বৃহস্পতিবার | নভেম্বর ১৪, ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

খবর

চলতি বছর শিশু যৌন নির্যাতন আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে ২০১৮ সালের তুলনায় চলতি বছর শিশু ধর্ষণ নিপীড়নের মাত্রা ৫৩ শতাংশ বেড়েছে। গত বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৭১৬ জন শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আর চলতি বছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে হাজার ৯২ জনে। সব মিলিয়ে সময়ে সারা দেশে হাজার ৪২৯ শিশু নিপীড়নের শিকার হয়েছে।

বিশ্ব শিশু দিবস শিশু অধিকার সপ্তাহ-২০১৯ উপলক্ষে গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন চিত্র তুলে ধরে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম (বিএসএএফ)শিশু অধিকার বর্তমান পরিস্থিতিশীর্ষক অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে অ্যাকশন ফর সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট (এএসডি) বিএসএএফ।

২০১৮ ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদ পর্যালোচনার বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সময়ে শিশু হত্যা, ধর্ষণ শিশু গৃহকর্মীর ওপর অত্যাচার বেড়েছে। বিশেষ করে ধর্ষণের ঘটনা বাড়ার চিত্র উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এই ছয় মাসে মোট ৪৯৬ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে, যা ২০১৮ সালে (১২ মাস) ছিল ৫৭১ জন। অর্থাৎ গত এক বছরের তুলনায় বছরের প্রথম ছয় মাসেই দেশে শিশু ধর্ষণ বেড়েছে ৪১ শতাংশ।

সময় নির্যাতনের শিকার হওয়া মোট হাজার ৩০০ শিশুর মধ্যে ১২০ জন যৌন হয়রানি, ১৯২ জন অপহরণ নিখোঁজ, ১৯৪ জন পানিতে ডুবে মারা গেছে। যদিও পানিতে ডুবে মৃত্যু পর্নোগ্রাফির শিকার শিশুদের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় বছর কিছুটা কমেছে। এর মধ্যে পর্নোগ্রাফির শিকার শিশুদের সংখ্যা গত বছর ছিল ২১৩ জন, যা বছর কমে দাঁড়িয়েছে ১৪তে।

এদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) কর্তৃক পরিচালিত ২০১৩ সালের জাতীয় শিশুশ্রম জরিপ তুলে ধরে জানানো হয়, পাঁচ-সাত বছর বয়সী কর্মজীবী শিশুর সংখ্যা দশমিক ৪৫ মিলিয়ন। এর মধ্যে দশমিক ১০ মিলিয়ন ছেলে শিশু দশমিক ৩৫ মিলিয়ন মেয়ে শিশু। ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত শিশুর সংখ্যা দশমিক ২৮ মিলিয়ন। দেশে লাখ ২০ হাজার শিশু গৃহকাজে জড়িত। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের তথ্য তুলে ধরে আয়োজক প্রতিষ্ঠান দুটি বলছে, ২০১৫ সালে পথশিশুর সংখ্যা ছিল প্রায় ১৫ লাখ।

এএসডির নির্বাহী পরিচালক জামিল এইচ চৌধুরী প্রসঙ্গে বলেন, ক্রমাগত উদ্বেগজনক হারে শিশু নিপীড়নের হার বেড়ে চলেছে। নিয়ে আলোচনা সভা পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তা সত্ত্বেও শিশু নিপীড়ন থামানোর বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। এছাড়া পথশিশুদের পুনর্বাসন শিশুশ্রম বন্ধের বিষয়ে সরকার ঘোষণা দিলেও তা এখনো কার্যকর হয়নি।

শিশু যৌন নির্যাতন প্রসঙ্গে বিএসএএফের পরিচালক আবদুছ সহিদ মাহমুদ বলেন, শিশু যৌন নির্যাতন নিয়ে প্রচলিত আইন থাকলেও তা কার্যত অকার্যকর। দীর্ঘসূত্রতার কারণে দরিদ্র অভিভাবকদের পক্ষে যেমন আইনি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না, তেমনি আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে অপরাধীরাও ছাড় পেয়ে যায়। অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় না বলেই একের পর এক ঘটনা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। এজন্য শিশু ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানাই।

তিনি আরো জানান, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অপরাধীরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের চাপে পড়ে নির্যাতিতরা পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয়। এজন্য যথার্থ উপায়ে সমস্যা সমাধানের জন্য মহিলা শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সরকারের অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধনের আহ্বান জানাই।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন