মঙ্গলবার | ডিসেম্বর ১০, ২০১৯ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

খবর

নিজেদের সুপারিশে বন্ধ ফিলিং স্টেশন ফের চালুর সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

নিজস্ব প্রতিবেদক

নবম জাতীয় সংসদের সংসদ কমিটির সুপারিশে রাজধানীর আসাদ গেটসংলগ্ন তালুকদার ফিলিং স্টেশনটি বন্ধ করা হয়েছিল। একাদশ সংসদের একই কমিটি সেটি আবার চালুর সুপারিশ করেছে। গতকাল সংসদ কমিটির সভায় সংসদ ভবনসংলগ্ন ফিলিং স্টেশনটি চালুর সুপারিশ করা হয়। সংসদ সদস্যদের আবাসন, নিরাপত্তা, অফিস বরাদ্দসহ বিভিন্ন বিষয় তদারকি করে সংসদ কমিটি।

সংসদ সচিবালয়সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারের কেপিআইভুক্ত (কি পয়েন্ট ইনস্টলেশন) স্থাপনার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে নবম জাতীয় সংসদের তত্কালীনসংসদ কমিটিতালুকদার ফিলিং স্টেশন বন্ধের সুপারিশ করেছিল। তখন ওই কমিটির সভাপতি ছিলেন তত্কালীন প্রধান হুইপ আব্দুস শহীদ। পরে সংসদ এলাকারনিরাপত্তার হুমকিস্বরূপ স্টেশনকে বন্ধ করার ব্যবস্থা নিতে সংসদ সচিবালয় থেকে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে চিঠি দেয়া হয়। ২০০৯ সালের আগস্ট তালুকদার ফিলিং স্টেশন এক মাসের মধ্যে সরিয়ে নিতে নোটিস দেয় গণপূর্ত অধিদপ্তর। ওই বছরের ১৭ আগস্ট ফিলিং স্টেশনের মালিক আমেনা বেগম ওই নোটিসের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট করেন। পরে ২০১০ সালের ২২ জুলাই হাইকোর্ট ডিভিশনের একটি দ্বৈত বেঞ্চ ফিলিং স্টেশন বন্ধে সরকারের নোটিস বৈধ বলে রায় দেন। একই সঙ্গে আদালত আমেনা বেগমের রিট খারিজ করে দেন। এর দুদিন পর ২৪ জুলাই ফিলিং স্টেশনটি বন্ধ করে দেয় গণপূর্ত অধিদপ্তর। তখন থেকে এটি বন্ধ রয়েছে।

বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা ওই ফিলিং স্টেশনটি চালু করার ব্যবস্থা নিতে বলেছি। এর থেকে যে আয় হবে, তার অর্ধেক নেবে পার্লামেন্ট মেম্বারস ক্লাব। বাকিটা সরকারের কোষাগারে যাবে।

বৈঠকে উপস্থিত একটি সূত্র জানিয়েছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফিলিং স্টেশনটি চালু করতে বর্তমানে আইনি কোনো বাধা নেই। সংসদ সচিবালয়সহ কয়েকশ সংসদ সদস্যের গাড়ির জ্বালানি অনেক দূর থেকে আনতে হচ্ছে। কমিটি মনে করছে ফিলিং স্টেশনটি চালু হলে জ্বালানি তেল কেনার প্রক্রিয়া সহজ হবে। সংসদ সচিবালয় সংসদ সদস্যরা উপকৃত হবেন।

সংসদ সচিবালয়ের রক্ষণাবেক্ষণে নিয়োজিত গণপূর্ত শাখার এক কর্মকর্তা জানান, তালুকদার ফিলিং স্টেশন যখন চালু ছিল, তখন জমির মালিক গণপূর্ত বিভাগ মেম্বারস ক্লাব এর আয়ের একটি অংশ পেত।

এদিকে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে সংসদে কর্মরত কর্মচারীদের আবাসন সমস্যা সমাধানে গণপূর্ত বিভাগের মিরপুরে নির্মিত ভবন সংসদের কাছে হস্তাস্তরের ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়। এছাড়া আগারগাঁও এলাকায় আরো দুটো ভবন নির্মাণের সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে সংসদ এলাকা থেকে সকাল ৮টার আগে ময়লা অপসারণে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে সিটি করপোরেশনকে সংসদ ভবন এলাকা থেকে সব ধরনের কুকুর আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সরিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনেডগ হোমনির্মাণ করে কুকুর স্থানান্তর করতে বলেছে কমিটি।

কমিটির সভাপতি প্রধান হুইপ নূর--আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য এবি তাজুল ইসলাম, ফজলে হোসেন বাদশা, কাজী ফিরোজ রশীদ হুইপ মাহবুব আরা বেগম গিনি অংশ নেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন