মঙ্গলবার | অক্টোবর ২২, ২০১৯ | ৭ কার্তিক ১৪২৬

টকিজ

রুপালি পর্দার বাইরে নুসরাত ফারিয়া যেমন...

ফিচার প্রতিবেদক

বছরজুড়েই কোনো না কোনো চলচ্চিত্র নিয়ে ব্যস্ত থাকা অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া। একের পর এক চলচ্চিত্রে জৌলুস ছড়িয়ে যাচ্ছেন ঝলমলে এ তারকা। অভিনয় জগতের বাইরে নুসরাত ফারিয়া কেমন, তা জানার আগ্রহ অনেকের। সে আগ্রহের কারণেই আজকের আয়োজনে ব্যক্তিগত অনেক বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন এ অভিনেত্রী

আলো ঝলমলে দুনিয়ার বাইরে অর্থা পরিবারের কাছে নুসরাত ফারিয়া যেমন

টেলিভিশনের পর্দায় যে আমাকে দেখা যায়, সে আমিই কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে ঠিক আলাদা। প্রচুর কথা বলা ও অনেক আড্ডাবাজি করতে ভালোবাসিমা-বাবার মেজো মেয়ে। মা-বাবা সবার কাছে যখন পরিচয় করিয়ে দেন তখন বলেন, আমার মেজো মেয়ে। আমার কাছে মনে হয়, এ পরিচয়টাই সবচেয়ে সুন্দর আমার জন্য। পরিবারের মানুষ কিংবা আত্মীয়রা আমাকে সেতু বলেই ডাকে। এটি আমার ডাকনাম। অন্যদিকে পরিবারঘেঁষা মেয়েও বলা যায়। কেননা সবচেয়ে বেশি সময় কাটাতে পছন্দ করি পরিবারের সবার সঙ্গে।

 

বলছিলেনমায়ের কাছে আমি জিরো’...

ছোট্ট একটা ঘটনা বলি, সম্প্রতি মায়ের সঙ্গে একটা ব্যাংকে গিয়েছিলাম। সেখানে ব্যাংকভর্তি লোকের সামনে আমাকে তিনি এমনভাবে ঝাড়া শুরু করলেন যে আমি মোটামুটি অপ্রস্তুত। কিন্তু তিনি নির্বিকার। মা চান আমি পড়াশোনা ঠিকঠাক শেষ করি। পড়াশোনা শেষ করার আগে আমি যতকিছুই করি না কেন, তার চোখে আমি কিছুই না। কাজের পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া একটু কঠিন আমার জন্য, তবু আমাকে শেষ করতেই হবে যেভাবেই হোক। সেটা যে বয়সে গিয়েই হোক না কেন।

অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যস্ততা থাকে অন্য অনেক কাজ নিয়েই। তবু যদি সময় মেলে, তাহলে বাড়িতে কোন কাজ করে আনন্দ পান অনেক?

আমার মেহমানদারি করতে ভালো লাগে। যদি এমন কোনো পেশা থাকত, তাহলে আমি হতাম চমত্কার মেহমানদার। এ কাজ করতে আমার এতটাই ভালো লাগে। যদি আমাদের বাড়িতে কোনো গেট টুগেদার থাকে, ৫০-৬০ জনের কোনো অনুষ্ঠান হলেও পুরো আয়োজনের দায়িত্ব পারলে আমি মাথায় তুলে নিই। আসলে এ কাজ করতে ভালো লাগে বলেই হয়তো এমনটা মনে হয়। যেহেতু আমি যৌথ পরিবারে বড় হয়েছি। হতে পারে এজন্যই বিষয়টি আমার মধ্যে রয়েছে। কোনো অনুষ্ঠান ছাড়াও আমাদের বাড়িতে সবসময় অনেক লোকজনের আনাগোনা থাকে। এটাতেই আমি অভ্যস্ত।

কখনো কি মনে হয় একা থাকা গেলে ভালো হতো?

এমনটা তো না-, বরং আমাদের বাড়িতে মেহমান না থাকলে খুব খারাপ লাগা কাজ করে। আমার কাছে বিষয়টা অনেকটা এমন যে বাড়িতে একা থাকাটাই ভয়ংকর ব্যাপার। বাড়িভর্তি অতিথি, এমন হয় আমার থাকার জায়গাই হয়তো নেই। তখন মা বলে দেবেন যাও ফ্লোরে বিছানা  করে শুয়ে পড়ো এবং আমিও কিন্তু ঘরের লক্ষ্মী মেয়ের মতো তাই করি। আমার অনেক বন্ধু নেই, ফলে পরিবারের সঙ্গেই সময় কাটাতে সবচেয়ে ভালোবাসি। বাড়িতে অনেক লোকের সমাগম থাকলে খুব আনন্দ হয়। মানুষের জীবনে একটা সময় তো একাই কাটাতে হয়। তাই বর্তমানের এ সময়টা পরিবারের সবার সঙ্গেই কাটাই।

 

নুসরাত ফারিয়ার কাছের বন্ধু যারা...

আমার খুব বন্ধু নেই। হাতেগোনা পাঁচজন বন্ধু আমার। স্কুলের বন্ধুদের মধ্যে আমাদের চারজনের একটা গ্রুপ রয়েছে। আমরা ফেসবুকে সারা দিনই গল্প করছি, আড্ডা দিচ্ছি। মাসে দুয়েকবার হলেও দেখা করছি সবাই মিলে। ওরা আসলে আমার নিঃশ্বাস নেয়ার জায়গা। পরিবারের বাইরে একমাত্র ওদের সঙ্গেই আমি স্বস্তি খুঁজে পাই।


 

যা ইচ্ছে হয়, তাই করেন।

আমি এখনো এমন যে আমার যদি রাস্তায় দাঁড়িয়ে আইসক্রিম খেতে ইচ্ছে হয়, আমি সেটাই করি। এসব ক্ষেত্রে কী করা উচিত, আর কী উচিত না, সেটা ভাবি না। কয়েক দিন আগের একটা ঘটনা বলি। আমার স্কুলের সামনে ছোট ছোট ফুচকা বিক্রি করে একজন। সে ফুচকা আমার ভীষণ প্রিয়। আমি সেদিন স্কুলের সামনের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠা তাকে দেখে মনে হলো এখনই খেতে হবে। সঙ্গে সঙ্গেই গাড়ি ঘুরিয়ে সেখানে হাজির। ইচ্ছেমতো ফুচকা খেয়ে তবেই ফিরেছি। ব্যক্তিগত জীবনে আমি সম্পূর্ণ আমার মতো করেই চলতে চাই। অনেক বিধিনিষেধ মেনে চলা কঠিন। এসব যদি করতে না পারি, তাহলে হয়তো একসময় দম বন্ধ হয়ে মরে যেতে পারি।

 

এবার কাজের কথায় আসি, ‘ভয়’-এর শুটিং কতটুকু হলো?

সবে ৩০ ভাগ শুটিং শেষ হয়েছে। আরো ১৪/১৫ দিনের শুটিং বাকি রয়েছে। এ মাসের শেষেই বাকিটার শুটিং শুরু হবে।

 

আসন্ন কাজ নিয়ে বলুন।

শুটিং বাকি রয়ে গেছেঢাকা ২০৪০ চলচ্চিত্রের কাজ। এটার ১০ দিনের মতো শুটিং বাকি রয়েছে। এটার কাজ শেষ হয়ে গেলেই নতুন একটি চলচ্চিত্রের কাজ শুরু হবে। ইফতেখার চৌধুরীর পরিচালনায় নতুন চলচ্চিত্র হবে সেটি। হয়তো নভেম্বরেই শুটিং শুরু হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন