে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছাড়া বাকিরা এখনো তা স্থাপন করতে পারেনি প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ জনবল না থাকায় এসব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে এখনো এক্স-রে যন্ত্রগুলো স্থাপন করা যায়নি জেলায় বর্তমানে এক্স-রে টেকনিশিয়ানের পদ রয়েছে সাতটি এর মধ্যে ছাগলনাইয়া পরশুরামে কর্মরত দুজন ফুলগাজীর এক্স-রে বিভাগে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত টেকনিশিয়ান থাকলেও বর্তমানে তিনিও ঢাকার মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেপুটেশনে কর্মরত বাকি হাসপাতালগুলোর মধ্যে সোনাগাজী দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বক্ষব্যাধি ক্লিনিক এবং ট্রমা সেন্টারে এখনো টেকনিশিয়ান পদায়ন করা হয়নি ফলে অযত্নে-অব্যবহূত অবস্থায় অ্যানালগ ডিজিটাল এক্স-রে যন্ত্রগুলো এখনো অব্যবহূত পড়ে আছে

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের এক্স-রে টেকনিশিয়ান আক্তারুজ্জামান জানান, সরকারি হাসপাতালে প্রকারভেদে অ্যানালগ এক্স-রে করতে খরচ পড়ে সর্বনিম্ন ৫৫ টাকা আর ডিজিটাল এক্স-রে করতে নেয়া হয় ২০০ টাকা অন্যদিকে বেসরকারি ক্লিনিকে এক্স-রে করাতে খরচ পড়ে ২৫০-৩৫০ টাকা

ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, গত প্রায় তিন বছর থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে যন্ত্র দুটি পড়ে রয়েছে এক্স-রে বিভাগের মেডিকেল টেকনোলজিস্টকেও ঢাকার একটি হাসপাতালে প্রেষণে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে টেকনোলজিস্ট না থাকায় সবকিছু ঠিকঠাক থাকার পরও আগত রোগীদের এক্স-রে সুবিধা দিতে পারছি না

সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নুরুল আলম বলেন, গত ১০ বছর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে যন্ত্র দুটি নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে মেডিকেল টেকনোলজিস্টও নেই হাসপাতালে ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো কাজ হয়নি

একই অবস্থা দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেরও দাগনভূঞা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খালেদ মাহমুদ বলেন, এক্স-রে যন্ত্র দুটি দীর্ঘদিন নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে ২০১৩ সাল থেকে হাসপাতালে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নেই বিষয়ে বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও কার্যত কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি

একই অবস্থা ফেনীর ট্রমা সেন্টার বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের এসব ক্লিনিকেও এক্স-রে বিভাগ বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে

পরিস্থিতি মোকাবেলায় গৃহীত উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ফেনীর সিভিল সার্জন বলেন, বর্তমানে মুগদা হাসপাতালে ডেপুটেশনে কর্মরত ফুলগাজী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টেকনিশিয়ানকে ফেরত আনার চেষ্টা চলছে জেলায় আমাদের জনবল ঘাটতি রয়েছে ৫০ জনেরও বেশি বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে অনুমতি পেলেই আমরা নিয়োগ অথবা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নতুন জনবল কাজে লাগাতে পারব

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন